নদী আঁখিজলের
প্রাচ্য দিবা
====
কতোবারই তো এমন ঘিরে ছিলো মেঘেরা বসন্তে
গাছেদের ফুল ফোটানোর সময় অকারণ অভিমানে;
কতোবারই তো গিয়েছিলো ডুবে চাঁদ একাদশীর
দ্বিধাদ্বন্ধের ডুবসাঁতারে;
কতোবারই তো নদী লেপ্টে জলকাদায় ভাটার টানে
জোয়ারের পূর্ব লগ্নে;
তবু হেসেছো প্রতিবারই কেঁদে অঝোরে হরিণী
নয়নে;
তোমার আঁখিজলের নদীটা আজো বয় আমার
বুকের গহিনে রুধিরের বানে!
----
মুক্তি মরণে!
প্রাচ্য দিবা
====
কীভাবে টানি...
সূর্য গেছে কেতু গ্রাসে,
চাঁদ বিয়োয় গণ্ডা গণ্ডা ছা!
ঝুপড়িতে কিলবিল ক্ষুধার্ত হা;
বেড়ে যায় ভার যা ছিলো হাল্কা!
ঘাম কেবলি বাড়ে,
বাড়ে বারেবারে জীবনের ঘানি;
তবু কমে মুহুর্মুহু শক্তি দম টাকার;
থেকেও জোয়ান ছাওয়াল না থাকার;
যতো বোঝা জগতের বুড়ো সিন্দবাদের
চাপে ঘাড়ে যাবজ্জঈবন কারার;
জন্মেছিলাম মানুষের ঘরে,
হলাম ঘোড়া যৌবনে;
অমানুষিক সংগ্রামে-
অতঃপর বলদ কলুর ঠুলিটাও,
গাধা কি খচ্চর এখন একই দুঃসহ জীবনে!
কারা ঝরায় কুম্ভীরাশ্রু চাপিয়ে ধরা
মরার গর্দানে!
কারা ঝরায় আগুন মানুষেরে পশু
বানানোর দর্শনে!
কারা শোনায় মন্ত্র স্বর্গের নরকযন্ত্রণা
বর্ষণে!
কীভাবে টানি...
যখন জানি,
ফুরাবে না এ পথ;
যখন জানি,
মিথ্যা সব শপথ;
যখন জানি,
সামনে শুধুই আগুনে রাজপথ;
যখন জানি,
স্বর্গ উঠেছে বেড়ে-
এ পথেরই ধারে ধারে!
যখন জানি,
নরকাগ্নি জ্বলে ঘামে দিনের আঁধারে!
কীভাবে টানি...
পারিনাতো আর,
পারিনাতো আর,
পারিনাতো আর;
ভাঙ্গা কোমর ঘাড়,
ভাঙ্গা পাঁজর হাড়;
মরণে কি হবে মুক্তি মেয়াদ
যাবজ্জীবন গাধার?
মরে পাই যেনো শান্তি মরার;
পারিনা,পারিনা,পারবো না সইতে
স্বর্গসুখও এ দেহে জ্বরার;
মুক্তি চাই,
মৃত্যু চাই,
চাই অধিকার-
কোথাও আর না জন্মাবার;
কোথাও আর না জন্মাবার;
কোথাও আর না জন্মাবার;
চাই অধিকার চিরতরে মরার;
মরে ফুরাবার;
তুলে নাও বিধি-
একই জীবনে এতোবার যাবজ্জীবন কারার;
সশ্রম ঘানি টানার;
এ-তো জীবন নয়-
যুদ্ধ-সংগ্রাম
বারবার হারার!
হারতেও পারিনা আর-
দহনে দহনে,
আপাদমস্তক আগুনে হাবিয়ার!
পারিনাতো আর...
কীভাবে টানি বলো এ বোঝা দুনিয়ার-
বহু কারার এক জীবনে;
দাও,দাও,দাও মুক্তি-
মরণে।
---
কে যায় বয়ে?
প্রাচ্য দিবা
====
লাখ দুয়েক বছর আগে এক গুহায়
দেখেছিলাম স্বপ্নে ইরেক্টাস জীবনের-
বহু বহু পরের কোনো অজানা স্যাপিয়েন
লগ্নে,কী যেনো করছিলাম আঁকিবুকি
মনের দেয়ালে!
আরো কিছু পরে ৫৫৫৫ সালে পড়ে
গেলো মনে-
একই প্রেমসন্ধ্যা এক কবি-র জীবনে;
ঠিক কে যে আমি উঠি জেগে কালের
কলতানে?
