প্রসঙ্গ :আধুনিক শিক্ষিত মুসলমান ও তাদের বখে যাওয়া সন্তানদের জন্য এই প্রবন্ধ।
আল্লাহ আমাদের একটি সীমিত সময়ের জন্য দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। এই সময়ের প্রতিটি নিঃশ্বাস আমার জন্য মূল্যবান। আজে-বাজে কাজে সময় কাটানোর সময় আমাদের নাই। আমরা একটা প্রতিযোগিতায় আছি। এই পৃথিবীর পরের জীবনের জন্য। যেখানে যাওয়া সবার জন্য অকাট্য।
এখন আমার স্কোর বাড়ানোর সময়। একটা সময় আসবে যখন আমি মরে যাব। তখন আমার সব আমলনামা -কাজের ধারা বন্ধ হয়ে যাবে । আমি আমার শরীরে বিরক্তসৃষ্টিকারী একটা মাছিও তাড়াতে পারবো না। আমার নিথর দেহ পড়ে থাকব। হ্যাঁ, এটা আমার মৃত দেহ। মানে আমি মরে গেছি । মরে গেছি বলে আমার সব শেষ হয়ে যায় নি । আরেকটা জীবনের শুরু হলো মাত্র। এই জীবনে কাজ করতে হয় না। এখানে কাজ করার সুযোগ নাই। কাজ আগের জীবনে হয়েছে এখন ফল ভোগের পালা। অর্থাৎ আমার স্কোর অনুযায়ী ফলভোগ। এই জীবনে রাজনীতি নাই, শাসন ক্ষমতা নাই,দলাদলি নাই, দলীয় নীতি, আত্মপ্রীতি- স্বজনপ্রীতির জায়গা নেই। এখানে কিরামান কাতিবীনের (সম্মানিত হিসাব রক্ষকদের) দেয়া রিপোর্ট অনুযায়ী সব হবে । তাই কোথাকার কে কী করল, কত সুনাম কামাইল, তার জীবনে কী অবদান তার কর্মস্থলে তা জানার কোন দরকার নাই। শুধুই থাকবে কর্ম আর কর্মফল। পৃথিবী ছাড়তে হবে, সবাই কেই না ফেরার জায়গায় যেতে হবে ।
ক্ষণিকের এই সময়ের জন্য কেন এতো প্রতিযোগিতা? এই যে অর্থের জন্য এতো কষ্ট, ত্যাগ, অবারিত ব্যস্ততা। হঠাৎ একদিন সব শেষ, হয়তো এই কষ্টের উপার্জন ভোগ করার সময়ই মিলবে না ( না দুনিয়াতে না পরকালে। যদি না রেখে যান আদর্শ সন্তান। আপনার সন্তান কীভাবে বড় হচ্ছে, কী শিখছে, কী উপার্জন করছে তা একটু তালাশ করুন। সময় খুবই ক্ষীণ!
আসুন মুসলিম ভাই-বোনেরা!
নামে যেহেতু মুসলমানের গন্ধ পাওয়া যায়, সেহেতু আসুন ফালতু চিন্তা ফিকির বাদ দেই। চিন্তা করি আমার পরকাল কী হবে? কেমন হবে ? আমি কোথায় থাকব? কবরে আল্লাহর আযাবের ফেরেস্তারা আমার সাথে কেমন আচরণ করবে ?
এই বক্তব্যে কেউ ব্যথা পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থী।
ধন্যবাদ! ভাল থাকবেন ন্যায়ের পথে।
Comments (5)