গত ৯ তারিখ ছিল দাদুর(নানা) মৃত্যুবার্ষিকী। প্রতিবছর এইদিনে মামার বাড়িতে কিছু ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়, সাথে থাকে আড়াই থেকে তিনহাজার মানুষের খাবার আয়োজন। এবছরও হল, তবে অনেকটা গোপনে, ঘরের ভিতর ছোট পরিসরে। দুই থেকে তিনশ মানুষের আয়োজন করা হয়েছিল, তাও ভয়ে ভয়ে। না, এবার মাইকও আনা হয়নি, যদি জানাজানি হয়ে যায়। ভয় আর উৎকন্ঠায় কেটেছিল সারাটাদিন।

ভয়ে হলেও এই পরিবারটি সেদিন হয়ত নিরাপদে থাকতে পেরেছিল। কিন্তু স্বাধীন এই দেশের মাটিতে সেদিনও গৃহহীন হতে হয়েছে এমন অনেক পরিবারকে। প্রতিনিয়তই এভাবে ঘর পুড়ছে এমন অনেক পরিবারের। ভয়ে-আতঙ্কে প্রতিদিনই শতবছরের ভীটে ছেড়ে পালাতে হচ্ছে এমন অনেক পরিবারকে। কারণ এরা "সংখ্যালঘু".

বরাবরের মত এবারও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলী এই মানুষগুলো। তাদের এবারের অপরাধ, এরা ভোট দিতে গিয়েছিল। তার পরিনামে ভোটের দিন(৫ই জানুয়ারী) থেকেই পুড়ছে "সংখ্যালঘু" পল্লীগুলো।

গতকাল একটা রিপোর্ট পড়ছিলাম, 'দেশে স্বাধীনতার সময় থেকেই আশঙ্কাজনক হারে "সংখ্যালঘু" মানুষগুলোর সংখ্যা কমছে'. এখন এই সংখ্যাটা ৯ ভাগেরও কম। এই ৪২বছরে বিলুপ্তীর কিনারায় দাড়ানো "সংখ্যালঘু"রা 'কোথায় গেল, কেন গেল' তা জানার বুঝার জন্য অনেক জ্ঞানের প্রয়োজন হয়না। কিন্তু এই ৪২ বছরে সরকার এদের জন্য কি করেছে? দেশে এই পর্যন্ত "সংখ্যালঘু" নির্যাতনের কয়টা শাস্তি হয়েছে??

এভাবে চলতে থাকলে আর হয়ত খুব বেশিদিন নেই, যেদিন "সংখ্যালঘু" নামক এই প্রানীটাকে বিলুপ্তীর হাত থেকে বাচানোর জন্য সরকার কে 'সাফারী পার্ক' করার কথা ভাবতে হবে যাতে খাচার ভিতর এরা যেন নিরাপদ থাকতে পারে।