কে যায় বয়ে-
কাল, নদী কিংবা ভালোবাসা বা নারী
না চেতনা;
অচেতনে?
------
সকাল
প্রাচ্য দিবা
====
ঘুম ভাঙ্গালো আজ প্রভাতে পাখির কূজন,
আর তখুনি মিউ মিউ বিড়াল ছানার;
ঝরনা যেনো জলের নলে শন শন শন,
চুক চুক চুক কুকুর মায়ের প্রথম খানার।
নীল আকাশে রোদে জ্বলে মেঘের ভেলা,
গলির মুখে রিকশাগুলোর ক্রিং ক্রিং;
নদীর জলে সাম্পান যেনো করছে খেলা!
সাত সকালে নেংটো ছেলের তিড়িং বিড়িং।
সরর সরর ছক ছকা ছক কলের চাকা,
ভেঁ-পু ভেঁ-পু বাজায় ভেঁপু বাসের চালক;
পথে ঘাটে লোকের চলা আজো ফাঁকা;
জীবন জ্বালায় চালায় ঠেলা নবীন বালক!
রান্নাঘরে কুলবধুর টিং টুং ট্যাং,
ছোট্ট খুকির তাড়াহুড়ো স্কুল যাবার;
গগনচুম্বী ভিত গড়ছে ঘ্যাসাং ঘ্যাসাং;
ছোট্ট ব্যাগে বইপুস্তক পানি খাবার!
সবুজ ধানে নতুন আশায় সোনার ঝিলিক,
জোতদারও গোপন গোঁফে দিচ্ছে যে তা;
দূরের গাঁয়ের দিনমজুর আর দেশী শালিক,
আসবে ওরা মৌসুমী ক্ষেতে হেথা হোথা।
সব আওয়াজ আর রোদ আশারা মিলেমিশে,
এই সকালে নদীর জলে ঝিকিমিকি;
রবার বাতাস ঘুরে ঘুরে রাস্তা পিষে,
মানুষ,প্রাণী,বৃক্ষ-আশা জাগছে ঠিকই!
--------------
শুভ্রতার অন্ধকার
প্রাচ্য দিবা
====
কলমের কান্নায় ঝরে পরে হৃদয়-তরল,
টর্ণেডো বিধ্বস্ত দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনাবৃত;
প্রাত্যহিক দিবা-রাত্রির মিলন-বিরহ স্তম্ভিত,
কাব্যের ছন্দ-ঝরণা হতাশার মরুতে বিলীন!
ধরণির আহ্বান সাগরের গর্জন-চাপা বাতাসে ফেরে,
চাঁদ ব্যস্ত অন্যমনে দিগন্ত পানে ধায়;
প্রতিশ্রুতি পারে না পায়ে শিকল পরাতে,
সংস্কার-কর্তব্য বাঁধে হাতের শাখা শুভ্রতায়!
যান্ত্রিক ঘর্ঘর রবার বাতাস আর কালো পিচ,
অবাঞ্ছিত অঙ্গগুলো ভেঙ্গে দেয় দিবাস্বপ্ন সেখানে;
সূর্যমুখী নাম্নি শুভ্র-বাহিনী রোদমুখে যায় সকাল-বিকাল,
আশপাশে ছড়ানো- আবেগ, প্রেম, বিরহ, হৃদয়ের লাশ!
---------------------
শিবের বাঁশী
প্রাচ্য দিবা
====
ইঁ---ক্--হা--হ্রা------
ইঁ-----ক্-- হা--হ্রা---আ-হ্রা---
ওঠেছে টান বৃদ্ধার;
আত্মীয়-অনাত্মীয় ডাক্তার নেবুলাইজার
ব্যস্ত হাহাকারে...
ছাপিয়ে তরঙ্গ মহাজাগতিক
মিল্কিওয়ে হয়ে ব্রহ্মাণ্ডের কিনারে কিনারে;
শ্বাসকষ্ট পৃথ্বীর
মরণ গুমরে গুমরে-
গেস্টাপো অত্যাচারে;
শিবের বাঁশি কেনো মানুষে ফুঁৎকারে!
----------
লোহারু
প্রাচ্য দিবা
====
যেটা জ্বলছে ওই নিচে হাপরের,
তাকাও ত্বরিত তাকে আর
বাম হাতে অলস টান দিয়েছো দুয়েক;
ফোঁস ফোঁস বায়ু-বেগে জ্বলে উজ্জ্বল,
জ্বলে কি সে স্ফুলিঙ্গে স্মৃতিরা আজো?
