লাল লিপস্টিকটা একটু বেশি ঘষে নিয়ে চোখে মাস্কারাটা বেশ খানিকটা টেনে কাধে একটা ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়ল রাজশ্রী,
এই সবে অনেক সময় চলে গেছে, তাই একটা ট্যাক্সিতে উঠল...নাহলে ঠিক সময় পৌছানো যাবে না...অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যাবে।
হাওড়া স্টেশন এ নেমে পড়িমড়ি করে দৌড় শোভন এর বাস স্টপেজে পৌছে তাড়াতাড়ি বাসে উঠে বসল...না হলে আজকে লেট হতো কিন্তু মিদুলদাকে কথা দেওয়া আছে ....বাসটা ভাল চলছে আর লেট হবে না ।
দমদম স্টেশনে নেমে চক্ররেল এর গেট পেরিয়ে তাড়াতাড়ি মেট্রো স্টেশনের দিকে ছুটল মিহির.. না হলে লেট আর তাতে অনুষ্ঠান শেষ বা শেষের দিকে, তিন মিনিটের মধ্যে একটা মেট্রো পেয়ে গেল...না আর লেট হবে না ।
আর এদিকে অভিষেক চলেছে নিজের মত কোনও তাড়াই তার নেই...সবসময় কেমন যেন বিন্দাস গোছের, শ্যামবাজার থেকে একটা ফাকা বাসে চেপে সে দিব্যি পৌছে গেল নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম এ গদ্য মেলার বাত্সরিক সভায় ...নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই,
গিয়ে দেখে সেখানে যথারীতি সেখানে রাজশ্রী, শোভন ও মিহির দাড়িয়ে, সে সব থেকে লেট করেছে, এতদিন সোসাল নেটওয়ার্কিং সাইট এ আলাপ, কথা হতো ...
আজ সামনাসামনী দেখা...প্রত্যেকেই বেশ রোমাঞ্চিত ,
এমনিতে ডার্ক শেড পছন্দ করে রাজশ্রী.. আর আজকে সে ভীষণই মোহময়ি, বাকি তিন জনের মধ্যে যথারীতি প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে ...কে তার পাশে বসবে, যাই হোক যথারীতি ঠিক সময়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেল.... একে একে সবাই তার নতুন লেখা পড়তে লাগলো ... শোভন, মিহির ও রাজশ্রীর সময় তুমুল হাততালি পড়তে লাগলো...সবাই সাধুবাদ জানালো প্রত্যেকে অসাধারণ সব লিখেছে,
এবার পালা অভিষেক এর...বেচারা ঘেমে অস্থির, এরকম হবে সে কখনো ভাবেনি, যাই হোক কিছু পুরানো লেখা পড়তে লাগলো....যারা লেখাটা আগে পড়েছে তারা মুখ টিপে হাসতে লাগলো, তবু তার বন্ধুরা তাকে সাধুবাদ দিলো, আরও কিছু লেখা আড্ডা নতুন পরিকল্পনা ও মিদুলদার এবং মিহির এর গান দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হলো...মিহির অসম্ভব ভাল গান গাই, কোরাস এ সবাই গাইল,
এর পর থেকে রাজশ্রী,শোভন ও মিহির এবং অভিষেক সবাই খুব কাছের বন্ধু হয়ে গেছে , প্রায়ই আড্ডা চলে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ও শহরের বাইরে শহর পেরিয়ে ।
দেখতে দেখতে ৫ বছর কেটে গেল....প্রত্যেকে আজ সুপ্রতিষ্ট ও বিখ্যাত, মিহির যথারীতি খুব বিখ্যাত গায়ক হয়ে গেছে... তার দল মনপাখি নিয়ে দেশ বিদেশে প্রচুর পারফর্ম করে, শোভন এখন প্রেসিডেন্সির সহ উপাচার্য পদে আসিন, আর রাজশ্রী সেতো সব ভাষাতেই খুব তুখোড় ছিল...আর কয়েকটা উপন্যাস লিখে সে এত বিখ্যাত যে তার এখন দম ফেলার সময় নেই...আজ এদেশ তো কাল বিদেশ তবু তারা এখনো গদ্য মেলার সদস্য আর গদ্য মেলা এখন এক বিশাল মহীরুহ... দেশ বিদেশের অনামি আনকোরা লেখকের পাশে সে এক নির্ভরযোগ্য ভরসা,
সবাই আছে তবু 'অভিষেক' এর খোজ কেউ জানে না,
আজ খুব খুশি রাজশ্রী, New York এর Carnegie Hall এ opera দিয়ে তার লেখা উপন্যাস..'SEVEN WOLVES IN CITY OF LOVE' এর প্রকাশ করবে Macmillan Publishing Co. ,
কলকাতায় ফিরে গিয়ে সে লেখাটা গদ্যমেলায় প্রকাশ করবে।
এক সুবিশাল ও সুসজ্জিত লিমো করে চলেছে সে... তার সমানে মনে পড়ছে ফেলে আসা সময়ের কথা, তার বন্ধুদের কথা... মনে পড়ছে তাদের বানানো কিছু গান, কিছু লাইন...
' এই জীবনে আর নাইবা হল দেখা
আর জীবনে হব তোর সখা...'
কিন্তু শেষ লাইনটা কী, বারবারই বলছে কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারছে না ,
লিমোটার ড্রাইভার এর মুখে হাসির ঝিলিক, সে মনে মনে জুড়ল...বাকি সেইসব লাইন
' চোখের দেখা হলই বা শেষ ...
আমার কথা বলবে আমারই এই লেখা,
আছি আমরা সদা এই ছাতার তলায়...
লিখব সর্বদা এই গদ্য মেলায় '
কিন্তু মুখে কিছু বলল না, সে তো বরাবরই একটু খামখেয়ালী, পাগল গোছের... ওই অভিষেক ।
on Friday, March 22, 2013 at 11:45pm
Comments (14)