সম্পর্কের বয়স বছরের পর বছর পার হওয়ার পরও রিতা আবিষ্কার করতে পারেনি, সাইদ ওকে ভালোবাসে কি না । কখনো মুখ ফুটে জিজ্ঞেস করতে পারে নি । সাইদ নিজেও কোনদিন বলেনি । অথচ রিতার দিন-রাতের সব খবর সাইদের নখদর্পনে থাকে । রিতার যেন কখনো কোন কারণে মন খারাপ না হয়, ঠান্ডা মাথায় যেন রিতা সব কাজ সফল ভাবে করতে পারে সেদিকে সাইদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি । অনেকভাবে রিতা পরীক্ষা করেছে সাইদকে... শুধু ভালোবাসা, প্রেমের গতানুগতিক ভাবাবেগের আতিশয্য ছাড়া সব পরীক্ষায় সাইদ উত্তীর্ণ।
কখনো সাইদকে জিজ্ঞেস করলে জবাব এসেছে, "পৃথিবীতে কিছু মানুষ থাকেই যাদের ভেতর প্রেমে পড়ার ব্যাপারটা থাকে না ।"
আসলে ভালোবেসে ভালোবাসার বোধটাই অনেকের থাকে না ।
অনেক সময় মনুষ্য চেহারার রোবটের সাথে জীবন কাটাতে হবে ভাবতেও রিতার ভয় হয় । সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খাওয়া রিতাকে বিমর্ষ দেখে জিজ্ঞেস করেছিলাম সাইদের ব্যাপারে ওর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী?
প্রকাশ করতে অক্ষম যারা তাদেরকে সত্যিই বড্ড হতভাগ্য বলবো । কারণ এদের ভালোবাসার মানুষগুলো এদের ভুল বোঝে সবসময়ই । "বেঁচে থাকার জন্যে 'অক্সিজেন'কে জীবন থেকে অস্বীকার করি কেমন করে ?" অসহায়ের মতো করে জবাব দিয়েছিল রিতা ।
কিছু মানুষ থাকেই ভেতরে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেলেও বাইরে তার প্রকাশ থাকে না । জানি না সাইদ তাদের মতোই কেউ কি না ।
-----
অনুগল্প
Comments (8)