যেসব লোহারা থাকে মরচে ধরা,
অথচ কঠিন দৃঢ় তবু ভেতরে-
ঢুকিয়ে আগুনে কয়লার,
তাপে তাপে করে তারে রাঙ্গা নমনীয়-
চেপে ধরে নেহাই-এ হাতুড়ি পেটাও,
গ্রন্থিল পেশীগুলো ঘর্মাক্ত পিচ্ছিল;
শক্তি হেনে হেনে পাতও লোহার-
গড়ে দাও আকৃতি, তীক্ষ্ণ হাতিয়ার!
তখনো কি পড়ে মনে সে সব রঙিন
দিনগুলো, সুদূর অতীতে-
শৈশবে, সেই যে গিয়েছিলে দূর গাঁয়ের
পাঠশালে আরো কয় সহপাঠী মিলে-
কতো যে মধুর স্মৃতি
পথে যাওয়া-আসার!
হঠাত্ই একদিন,
ঢোকালো তোমায়-
আগুন-লোহা-হাপর-নেহাই আর
বিশাল হাতুড়ির,
উত্তপ্ত যুদ্ধক্ষেত্র পেশীর বড়াই!
প্রথমে এটা-সেটা এগিয়ে দেয়া,
দড়িটা হাপরের টানতে আগ্রহেই;
অসহ্য লাগলো তোমার সেই কৈশোরেই-
যেদিন পেটালে ওই বড়ো হাতুড়ি তুলে
নেহাই-এ চেপে ধরা উত্তপ্ত লোহাতেই।
ভাবো কখনো-
কতো লোহা দিয়েছো আকার নিজের ইচ্ছামতো,
আগুন-পেশী-হাতুড়ির শ্রম প্রয়াসে;
জীবনের ধারা তবু আগেরই মতো,
নিরন্তর অবিকৃত যতোই পেটাও!
ইদানীং কিছুই আর চরম আগুনেও,
হয় না নরম যাতে হাতুড়ি আঘাতে-
গড়তে চাইবে তুমি মনেরই মতো!
শুধুই পেশীগুলো হয়ে যায় ক্লান্ত শিথিল,
পুরুষে পুরুষে হয়েছে যেমন-
কী যে মানে তার, ভেবে উদ্ভ্রান্ত?
------------------
মহাবিকর্ষ
প্রাচ্য দিবা
====
উচ্চস্বরে ডাকছিলেন তিনি সারা পৃথিবীর
মানুষকে,
কখনো শোনেনি সবাই সে আহবান!
মানুষেরা মেনে চলে সূত্র- বিগ ব্যাং?
নক্ষত্রপূঞ্জ যায় শুধু সরে সরে হায়!
মহাকর্ষ ছেঁড়া সুতোর বুনন?
------
জাতীয় প্রতীক?!
প্রাচ্য দিবা
====
আমি ঘুরিফিরি পিচ ঢালা পথ বেয়ে,
উত্তর থেকে দক্ষিণে, পুব থেকে পশ্চিমে,
যখন যেদিকে ইচ্ছা বা উল্টোদিকে;
পথের দু’ধারে পশ্চাদগামী দৃশ্যপট
শশব্যস্ত ছোটে,
আমার চারপাশে লোকেরা সব গোপন
হাত-পা-জিভ গুটিয়ে জিরিয়ে নিচ্ছে
খানিকটা- জ্যান্ত প্রাণী ছিঁড়ে খেয়ে
সিংহ যেমন একটু জিরোয়!
ঘর-বাড়ি, অফিস, দোকানপাট
যেগুলোতে লোকজনেরা গিয়ে মাথা
মুড়িয়ে আসে ইচ্ছা-অনিচ্ছায়;
প্রায় সবাই এখানে একে অন্যের মাথা
মুড়িয়ে দেয় গোপন বা প্রকাশ্য ক্ষুরে!
এতো ঘন ঘন মুড়োতে মুড়োতে সবাই
যেনো স্থায়ী ন্যাড়া এখন!
তবু আমি লোকেদের দেখতে থাকি
যারা সবাইকে ন্যাড়া বানিয়েও নিজেরা
ঘুরে বেড়ায় চুলাবৃত দুর্বুদ্ধি মাথায়!
