জোয়ারের পানিতে লেখা শিক্ষা
মোঃ বুলবুল হোসেন
সুন্দরবনের ভেতর সকাল নামে অন্য রকম করে। এখানে সূর্য ওঠার আগেই নদীর বুক জেগে ওঠে। গাছের পাতায় রাতের শিশির। কাদামাটির গন্ধ আর দূরে কোথাও পাখির ডাক মিলেমিশে এক অদ্ভুত শান্তি তৈরি করে। নদীর পানি তখন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। জোয়ারের টানে ছোট ছোট খাল ভরে ওঠে। গোলপাতা, গরান, সুন্দরী আর কেওড়া গাছের ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো যখন মাটিতে এসে পড়ে তখন মনে হয় সুন্দরবন যেন নিজের হাতে দিনের দরজা খুলে দিয়েছে।
সেই সুন্দরবনের এক ছোট্ট গ্রামের নাম ছিল চরবন। গ্রামের এক পাশে নদী। অন্য পাশে ঘন বন। গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ মাছ ধরে। কেউ মধু সংগ্রহ করে। কেউ কাঁকড়া ধরে। আবার কেউ নদীর পাড়ে ছোটখাটো চাষ করে সংসার চালায়। তাদের জীবন ছিল নদীর জোয়ার ভাটার মতো। কখনো হাসি। কখনো দুশ্চিন্তা। কখনো ভালো দিন। কখনো খালি হাতে ঘরে ফেরা। তবু তারা সুন্দরবনকে ভালোবাসত। কারণ এই বনই ছিল তাদের মা। এই নদীই ছিল তাদের পথ। এই মাটিই ছিল তাদের বেঁচে থাকার ভরসা।
এই গ্রামেরই বাসিন্দা ছিল রহিম। বয়স খুব বেশি নয়। কিন্তু জীবনের কষ্ট তাকে তার বয়সের চেয়ে অনেক বড় করে দিয়েছিল। ছোটবেলায় তার বাবা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। কেউ বলেছিল ঝড় উঠেছিল। কেউ বলেছিল নৌকা উল্টে গিয়েছিল। কেউ জানত না আসলে কী হয়েছিল। রহিম শুধু জানত তার বাবা একদিন নৌকা নিয়ে নদীতে গিয়েছিল। তারপর আর ঘরে ফেরেনি।
বাবা হারানোর পর রহিমের মা আমেনা বেগম অনেক কষ্টে তাকে বড় করেছিলেন। ছেলের মুখে দুটো ভাত তুলে দিতে তিনি কখনো অন্যের বাড়িতে কাজ করেছেন। কখনো জাল মেরামত করেছেন। কখনো নদীর ধারে কাঁকড়া কুড়িয়েছেন। রহিম বড় হয়ে মায়ের কষ্ট কমাতে চেয়েছিল। কিন্তু যতই চেষ্টা করত ততই মনে হতো ভাগ্য যেন তার সামনে নতুন নতুন বাধা এনে দাঁড় করাচ্ছে।
এক বছর নদীতে মাছ কম হলো। পরের বছর ঝড়ে তাদের ঘরের চাল উড়ে গেল। তার পরের বছর নদীর পানি বেড়ে উঠল এত বেশি যে গ্রামের অনেক ঘর পানিতে ডুবে গেল। রহিমের মনে তখন একটা প্রশ্ন ঘুরত। কেন কারো জীবন এত সহজ আর কারো জীবন এত কঠিন?
একদিন বিকেলে রহিম নদীর পাড়ে বসে ছিল। তার পাশে বসেছিলেন গ্রামের বৃদ্ধ করিম চাচা। তিনি বহু বছর ধরে সুন্দরবনে মাছ ধরেছেন। বনের কোন খালে কখন পানি বাড়ে। কোন সময় কোথায় মাছ পাওয়া যায়। কোথায় কুমির থাকে। কোন পথে বাঘের চলাচল। এসব তিনি চোখ বন্ধ করেও বলতে পারতেন।
করিম চাচা রহিমের মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন। কী হয়েছে রে? এত চুপ করে বসে আছিস কেন?
