
বইমেলা এলেই বাঙালির মনে যেন নেমে আসে এক নবান্নের আনন্দ। নতূন বইয়ের মৌ মৌ গন্ধে তৃষনার্ত পাঠককের হৃদয় যেন ছুঁয়ে যায়। যদি হয় একটি পাঠক বান্ধব বই- যেখানে পাঠক খুঁজে পাবে তাদের প্রিয় চরিত্রটি কিংবা যেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ঝাপিয়ে পড়বে দেশ অথবা বিশ্ব সেবায়। যে বই শানিত করবে পাঠকের মগজকে। বাড়িয়ে দিবে তাঁর উদ্ভাবনী শক্তিকে। আর সৃষ্টিশীল করে তুলবে প্রতিটি স্তরের নাগরিককে। কিন্তু প্রশ্ন হল এমন মানদন্ডের ভিত্তিতে কি বই মেলায় বই প্রকাশ করা হয়? আমি এক কথায়ই এর উর উত্তর দিতে পারি যে সেটা হল না। আমাদের বই মেলায় বই প্রকাশের একমাত্র মানদন্ড হল প্রকাশক। অর্থাৎ প্রকাশক যদি মনে করেন যে এ বইটি তিনি ছাপবেনই তাহলে সেটাই সঠিক। যদিও এর কোন মানদন্ডই নেই। আবার প্রকাশক যদি মনে করেন যে এটি তিনি ছাপবেন না তাহলে সেটাই সঠিক। এর মানে গিয়ে দাড়াল ভালো মানের একটি নতুন বই মেলাতে নাও আসতে পারে, আবার যে কোন মানদন্ডের ভিত্তিতে অবিবেচিত একটি বই মেলাতে আসতে পারে শুধু একজন প্রকাশকের ইচ্ছাতেই। এই দিক থেকে বই বলা যায় যে এই অবস্থা চলতে থাকলে বই মেলা একসময় শুধুমাত্র প্রকাশক কেন্দিক হয়ে পড়বে। আশা করছি আমার এ্ ধারনা যেন সত্যি না হয় কারণ তাহলে যে এই বই মেলাও পুজিবাদীদের হাতে চলে যাবে আর তাতে সৃষ্টিশীল লেখকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তেমনি তৃষনার্ত পাঠকরা বইবিমুখ হবেন। ফলশ্রুতিতে বইমেলা হারাবে তার নান্দনিকতা। এবারের বইমেলার চিত্রই যদি তুরে ধরা হয় তাহলে দেখা যাবে যে- প্রচুর অভাব রয়েছে শিশু-কিশোরদের জন্য ভালমানের বইয়ের, যদিও আপনি নানা রঙে সাজানো অনেক বই-ই আপনি দেখতে পাবেন। অভাব ধর্ম ও নৈতিকতা বোধে উদ্ভুদ্ধ করনের উপর বইগুলোর, যা শিশু-কিশোরদের ভাল নাগরিক হতে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে। আবার সাইন্স ফিকশনগুলি আমাদের কিছু শেখার পরিবর্তে রোবটমানব হবার ইচ্ছা যোগাচ্ছে। গল্প আর নাটক থেকে কিছু শেখার পরিবর্তে যেন শুধু সাময়িক হাসির যোগান দিচ্ছে। রাজনীতির শিক্ষার উপর নেই ভালমানের কোন বই, যা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সু-নাগরিক এবং ভাল মানের নেতা হতে সহায়তা করবে। এই অবস্থার প্রেক্ষিতে যে কোন বই প্রকাশ করা হোক অন্তত কিছু মানদন্ডের উপরে, আর প্রকাশকদের অধিপত্য থেকে রেহাই পাক বই মেলা, এই প্রত্যাশা.....
Comments (10)