অথচ চুল-গর্বে গর্বিত সেই আমি
মুড়োনি খেতে খেতে চুলবিহীন
চক্চকে মাথা ইদানীং!
ন্যাড়ামাথা নাকি গোপনক্ষুর নতুন
জাতীয় প্রতীক হবে তা’ নিয়েই চলছে
জোর বিতর্ক দেশ জুড়ে!!
------------
হারানো নিসর্গ
প্রাচ্য দিবা
====
কিছু কিছু বৃক্ষ আজো হাতড়ে যায় পুরনো
দরদালানের গা -একটু আলোর আশায়;
কিছু কিছু বুনো জন্তু এখনো ছাড়তে
চায় না চৌদ্দ পুরুষের উত্তরাধিকার
এ নগরে;
কোন কোন নৈশব্দ এখন গুপ্তবাসে-
কারো কারো স্বপ্নের হা-হুতাশে;
কিছু কিছু বুড়ো আজো ভালোবাসে
বেড়াতে ঘুরে-আধুনিক নগরের
অতীত নৈসর্গে;
বহু বহু লোভী শ্যেন-দৃষ্টি আজো
ইট-লোহার ফাঁক-ফোকরে-অবশিষ্ট
ছেঁড়া চাঁদোয়ার ফুটো দখলে;
যখন শিশু-কিশোরেরা খেলে চলে
ডিজিটাল মাঠে জড়সড়;
মানুষেরা ধুঁকে ধুঁকে ভেঙ্গেই যাচ্ছে
এক গগনচুম্বী অন্ধকার সিঁড়ি-
রাঙ্গা মাটির পথ হারিয়ে মনের
গহনে!
-----------
ভাঙ্গা দরজা
প্রাচ্য দিবা
====
সেই কবে ভোর হয়েছে
শয্যাগত প্রাণ অস্থির
ঝুলগুলো হাতছানি দেয়
ভাঙ্গা দরজার ওপাশে আলো।
চিন্তিত ছিন্নমুণ্ড পেছনে ফেলে
কবন্ধ এগিয়ে যায় পায়ে পায়ে,
কবাটে চিত্রিত সমাজের কঙ্কাল
পরিহাস করে অনাবৃত দাঁতের ফালি।
ভেতরে পিশাচেরা নৃ্ত্যরত অবিরাম
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চেটেপুটে ভালবাসার
মানবতা সততা গো-গ্রাসে গিলে
স্বর্গের লোভনীয় ঐশ্বর্য্য ঝলমলায়!
আমি কি জেগে আছি ঘুমিয়ে?
চোখ দু’টো চেয়ে থাকে কবন্ধ পানে
মেঝেতে দজলা-ফোরাতের বহতা রাঙ্গা
ভাঙ্গা দরজার গোঙ্গানি শোনা যায়!!
-------------
হেমন্ত
প্রাচ্য দিবা
====
শিউলী ঝরা শরত রাতে
কোন আবাহন মিষ্টি হেসে?
ভোরের মায়া আজ প্রভাতে-
শিশির সকাল আলোয় মেশে!
প্রকৃতি আজ নতুন রূপে,
সাজছে কেনো কোন আশাতে?
মেঘেরাও হাল্কা ধুপে-
কুয়াশা যায় নীল বাসাতে!
শরত নিলো বিদায় কখন?
কাশবন আর শিউলী আজো;
ছড়ায় শুভ্র হাসি বসন;
হেমন্তেও তাই বিরাজো।
কিষাণী-চোখে নতুন ঝিলিক,
উঠোন জুড়ে ছড়ায় স্বপন;
আসবে সোনা আমন কালিক,
লেপে-মুছে আশায় গোপন।
মাঠে মাঠে রঙের খেলা,
সবুজ ধানে প্রলেপ সোনা;
কাস্তে শানায় কামার মেলা,
সব কিষাণের সময় গোনা !
মৌমাছি আর পিপীলিকা,
ব্যস্ত খুবই শীতের আগে;
সঞ্চয় কিছু আনবে বাগে;
নেভার আগে দিনের শিখা!
কী যে সারা আজকে প্রাণের!
বন-বনাণী নদীর স্রোতে;
সব প্রাণী আর পাখি গানের,
মাছেরাও দারুণ ছোটে!
কী হলো আজ এ ধরাতে?
সোনার থালায় সূর্য ওঠে!
চাঁদনি মায়া নরম রাতে!
শীতের আগে হেমন্তেতে!
