আমাদের সামনে ইদুল ফিতর সমাগত। একমাস সিয়াম সাধনা শেষে মুসলমানদের ঘরে আনন্দ আর খুশির বার্তা নিয়ে এসেছে এই ঈদ। তবে আমরা যেমন সবাই সিয়াম সাধনায় যোগ দিইনি, তেমনি আজকের ঈদে অনেকের নেই মনে খুশি। কেউ ইচ্ছাকৃত নিজের সংস্কৃতি বিসর্জণ দিয়েছি, কেউ ভাগ্যের ফেরে, কেউ বিধর্মীদের অনাচারে পিষ্ট হয়ে ঈদ থেকে দূরে।
আমরা যারা মুসলিম দেশের নাগরিক হয়ে স্বাধীন ভাবে ঈদ পালন করে থাকি, তাদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ- আপনারা আপনাদের প্রতিবেশী, কাছের মানুষের প্রতি একটু নজর দিন। ঈদের সালাতের আগেই সদাকাতুল ফিতর আদায় করুন। প্রতিবেশির হক আদায় করুন।
শুধু সদাকা বা সামান্য দান করে ভাববেন না আপনি তাদের উপকার করছেন্ বরং এই দান , সদাকা আপনার উপর ফরয ছিল। আপনি আদায় করে নিজের ঘাড় থেকে নিজের বোঝা নামালেন। মনে রাখবেন আমরা একা একা (গোপনে অথবা নির্জণে) আল্লাহর কিছু ইবাদত পালন করে ( পরের হক আদায় না করে ) জান্নাত পাব না বা জাহান্নাম থেকে নাযাত পাবো না।
আল্লাহর রাসূল সা. বলেছেন: সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (বুখারী-৫৫৫২)
তিনি আরো বলেন: একে অন্যের প্রতি দয়া প্রদর্শনে, ভালোবাসায়, মমতায় এবং সহযোগিতায় মুমিনরা পরস্পরে একই দেহের সমতুল্য। দেহের কোনো অংশ ব্যথা পেলে দেহের সমস্ত অঙ্গই অসুস্থ হয়ে পড়ে...... (বুখারী-৫৫৮০)
প্রতিবেশীর হক আদায়ের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: জিব্রাঈল সব সময় প্রতিবেশীর হক আদায়ের ব্যাপারে অছিয়ত করতে থাকে যে, আমার মনে হয়, প্রতিবেশীকে তিনি ওয়ারিস বানিয়ে ফেলবেন। (বুখারী-৫৫৮৩-৫৫৮৪)
তিনি আরো বলেন: যে ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়, সে মুমিন নয়। (বুখারী-৫৫৮৫)
প্রতিবেশীকে যেন একটি বকরীর ক্ষুর দিয়ে হলেও প্রতিবেশীকে সাহায্য করা হয়, সে ব্যাপারে রাসূল মহিলাদের উপদেশ দিতেন। (বুখারী-৫৫৮৬)
রাসূল সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। (বুখারী-৫৫৮৭)
আসুন আমরা প্রতিবেশীর হক আদায় করি। পাশের সকল ভাইদের নিয়ে আল্লাহর বিধান মুতাবিক দ্বীনের উপর চলি।
ঈদের আনন্দ সকলের মাঝে বিলিয়ে দেই।
Comments (3)