এস.এস.সি পরিক্ষার পরে বিভা তখন ইন্টারের ছাত্রী। ওর স্পষ্ট মনে আছে ওর মা তখনই ওর বিয়ের প্রস্তুতি হিসেবে এটা বানাচ্ছে, ওটা কিনছে, গয়নার ডিজাইন বাছাই করছে, ওর পছন্দের সবুজ আর ফিরোজিয়া আঁচলের লাল পেরে শাড়ি কিনছে কিন্তু ওর মাকে এসব করতে দেখে ওর বড্ড রাগ হত, বিয়ের কথা তখন ও একদমই শুনতে পারত না। ও ভাবত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে তার পরই বিয়ে। কিন্তু সেই বিভাই বিশ্বিবদ্যালয়ে পা রাখেত না রাখতেই সাজিদের ভালবাসার আহবানে পরিবারের সবার মতামতকে উপেক্ষা করে একদিন ওরা চুপি চুপি বিয়ে সেরে ফেলে। আলমারি থেকে চুরি করে ওর জন্য মায়ের কেনা ওর পছন্দের একটা লাল পেরে শাড়ি আর দুইটা বালা পড়েছিল। সেদিনের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সাজিদ তার জীবনের সবকিছু ওকে উৎসর্গ করে দিয়েছি আর বিভা সেও নিজেকে উজার করে তিলে তিলে গড়ে তুলেছিল তাদের ছোট্ট রাজ্যটাকে। অফিস থেকে ফিরে এসেও সংসার আর স্টাডিতে নিয়মিত মন দিত বিভা। কিন্তু এতটা ত্যাগ আর দীর্ঘ পাঁচ বছরের সংসারজীবন অতিবাহিত হওয়ার পর সাজিদ যখন ওকে ডিভোর্স লেটারে সই করতে বলল, বিভার তখন ওর মায়ের সেই স্মৃতিগুলো মনে পড়তে লাগল- কিভাবে একটু একটু করে ওর জীবনটা সাজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল ওর মা। বিভা ভাবে- ''আসলে একমাত্র মা-বাবাই সন্তানদের জীবনের প্রতিটি মুহুর্তের জন্য প্রতিটি সঠিক সিদ্ধান্ত নেন''। আজ লজ্জায় ও পরিবারের কাউকে মুখ দেখাতে পারছে না ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে সবার উৎফুল্ল মনকে। তাই এখন ওর মায়ের কথা মনে পড়লেই বিভা ওর মায়ের কেনা সেই লাল পেরে শাড়িটা পরে আর সেটার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে ভাবে সত্যিই এই পৃথিবীতে মায়ের মমতার একটা স্বান্তনার রং খুজে পেয়েছি কিন্তু জীবনের বেদনার কোন রং না থাকলেো সেটা মনোজৎকে প্রলয়ের মত ধ্বংস করে। আবেগের এ্যাপার্টমেন্টে বসে বিভা অনেক কিছু ভাবে, জলে দু'চোখ ভিজে আছে বিভার। আজই ও একটা সরকারী চাকিরর প্রজ্ঞাপন পেয়েছে। ভেজা চোখে প্রজ্ঞাপনটি হাতে বিভা দূর পানে তাকিয়ে আছে। মরুর যাযাবরের মত সবকিছু আজ ওর কাছে মরিচকার মত মনে হয়।

****** All right reserved *****
Comments (14)