------
পাখি
প্রাচ্য দিবা
====
ছোট্ট গানের পাখি,
বিলবোর্ডেই রয়েছো তাকিয়ে-
এখানে ফাঁকা এক চত্বর,
যা অসীম আর সসীমও তা’ কি?
ব্যস্ততা আর কোলাহল আলো-আঁধারে;
সবই কি ঘোরে?
নগর নাগরে?
যান্ত্রিক!
যেমনই তুমি!
মৃত কি জীবিত?
কী যে অসহায়!
হায়!
যে গড়েছে তোমায়,
দেয়নি ছোঁয়া প্রাণের?
কী করতে তখন?
শুধু বিচরণ আর
গান সারাক্ষণ?
খুঁটে খুঁটে খাওয়া
প্রাণভয়ে চাওয়া
অথবা
কিছু কিছু ক্ষণ
সুখ-শিহরণ!
বসে যে এখন; সেভাবেই
চলে যাওয়া!
তবু দেখো,
অনন্ত স্রোত
বয় অবিরত;
রঙ
তুলি
সময়ের ক্ষণ!
শিল্পীরা এখনো,
জল
তুলি
রঙ
করেনি নির্বাচন-
স্পন্দন
পাখা
দেখা আর
জীবনে জীবন!
অতএব
সেভাবেই তুমি থাকো
চক্রটাকে দেখো;
সবারই আছে ব্যস্ততা!!
------
বিষণ্ণ প্রহর
প্রাচ্য দিবা
====
কোন কোন জায়গায় রাখতে পারি আমার
দুঃস্বপ্ন পরিপাটি, যেনো কেউ না জানে কখন
ওরা পেরিয়েছিলো এক দ্বীপ-সাইক্লোন আর
ঝরা পাতার মর্মরতা;
কে একজন উড়ুনি সময়গুলো ধরে ধরে
পুরছিলো ঘূর্ণির বিপরীতে বিছিয়ে এক সুদীর্ঘ
আঁচল মসলিন-কথার ভাঁজের আড়ালে;
নিরুদ্দিষ্ট সংকল্পটা ব্যর্থতার গাঢ় মখমলে
সৌরচুল্লীর নিখরচা জ্বালানি ছিটিয়ে ছিটিয়ে
শাপ দেয় অঙ্গার ভবিষ্যতের;
আমার খোঁড়া গোপন গুহা বেদখলে যায়
বাস্তব অসহায়তার! যদিও স্বপ্নদের বক্তব্য
রাখার সুযোগ দেয় না কোনো ভাবনা ক্ষমতাসীন;
স্মৃতির খোলা মাঠেও করেছে জারী কার্ফিউ
সার্বক্ষণিক;
অন্তত ওই জানালার পর্দাদের বাইরে
তাকানোর স্বাধীনতার মতো গৃহবন্দি
চেতনার ড্রাইওয়াশ তো করে দাও রাতের
নিঃসঙ্গতাকে অতিক্রমের পর দুঃস্বপ্নদের
কানাগলির দেয়ালে দেয়ালে- যেনো
বিষণ্ণতার মুখোশধারী সুখস্বপ্ন দুয়েকটা
চালাতে পারি তোমার অসন্তুষ্টির জ্বলজ্বলে
প্রজেক্টরে;
শুধু একটিবার-
তুমি জেগে ওঠার আগে,
অনিদ্রার প্রহরে প্রহরে!
------
চিঠি- মানুষের কাছে
প্রাচ্য দিবা
====
একটা চিঠি এসেছে চিঠি-
না ফোটা গোলাপের অভিযোগ-
কেউ কলি থাকতেই ছিঁড়ে নিয়েছে তাকে।
একটা চিঠি এসেছে চিঠি-
চড়ুই-চড়ুইনির তীব্র প্রতিবাদ-
আমি বায়ু-খোপরে বানানো ওদের বাসা
উচ্ছেদ করেছি বলে!
একটা চিঠি এসেছে চিঠি-
মেঠো পথের ঘাসেরা অভিমান করেছে-
বহুদিন তাদের মাড়াইনি বলে!
একটা চিঠি এসেছে চিঠি-
বনের পশু-পাখিরা নালিশ করেছে-
আমরা মানুষেরা তাদের বন উজাড় করে
দিচ্ছি কেন?
একটা চিঠি এসেছে চিঠি-
মৃত ডলফিনেরা লিখেছে-
তোমাদের দূষণে মরণ আমাদের!
