বহুদিন হয়ে গেল—
আমাদের আর কোনো যোগাযোগ নেই।

কেমন আছো,
কী করছো,
দিনগুলো কেমন কাটছে তোমার—
এসব জানার অধিকারটুকুও যেন
কোনো এক অদৃশ্য নিয়মে হারিয়ে ফেলেছি।

অথচ মনে আছে?
একদিন কতটা বিশ্বাস নিয়ে বলেছিলাম—
মৃত্যু ছাড়া আমরা কখনো আলাদা হবো না।

কথা ছিল,
মৃত্যু ছাড়া আমাদের মাঝখানে
কোনো দূরত্ব তৈরি হবে না।
সময় যতই কঠিন হোক,
পৃথিবী যতই বদলে যাক,
আমরা অন্তত একে অপরের পাশে থাকব।

কিন্তু জীবন বোধহয়
সব প্রতিশ্রুতির মানে বোঝে না।

আজ পেছনে ফিরে তাকালে
কেমন অদ্ভুত লাগে—
আমাদের মৃত্যু হয়নি,
তবুও আমরা আলাদা হয়ে গেছি।

আমরা দুজনেই বেঁচে আছি,
শ্বাস নিচ্ছি,
নিজ নিজ জীবনে ব্যস্ত হয়ে আছি,
তবুও আমাদের মাঝখানে
এমন এক দূরত্ব তৈরি হয়েছে,
যেখানে আর কোনো কথাই পৌঁছায় না।

কখনো কখনো খুব ইচ্ছে করে
হঠাৎ তোমাকে একটা বার্তা লিখি—

কেমন আছো?

তারপর আবার থেমে যাই।
ভাবি, এই প্রশ্ন করার অধিকারটুকু
বোধহয় অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছি।

তবুও জানো,
কিছু মানুষকে জীবন থেকে হারিয়ে ফেললেও
মন থেকে হারানো যায় না।

তুমি নেই আমার প্রতিদিনের কথায়,
নেই অপেক্ষার তালিকায়,
নেই কোনো অভ্যাসের মতো পাশে—
তবুও দিনের কোনো এক নির্জন মুহূর্তে
তোমার কথা মনে পড়ে যায়।

তখন মনে হয়,
মানুষ আসলে কখনো কখনো
মরে না গিয়েও হারিয়ে যায়।

কেউ পৃথিবী থেকে চলে যায় না,
শুধু আমাদের পৃথিবী থেকে
চুপচাপ সরে যায়।

আর সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার কী জানো?

তোমার সঙ্গে আমার শেষ বিদায়টাও হয়নি।
কোনো শেষ কথা হয়নি,
কোনো শেষ দেখা হয়নি—
শুধু একদিন কথা কমে গেল,
তারপর একসময়
কথা বলাটাই বন্ধ হয়ে গেল।

আমাদের মৃত্যু হয়নি,
তবুও আমরা আলাদা।

আমাদের হৃদয় হয়তো এখনও বেঁচে আছে,
তবুও আমাদের মাঝের সেই সম্পর্কটা
কোথায় যেন নিঃশব্দে মারা গেছে।