এই বর্ষায় চিঠি দিও, নবনীতা।

তোমার কাঁপা হাতের অক্ষরে,
একটু অভিমান, একটুখানি মায়া,
আর বুকের গভীরে জমে থাকা
কিছু না-বলা কথার ভাঁজ খুলে
যদি পাঠিয়ে দাও আমার ঠিকানায়—

আমি এক নিঃসঙ্গ বিকেলে
জানালার পাশে বসে চিঠিটা খুলব।
বাইরে তখন বৃষ্টি নামবে,
আর প্রতিটি শব্দে খুঁজে নেব
তোমার আঙুলের কোমল স্পর্শ।

জানো নবনীতা,
আজকাল বৃষ্টি হলেই তোমার কথা মনে পড়ে।
জানালার কাচ বেয়ে নেমে আসা জলরেখাগুলো
কেমন যেন তোমার স্মৃতির মতো—
নীরবে ঝরে পড়ে,
অথচ ভেতরটা ভিজিয়ে দিয়ে যায়।

ভেবেছিলাম, কিছু অনুভূতি
কখনো শব্দ হয়ে ওঠে না।
কিছু ভালোবাসা থেকে যায়
চোখের পাতায়, দীর্ঘশ্বাসে,
কিংবা গভীর রাতে বালিশের পাশে।

অথচ এই বর্ষা আমাকে শিখিয়েছে—
না-বলা কথারও শব্দ থাকে,
নীরবতারও নিজস্ব ভাষা আছে।
শুধু শোনার মতো একটি হৃদয় চাই।

আজ এই ভেজা আকাশটাকে
কেন জানি তোমার মতো মনে হয়—
একটু ধূসর, ভীষণ কোমল,
অথচ কী গভীর এক মায়ায় ঘেরা!

তোমার নীরবতা,
তোমার আড়াল করে রাখা অভিমান,
আর বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখা
সেই অপ্রকাশিত ভালোবাসাগুলো—
আজ বৃষ্টির শব্দে
কেমন যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তাই বলছি, নবনীতা—
এই বর্ষায় চিঠি দিও।

খুব বেশি কিছু লিখতে হবে না।
শুধু লিখো—
কেমন আছো?

তারপর হয়তো দু-একটি সাধারণ কথা,
কিছু বৃষ্টির গল্প,
আর শেষে লিখে দিও—
ভালো থেকো।

বিশ্বাস করো,
তোমার ওই দুটো শব্দের আড়ালেও
আমি অনেক না-বলা কথা পড়ে নেব।

হয়তো চিঠির শেষে তোমার নাম থাকবে,
কিন্তু আমার সমস্ত অপেক্ষা জুড়ে
থেকে যাবে শুধু তুমি।

নবনীতা,
এই বর্ষায় একটিবার চিঠি দিও—
কারণ পৃথিবীর সব বৃষ্টি
মনের তৃষ্ণা মেটাতে পারে না।

কিছু অপেক্ষা আজও বেঁচে থাকে
একটি চিঠির আশায়,
আর কিছু মানুষ—
সারাজীবন অপেক্ষা করে যায়
প্রিয় মানুষের কয়েকটি শব্দের জন্য।