একটা চিঠি এসেছে চিঠি-
ক্ষুধার্ত শিশুরা লিখেছে-
‘তোমরা বেশী বেশী খাও, তাই উপোষ
থাকতে হয় আমাদের!’
একটা চিঠি এসেছে চিঠি-
মৃত ভ্রুণ লিখেছে-
আমার মা-ই হত্যা করেছে আমাকে;
অবৈধ বলে!
আমি কী উত্তর দেবো??
--------
মর্ত্য
প্রাচ্য দিবা
=====
খুব কমই উন্মুক্ত হয় স্বর্গ সিংহদ্বার!
চব্বিশ ঘণ্টাই থাকে নরকে প্রবেশাধিকার!
কোন এক মহাপ্রলয়ে হলো-
স্বর্গ-নরক একাকার!
দেখা দিলো জন্ম-মৃত্যু, ভালোবাসা,
দুঃখ-জ্বরা এবং তাদের
বংশধরেরা-
মহাকাল ঘনীভূত মুহূর্তক্ষণে,
দ্বি-অস্তিত্ব, শান্তিতে রণে-
মানুষই পারে করতে আলাদা;
নরক সয়েও স্বর্গ ভ্রমণে!
এ পৃথ্বীই আজ স্বর্গভুমি
নারকীয়তার নকশি জমি;
দেব-দানবে লড়ে একই দেহমাঝে-
সুর-অসুরেরা রাষ্ট্রে-সমাজে !
মানুষই পারে মিলিতে-মেলাতে
বস্তু-শক্তি যেমন এক সাথে;
একটু যদি দেখো আঁখি মেলে
যে হৃদয়ে ভালোবাসা খেলে;
সবাই তেমনি চায় ভালোবাসা,
যেমনি তুমিও করো পাবার আশা;
তুমিও যদি আজ সবারে,
ভালোবাসো ভূলে এ সংসারে-
পৃথিবীই হবে আজ এখুনি
মর্ত্যেই সেরা স্বর্গভূমি!!
-------------
ফাইল-ফিতে
প্রাচ্য দিবা
=====
কিছু আমি খুঁজছিলাম;
টেবিলের ওপরে,সেল্ফের ড্রয়ারে;
পরে এঘর-ওঘর আর দ্বারের বাইরে।
মনে পড়তেই খুলে দেখি স্মৃতির খাতা- নোংরা;
ফোক্লা-হাসি বিস্মৃতিরা আজো অগোছালো-বিবসনা!
ভুলে যাই-চলে মাঝে-মধ্যে স্বপ্নের ভেতরে,
সেদিন কে যেন ডেকে নেয় রাতের গভীরে!
মনে পড়ে যায় খোঁজের প্রহরে-
বিব্রত নিদ্রার সেই উস্খুশ ঘোরে;
স্বপ্নাহতের মতো আমি ঘুমেই হাঁটি!
হাতড়ে যাই কেবলি জীবন-ফাইলের ফিতাটি।
কেনো যে ভূলে থাকি-
ফাইলগুলো বন্দী পাস-ওয়ার্ড ভোলা
এক ফোল্ডারে!
আর চুলে বেঁধে ফাইলের লাল ফিতাটি-
‘কেমন লাগছে বলো’-
হাসছিলো মোনালিসা যেনো
তোমারি অধরে!!
---------
পিঠা ভাগ
প্রাচ্য দিবা
=====
কোথাও শুন্যতাগুলো অস্তিত্বহীন খোলা দৃষ্টি
মৃত মৎস্য চোখে,
কোথাও পূর্ণতা হাহাকারে রত শূন্যতার অভাবে;
কোথাও কৃত্রিম মস্তিষ্করা শিখছে যুক্তি, উদ্দীপনা
আর সিদ্ধান্ত কার্যকরের প্রাথমিক পাঠ-
যখন কোটি কোটি মানব শিশুরা শিক্ষা বঞ্চিত
উর্বর মগজ অথচ!
কোথাও বানাচ্ছে যন্ত্র-মানব বহু ব্যয়-এ, করবে
কাজ যৎসামান্য-
যখন কোটি কোটি উচ্চশিক্ষিত টানছে ঘানি
বেকারত্বের!
কোথাও নেই কোনো শূন্যতা বিশুদ্ধ বা পূর্নতা
পরম;
কেবলি পিঠাভাগে ব্যস্ত অনিশ্চিত বানরেরা!
--------
Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.