রহিম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল। চাচা। মনে হয় আল্লাহ আমাকে ভুলে গেছেন।
করিম চাচা কিছুক্ষণ চুপ করে নদীর দিকে তাকিয়ে থাকলেন। তারপর বললেন। এ কথা আর কখনো বলিস না। আল্লাহ কাউকে ভুলে যান না। শুধু আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি না তিনি কেন আমাদের জীবনে কী ঘটাচ্ছেন।
রহিম বলল। কিন্তু আমি যত চেষ্টা করি ততই বিপদ আসে। অন্যদের দেখি ভালো আছে। আমার জীবনেই কেন এত কষ্ট?
করিম চাচা হেসে বললেন। তুই কি কখনো দেখেছিস একই পানি দিয়ে ডিম আর আলু একসঙ্গে সিদ্ধ করতে?
রহিম অবাক হয়ে বলল। হ্যাঁ দেখেছি।
করিম চাচা বললেন। কাঁচা ডিম পানিতে সিদ্ধ করলে কী হয়?
রহিম বলল। শক্ত হয়।
করিম চাচা আবার বললেন। আর আলু?
রহিম বলল। নরম হয়ে যায়।
করিম চাচা নদীর পানির দিকে তাকিয়ে বললেন। পানি তো একই। আগুনও একই। কিন্তু ফল আলাদা। কারণ ভেতরের জিনিস আলাদা। মানুষের জীবনও তেমন। একই বিপদ একজনকে ভেঙে দেয়। আবার অন্যজনকে শক্ত করে। একই কষ্ট কারো চোখে পানি আনে। আবার কারো মনে সাহস তৈরি করে। সৃষ্টিকর্তা জানেন কাকে কোন সময় কী দান করতে হয়। তাই তুই তাঁর ওপর ভরসা রাখ।
রহিম সেদিন কথাটা পুরোপুরি বুঝতে পারেনি। কিন্তু কথাগুলো তার মনে গেঁথে গেল।
কয়েকদিন পর গ্রামের কয়েকজন জেলে সুন্দরবনের ভেতরে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিল। রহিমও তাদের সঙ্গে যেতে চাইল। করিম চাচা তাকে সাবধান করে বললেন। বনে গেলে শুধু নদী আর মাছ দেখলে হবে না। বনকে সম্মান করতে হবে। এখানে আমরা অতিথি। একটু ভুল করলেই বিপদ।
রহিম মাথা নাড়ল। নৌকা ছাড়ল ভোরে। নদীর পানি তখন শান্ত। দুই পাশে সুন্দরবনের গাছপালা। কোথাও গরানের শেকড় পানির ওপর উঠে আছে। কোথাও সুন্দরী গাছের সারি। কোথাও কেওড়ার ডালে পাখি বসে আছে। দূরে একটা মাছরাঙা পানিতে ঝাঁপ দিয়ে ছোট মাছ তুলে নিয়ে উড়ে গেল।
রহিমের মন ভালো হয়ে গেল। সে ভাবল এত সুন্দর একটা জায়গায় থেকেও মানুষ কীভাবে এত দুঃখী হতে পারে?
