যৌনতা ছাড়া প্রেম হয় না—
কবির সামনে নিজেকে সতী দেখাইও না।
কবিরা শুধু কবিতা লেখে না,
মানুষের মন লেখে, শরীর লেখে,
আনন্দ-বিরহের গোপন কথাগুলো লেখে।
তুমি যৌনতা ছাড়া যাকে প্রেম বলে ডাকো,
বড়জোর তাকে ভালোবাসা বলতে পারো।
প্রেমের সঙ্গে যৌনতার সম্পর্ক
সাগরের জোয়ারের সঙ্গে চাঁদের মতো—
হয়তো সকল যৌনতায় প্রেম থাকে না,
কিন্তু সকল প্রেমে যৌনতা থাকে।
আকর্ষণ থাকে, পাওয়ার প্রত্যাশা থাকে,
না-পাওয়ার গ্লানি থাকে, দেহের মিলন থাকে,
মনের টান থাকে আর থাকে একটু ভালোবাসা।
অথচ ভালোবাসার জন্য যৌনতার প্রয়োজন পড়ে না। যৌনতা ছাড়াও ভালোবাসা বেঁচে থাকে—
দিনের পর দিন, দূরত্বের পর দূরত্ব পেরিয়ে,
কখনো সচল, কখনো নীরব, কখনো অমর হয়ে।
ধরো, তুমি যাকে কোনো দিন দেখোনি,
যার কাছে কোনো দিন পৌঁছাতে পারবে না,
দূর থেকে বুকের ভেতর মায়া জমে।
ধরো, দেখে শরীরে কোনো শিহরণ জাগে না,
স্পর্শ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকে না,
কিন্তু অনুভব করো- তার ভালো থাকা
তোমার নিজের ভালো থাকার মতোই জরুরি।
চোখ বন্ধ করে বলা যায়— এটা ভালোবাসা, প্রেম নয়।
এ ভালোবাসা মা-সন্তানে হয়, বাবা-ছেলেতে হয়,
ভাইয়ে-ভাইয়ে কিংবা ভাইয়ে-বোনে হয়।
অথবা হয় দূর শহরের অচেনা আপন কারো সঙ্গে।
এখানে শরীরের দাবি নেই, অথচ মনের টান আছে।
কাছে পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই, শুভ কামনা আছে। পরস্পরের প্রতি অধিকার আছে, সম্মান-স্নেহ আছে;
আছে ভুল করলে শুধরে দেওয়ার দায়!
বলি, আমারে তোমরা প্রেম দিয়ো না—
ক্ষণিকের মোহ, অলীক স্বপ্ন, আকর্ষণের রঙে আঁকা
ভঙ্গুর কোনো সম্পর্ক দিয়ো না যেখানে—
প্রাপ্তির আশায় কাছে আসে হয়,
না-পাওয়ার ভয়ে দূরে সরে যাওয়ার,
যে সম্পর্কের ভিত গড়ে শুধু চাওয়া-পাওয়ার অনুপাতে।
আমারে ভালোবাসা দিয়ো।
আমরা পরস্পরের সম্মান রাখব,
মনের ঘরে মায়ার প্রদীপ জ্বালাব,
দূরে থাকলেও খোঁজ নেব, বিপদ এলে বুক পেতে দাঁড়াব। ভুল করলে শুধরে দেব, অভিমানেও খবর নেবো,
পৃথিবী মুখ ফিরিয়ে নিলে পরস্পরের পাশে দাঁড়াব।
আমাদের সম্পর্কে—
শরীরের চেয়ে মন বড় হোক, অধিকারের চেয়ে সম্মান, অভিমানের চেয়ে মায়া; পাওয়ার চেয়ে দেওয়ার আনন্দ।
আমারে প্রেম দিয়ো না— আমারে ভালোবাসা দিয়ো।
যে নৈকট্য ফুরোলেও টান কমে না,
দূরত্ব বাড়লেও মায়া কমে না,
সময় বদলালেও সম্মান হারে না।

Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.