তুমি চাইলে আমি কি না দিতে পারি!
এনে দিতে পারি একখণ্ড খোলা আকাশ,
একটি পুরোনো মফস্বল শহরের নির্জন ব্যালকনি,
আর এক কাপ চায়ের ধোঁয়ায় মিশিয়ে দিতে পারি
আমাদের না-বলা গল্পগুলো।
যুদ্ধের বাজার থেকে ছিনিয়ে আনতে পারি
একটি অক্ষত হৃদয়,
যেখানে কোনো ক্ষত নেই, কোনো অভিমান নেই—
আছে শুধু তোমার জন্য জমিয়ে রাখা ভালোবাসা।
একটি কাঁচা পাণ্ডুলিপির নাম দিতে পারি পৃথিবী,
তোমার হাতে তুলে দিতে পারি
বাগানের সবচেয়ে পবিত্র ফুলের মতো বিশুদ্ধ অনুভূতি।
অথচ তুমি চাইলে তোমায় মুক্তিও দিতে পারি।
উড়ে যেয়ো তুলোর মতো সাদা মেঘের দেশে,
খুঁজে নিয়ো অন্য কোনো আকাশ, অন্য কোনো নক্ষত্র।
তোমার পথের পাশে কোনো কাঁটাতার থাকবে না,
আমার অভিমানও তোমার ডানায় বাধা হবে না।
শুধু সাবধানে যেয়ো, প্রিয়—
যেন টের না পায় কোনো প্রজাপতি,
যেন কেঁপে না ওঠে বাগানের শেষ ফুলটি।
এই সর্বহারা হৃদয়ের পৃথিবীতে
তুমিই তো একমাত্র ফুল।
অন্য কারও চোখে তুমি পূর্ণিমার চাঁদ হয়ে থেকো,
তার কবিতার প্রতিটি উপমায় নিজেকে খুঁজে নিয়ো।
তবু কোনো এক বিষণ্ন রাতে
ভালোবাসার ভারে যদি ক্লান্ত হয়ে পড়ো,
আমায় ডেকো—
আমি তখনো সেই পুরোনো ব্যালকনিতে
দখিনা হাওয়ার সঙ্গে তোমার স্মৃতি ভাগ করে নেব।
আমি জানি, তোমার সবই আছে—
নিজস্ব আকাশ, পৃথিবী, স্বপ্নের অসংখ্য রং।
তোমায় দেওয়ার মতো আমার কোনো রাজপ্রাসাদ নেই,
নেই দামি উপহার কিংবা ঐশ্বর্যের আয়োজন।
শুধু বুকের গভীরে জমিয়ে রাখা
একটুকরো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আছে।
তাই একদিন তোমার দরজায় রেখে যাব
কপর্দকশূন্য এক প্রেমিকের উপহার—
একটি ছোট্ট ঘাসফুল।
তুমি চাইলে হাতে তুলে নিয়ো,
না চাইলে নীরবে ফেলে দিয়ো।
কোনো অভিযোগ থাকবে না।
শুধু মনে রেখো,
সব ফুল বাগানে ফোটে না,
কিছু ফুল ফোটে মানুষের হৃদয়ের গভীরে।
আর সব ভালোবাসা পাওয়ার জন্য জন্মায় না—
কিছু ভালোবাসা শুধু দিয়ে যাওয়ার জন্যই বেঁচে থাকে।
তুমি আমার হও কিংবা না হও,
তোমার জন্য এই হৃদয়ে বসন্ত থেকে যাবে।

Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.