নৌকা যত ভেতরে গেল ততই বন ঘন হতে লাগল। নদীর দুই পাশের গাছ যেন একে অপরের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। কোথাও সূর্যের আলো ঠিকমতো মাটিতে পৌঁছায় না। হঠাৎ করিম চাচা হাত তুলে সবাইকে চুপ করতে বললেন।
নৌকা থেমে গেল।
দূরের কাদার ওপর বড় বড় পায়ের ছাপ দেখা গেল।
করিম চাচা নিচু গলায় বললেন। বাঘ গেছে এই পথ দিয়ে।
রহিমের বুক ধড়ফড় করতে লাগল। এতদিন গল্পে বাঘের কথা শুনেছে। কিন্তু এত কাছে তার চিহ্ন কখনো দেখেনি। সবাই নীরবে নৌকায় বসে রইল। কিছুক্ষণ পর তারা অন্য খালের দিকে চলে গেল।
সেদিন ভালোই মাছ পাওয়া গেল। ফেরার পথে হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে এল। বাতাস বেড়ে গেল। নদীর পানি অস্থির হয়ে উঠল। করিম চাচা বুঝতে পারলেন ঝড় আসছে।
তিনি চিৎকার করে বললেন। সবাই জাল গুটিয়ে নাও। নৌকা শক্ত করে ধরো।
কয়েক মিনিটের মধ্যে চারদিক অন্ধকার হয়ে গেল। বৃষ্টি শুরু হলো। নদীর ঢেউ নৌকায় আছড়ে পড়তে লাগল। রহিম নৌকার দড়ি ধরে বসে রইল। তার মনে তখন শুধু মায়ের কথা।
একটা বড় ঢেউ এসে নৌকাকে এমনভাবে দুলিয়ে দিল যে রহিম প্রায় নদীতে পড়ে যাচ্ছিল। করিম চাচা তাকে ধরে ফেললেন।
তিনি বললেন। ভয় পাস না। শক্ত হয়ে থাক।
রহিম চোখ বন্ধ করে বলল। আল্লাহ আমাদের বাঁচান।
অনেকক্ষণ পর ঝড় একটু কমল। সবাই ক্লান্ত। নৌকার কিছু অংশ ভেঙে গেছে। কিন্তু তারা বেঁচে আছে।
করিম চাচা বললেন। দেখলি? মানুষ কত ছোট আর এই নদী কত বড়।
রহিম চুপ করে রইল।
সেই রাতেই তারা গ্রামে ফিরল। কিন্তু গ্রামে ফিরে নতুন বিপদ দেখতে পেল। জোয়ারের পানি বেড়ে গিয়ে গ্রামের নিচু অংশ ডুবিয়ে দিয়েছে। অনেক ঘরে পানি ঢুকেছে। কারো চাল ভেসে গেছে। কারো ঘরের বেড়া ভেঙে গেছে।
রহিম নিজের ঘরের দিকে ছুটে গেল। দেখল তাদের ঘরের এক পাশ ভেঙে পড়েছে। মা কোনোমতে উঁচু মাচার ওপর বসে আছেন।
রহিম মাকে জড়িয়ে ধরে বলল। মা তুমি ঠিক আছো?
আমেনা বেগম বললেন। আলহামদুলিল্লাহ। আমি ঠিক আছি। তুই ফিরেছিস। এটাই বড় কথা।
পরের কয়েকদিন গ্রামের মানুষের খুব কষ্ট গেল। খাবার কমে গেল। পানির সমস্যা হলো। অনেকেই ঘর মেরামত করতে পারছিল না। তখন রহিম বুঝল শুধু নিজের ঘর ঠিক করলে হবে না। গ্রামের সবাইকে নিয়ে কিছু করতে হবে।
সে করিম চাচার সঙ্গে কথা বলল। তারা কয়েকজন যুবককে নিয়ে বাঁধের দুর্বল অংশ মেরামত করতে শুরু করল। কেউ বাঁশ আনল। কেউ মাটি কাটল। কেউ খাবার নিয়ে এল। গ্রামের নারীরাও বসে থাকলেন না। তারা রান্না করে সবার জন্য খাবার তৈরি করলেন।
