প্রত্যেক মানুষের বুকের ভেতর
একটি বন্ধ দরজা থাকে-
বাইরে যার নাম হাসি,
ভেতরে যার আসবাবপত্র সবই দীর্ঘশ্বাস।

সবারই মন আছে;
কিন্তু মন কখনো নিজের ঠিকানা প্রকাশ করে না।
কেউ তার ক্ষতকে ভাঁজ করে
জামার ভেতরের পকেটে রেখে দেয়,
কেউ প্রতিদিন মুখে পরে থাকে
অক্ষত থাকার মুখোশ।

সবারই চোখ আছে;
কিন্তু সব চোখের জল
চোখের পাতায় জন্মায় না।
কিছু অশ্রু শিরায় শিরায় ঘুরে বেড়ায়,
কিছু নেমে যায় কণ্ঠের নিচে-
সেখানে শব্দগুলো পাথর হয়ে থাকে।

তাই ভেবো না,
যে কাঁদছে, শুধু তারই দুঃখ আছে;
যে হাসছে, সে-ই সবচেয়ে নিরাপদ।

অনেক মানুষ
নিজের ভাঙাচোরা দিনগুলোকে
সযত্নে ইস্ত্রি করে পরে নেয়,
যেন কেউ বুঝতে না পারে-

তার ভেতরের দেয়ালগুলো
অনেক আগেই ধসে পড়েছে।

এই পৃথিবীতে
সবচেয়ে ভারী বোঝার নাম হয়তো নীরবতা;
যে তা বহন করে,
সে পথ চলতে চলতেই
অন্যদের জন্য জায়গা করে দেয়।

তাই মানুষের দিকে তাকিও
রায়ের চোখে নয়,
মমতার আলোয়-
কারণ প্রতিটি মুখের অন্তরালে
একটি অদেখা উপাখ্যান নিঃশব্দে
নিজেকেই পাঠ করে যায়।