এপার থেকে মুঠোসুখ পাঠাই প্রতি বৃহস্পতি,
তোমার ইয়ারফোন লাগানে কানের
সীমানা ছুঁয়ে ঠাঁই দাড়িয়ে থাকে নীরব।
তুমি কখনোই বুঝতে পারো না।
পরের সপ্তাহে পোস্টঅফিসের ফোন এলেই
আমি বুঝে যাই- পত্র গ্রহণ করোনি তুমি।
দশ টাকা দামের ডাকটিকেটের মূল্য চুকিয়েছি
এগারোশত দশ টাকা।
শেষবার উৎসুক চাহনীতে পোস্টমাস্টার বললেন-
কবি, যে ঠিকানায় বার্তা পাঠাও ভালবেসে-
সেখানে কেউ বাস্তবে না স্বপ্নে আসে?
মুচকি হাসির মৃদু রেখায় বুক জ্বালাতন সয়ে
অনিচ্ছায় উত্তর দিয়েছিলাম- এক টুকরো প্রেম।
শেষবার তোমার রিজেক্ট করা সুখচালানের খাম ছিঁড়ে
পোস্টমাস্টারকে শোনালাম-
আমার পবিত্র কবিতার শ্রুতিমধুর পংক্তি
আমার হৃদয়গহীনের পৌত অনুভূতি
ডাকটিকেটের মোহরখচিত একমুঠো সুখ
গভীর ঘুমের সীমানা পেরিয়ে এক দৃশ্য স্বপ্ন
কোনোকিছুই ঠেকাতে পারেনি তোমার ইয়ারফোন।
এক ইয়ারফোনের মায়ায় পড়ে কী কী কোরবানি করেছো
তা তোমার নিজেরই হিসাব নেই;
অথচ...! তুমি জানলেই না; তোমার একপত্র স্বীকৃতি
আর একবার মৌখিক সম্মতির উত্তরকালে
পৃথিবীর দুই মেরু ছাপিয়ে মিলিয়ে যাবো তোমার পরিসর।
তোমার এক ইয়ারফোনের রহস্য সমাধানে-
কতো সন্ধ্যা কেটেছে পাটোয়ার টেকে,
কতো ভোর কেটেছে মারায়ংতং চূড়ায়,
কত রাত কেটেছে সুখিয়াভেলীর নীরেট প্রকৃতির আচ্ছাদনে।
কতো অভিযান, স্বপন বহর, কতো অনুসন্ধান
কতো যোজন-বিয়োজন আলী কদমের আলীর গুহায়।
ডজন দেড়েক ঝর্ণার জল মেখে চেষ্টা করেছি
তোমার ইয়াফোন রহস্যের তেষ্টা মিঠাতে।
সত্য-অসত্যের সান্ধ্যকালে আলো-আঁধারী হিসাব
আর সাঙ্গুর সাথে মাতামহুরী অভিমানী চলন
আলাদা দু'টি সমীকরণ ধরে যা পেয়েছি-
তুমি এককালে এই ইয়ারফোনের চেয়েও
কবিতা ও তার কবিকে ভালবাসতে।
"কবিতার কবিকে ঠেলে তোমার ইয়ারফোনের
হয়ে ওঠার গল্পটা জানার তীব্র বাসনা আমার"
চকরিযা সুন্দরবন (মালুমঘাট অংশ), ককসবাজার।

Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.