সেই সময় রহিমের ভেতরে একটা পরিবর্তন হলো। যে ছেলে কিছুদিন আগেও ভাবত তার জীবনে শুধু কষ্ট সেই ছেলে এখন অন্যের কষ্ট দেখলে পাশে দাঁড়াতে শুরু করল।
একদিন গ্রামের এক বৃদ্ধা বললেন। বাবা রহিম। তুই না থাকলে আমাদের ঘরটা ভেসে যেত।
রহিম হেসে বলল। আমি একা কিছু করিনি খালা। সবাই মিলে করেছি।
করিম চাচা পাশে দাঁড়িয়ে বললেন। এই তো মানুষ হওয়া।
দিন যেতে লাগল। সুন্দরবনের জীবন আবার স্বাভাবিক হলো। জোয়ার এলো। ভাটা গেল। নদী তার পুরোনো ছন্দ ফিরে পেল। পাখিরা আবার ডাকতে শুরু করল। জেলেরা আবার নদীতে যেতে লাগল।
কিন্তু রহিমের মনে তখন নতুন একটা স্বপ্ন জন্ম নিয়েছে। সে চেয়েছিল গ্রামের ছেলেমেয়েরা শুধু নদী আর বনের ওপর নির্ভর করে না থাকুক। তারা পড়াশোনা করুক। সুন্দরবনকে চিনুক। বনের নিয়ম জানুক এবং প্রকৃতিকে রক্ষা করুক।
সে গ্রামের পুরোনো একটি ঘর পরিষ্কার করে সেখানে শিশুদের পড়ানোর ব্যবস্থা করল। গ্রামের কয়েকজন শিক্ষিত যুবককে নিয়ে সপ্তাহে কয়েকদিন পড়ানো শুরু হলো। কেউ বাংলা পড়ায়। কেউ গণিত। কেউ পরিবেশের কথা বলে। রহিম নিজেও যতটুকু জানে ততটুকু শেখায়।
একদিন এক ছোট ছেলে তাকে জিজ্ঞেস করল। ভাইয়া। সুন্দরবনে বাঘ মানুষকে ভয় পায়?
রহিম বলল। বাঘও এই বনের বাসিন্দা। আমরা যেমন আমাদের ঘরকে ভালোবাসি বাঘও তার বনকে ভালোবাসে। তাই আমাদের বনে গেলে সাবধানে থাকতে হবে। বনের নিয়ম মানতে হবে।
ছেলেটি আবার বলল। আমরা কি সুন্দরবনকে বাঁচাতে পারব?
রহিম হাসল। একজন মানুষ একা হয়তো পারবে না। কিন্তু সবাই মিলে চাইলে অবশ্যই পারব।
বছর দুয়েক পর আবার বড় একটি ঝড়ের খবর এলো। গ্রামের সবাই আগের অভিজ্ঞতা থেকে প্রস্তুত হতে শুরু করল। রহিম এবার গ্রামের তরুণদের নিয়ে আগে থেকেই মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করল। বৃদ্ধ, শিশু আর অসুস্থ মানুষদের আগে পাঠানো হলো। নৌকাগুলো নিরাপদ স্থানে রাখা হলো। শুকনো খাবার, পানি আর দরকারি জিনিস মজুত করা হলো।
ঝড় এল। প্রচণ্ড বাতাস হলো। নদী ফুলে উঠল। কিন্তু এবার গ্রামের মানুষ প্রস্তুত ছিল। অনেক ক্ষতি হলেও আগের মতো প্রাণহানি হলো না।
ঝড়ের পর করিম চাচা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে বললেন। রহিম। মনে আছে তুই একদিন বলেছিলি আল্লাহ তোকে ভুলে গেছেন?
রহিম মাথা নিচু করে হাসল।
করিম চাচা বললেন। এখন কী মনে হয়?
রহিম নদীর দিকে তাকিয়ে বলল। এখন বুঝি তখন আমি শুধু কষ্টটাই দেখেছিলাম। তার ভেতরের শিক্ষা দেখিনি।
করিম চাচা বললেন। কী শিখলি?
