বাদলের ধারা মানেই তো প্রফুল্ল মন। টিনের চালার বৃষ্টির শব্দ মানেই তো আনন্দে আন্দোলিত হওয়া মন। বর্ষার একটানা বৃষ্টি মানেই তো কর্দমাক্ত পথ আর সারাদিন ঘর থেকে বের না হওয়ার সময়। বর্ষার সে সংজ্ঞাটা হারিয়ে যাওয়ার পথে। এখন আর সে রকম একটানা বৃষ্টি হয় না। আষাঢ়-শ্রাবণ দু'মাস বর্ষাকাল ধরা হলেও একসময় বর্ষার স্থায়ীত্ব থাকত প্রায় ছয় মাসের মত। চৈত্রের খরতাপের অধ্যায় শেষ হলেই ঈশান কোণের কালো মেঘ দেখেই বোঝা যেত কালৈবশাখীর আগমনী বার্তা। শুরু হল বর্ষার অধ্যায়।

শিল্পীর তুলিতে আঁকা বর্ষার চিত্র:(১)


চৈত্রের খরতাপের পর কালবৈশাখীর ঝড়ে যেমন আম কুড়ানোর দলের অভাব থাকত না তেমনি ঈশান কোণে ডাকা মেঘের গুড়ুম-গুড়ুম শব্দে মাটির নিচের কিংবা ডোবা, নালা, পুকুর থেকে শুকনো মাঠে উঠে আসা কৈ মাছ কুড়ানোর দলেও অভাব থাকত না। অনুসন্ধিৎসু চোখগুলি কেবল খুজে বেড়াত- প্রান্তরে, মাঠে আর ময়দানে।


মেঘের গর্জনে কৈ-মাছের উপরে উঠে বয়ে চলার চিত্র:(২)



বর্ষা মানেই কর্দমাক্ত ও জলমগ্ন পথ-ঘাট। তবু থেমে নেই জীবন আর জীবিকা নির্বাহ। ধানের ক্ষেত, নৌকা, ভিজে একাকার দেহ এসবই যেন গ্রামবাংলার বর্ষার প্রতিচ্ছবি। যেমনটা উঠে এসেছে রবীন্দ্রনাথের ''সোনার তরী'' কবিতায়ও-


বর্ষায় গ্রামবাংলার  চিত্র:(৩)


একটানা বর্ষনে শহরবাসীর অবস্থাও কম ভোগান্তীপুর্ণ হয় না। ব্যাহত হয় নাগরিক ও মানবিক জীবন। সবচেয়ে বেশী ভোগান্তি হয় খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানূষগুলোর।

বর্ষায় শহরবাসীর  চিত্র:(৪)


একটানা বর্ষনে অন্ধকারাচ্ছন্ন দিনের বুকে এক ফালি হাসির ঝিরিক বয়ে আনে বর্ষার কদম ফুল। পুরো বর্ষার পরিপূর্ণতাই যেন ওর মাঝে।

বর্ষায় কদম ফুল ফুটে থাকার  চিত্র:(৪)


বর্ষার একটানা বর্ষনে প্লাবিত থাকে হাওরাঞ্চল। এ সময় চাঁদের সাথে হেসে-হেসে কথা বলে বিল-ঝিলের শাপলা ফুলেরা।

প্লাবিত হাওরাঞ্চরের দৃশ্য-চিত্র:(৫)


শাপলা ফুল চিত্র:(৬)


বর্ষা মানেই রবি ঠাকুরের কবিতার লাইন-
''ঐ ডাকে শোন ধেনু ঘন ঘন
ধবলীরে আন গোহালে''

অথবা-

''গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা'' ইত্যাদি, ইত্যাদি.....

বর্ষা মানেই বৃষ্টির গান, আষাঢ়ের কবিতা। বর্ষা মানেই নব চেতনা, হাজার বছরের ক্লান্তি দূর করার একটি সময়। বর্ষা মানেই বাংলা মায়ের উর্বরতা বাড়ানো। নদীর উপচে পড়া ঢেউ, মেঘে ঢাকা আকাশ, অন্ধকাচ্ছন্ন দিন, সবুজের হাতছানি আর একটি নব উম্নাদনা।

DHAKA, BD: [email protected]