রহিম একটু ভেবে বলল। শিখেছি সব কষ্ট শাস্তি নয়। কিছু কষ্ট মানুষকে বদলে দেয়। কিছু দরজা বন্ধ হয় যাতে অন্য দরজা খুলতে পারে। আর সময়ের আগে কিছু পাওয়া যেমন ভালো নয় তেমনি দেরিতে পাওয়াও সব সময় খারাপ নয়।
করিম চাচা মৃদু হেসে বললেন। এই কথাটাই মনে রাখিস।
সেদিন সন্ধ্যায় রহিম একা নদীর পাড়ে বসেছিল। পশ্চিম আকাশে সূর্য ডুবে যাচ্ছিল। পানির ওপর লাল আলো পড়েছে। সুন্দরবনের গাছগুলো কালো ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে আছে। দূরে একটি পাখি নিজের বাসায় ফিরে যাচ্ছে। নদীর স্রোত ধীরে ধীরে বয়ে যাচ্ছে।
রহিমের মনে পড়ল করিম চাচার সেই কথা। একই পানি কাঁচা ডিমকে শক্ত করে আবার আলুকে নরম করে।
সে বুঝতে পারল জীবনের সব ঘটনা সবার জন্য একই ফল নিয়ে আসে না। কারো জীবনে যে বিপদ আসে সেটাই হয়তো তাকে নতুন পথ দেখায়। কারো দুঃখ তাকে মানুষের কষ্ট বুঝতে শেখায়। কারো হারানো তাকে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি দেয়। আবার কারো অপেক্ষা তাকে ধৈর্য শেখায়।
সুন্দরবনও যেন তাকে সেই শিক্ষা দিয়েছে। জোয়ার এলে নদী বাড়ে। ভাটা এলে আবার কমে যায়। ঝড় আসে। গাছ ভাঙে। ঘর ভাঙে। মানুষ কাঁদে। কিন্তু কিছুদিন পর আবার নতুন পাতা গজায়। কাদার ভেতর থেকেও নতুন জীবন জন্ম নেয়। নদীর পাড় ভাঙে। আবার কোথাও নতুন চর জেগে ওঠে।
রহিম তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে ধীরে বলল। হে আল্লাহ। তুমি জানো আমাদের জন্য কী দরকার। আমরা সব সময় বুঝতে পারি না। তাই আমাদের ধৈর্য দাও। সঠিক পথে থাকার শক্তি দাও এবং তোমার ওপর ভরসা রাখার মন দাও।
তারপর সে বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করল।
পেছনে সুন্দরবন তখন অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে। কিন্তু সেই অন্ধকারের মাঝেও কোথাও কোথাও জোনাকির আলো জ্বলছে। রহিমের মনে হলো মানুষের জীবনও এমন। সব সময় দিনের মতো আলো থাকে না। কখনো অন্ধকার নামে। কখনো পথ হারিয়ে যায়। কখনো মনে হয় আর কোনো রাস্তা নেই। কিন্তু কোথাও না কোথাও ছোট্ট একটা আলো জ্বলে থাকে।
সেই আলো হয়তো একজন মানুষের ভালো কথা। কারো সাহায্যের হাত। মায়ের দোয়া। বন্ধুর সাহস কিংবা নিজের ভেতরের বিশ্বাস।
আর সবচেয়ে বড় কথা সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা।
কারণ তিনি জানেন কোন মানুষকে কখন শক্ত হতে হবে। কখন নরম হতে হবে। কখন অপেক্ষা করতে হবে আর কখন নতুন পথে হাঁটতে হবে।
যেমন একই পানি কাঁচা ডিমকে শক্ত করে আবার আলুকে নরম করে তেমনি জীবনের একই কষ্ট একজনকে ভেঙে দিতে পারে আবার অন্য একজনকে গড়ে তুলতে পারে। তাই কষ্ট এলেই ভেঙে পড়তে নেই। নিজের কাজ করে যেতে হয়। মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয় এবং সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রাখতে হয়।
সুন্দরবনের নদী যেমন থেমে থাকে না জীবনও থেমে থাকে না।
জোয়ার আসবে। ভাটা যাবে।
ঝড় আসবে। আবার আকাশ পরিষ্কার হবে।
আজ যে পথ বন্ধ মনে হচ্ছে কাল হয়তো সেখানেই নতুন পথ খুলে যাবে।
তাই যত কঠিন সময়ই আসুক আশা ছেড়ে দেওয়া যাবে না।

Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.