প্রভুর কাছে বলেছিলাম, "দিও যাকে ভালোবাসি।"
প্রভু বললেন, "কী করে তা হয়? সে যে আগেই পরবাসী!"
বললাম কেঁদে, "পরপারেই না হয় দিও তবে!"
ঈষৎ হেসে বললেন প্রভু, "তাও কী করে হবে?"
শুধালাম আমি, "কার ভাগ্যে লিখে দিয়েছিলে তাকে?"
প্রভু বললেন, "তার চাওয়ার প্রিয় সে মানুষটাকে।"
বললাম, "প্রভু, তুমিই বলো—আমার কী হবে গতি?"
প্রভু বললেন, "মুছে ফেলে দাও পুষে রাখা যত স্মৃতি।"
হেসে বললাম, "সবই তো জানো, তাকে ভোলবার নয়,
তার নাম নিয়ে জীবনে আমার সূর্য উদিত হয়।"
প্রভু উত্তরে ভেবে বললেন, "সে সবই আমি জানি,
তবে তুমি নও তার সে চাওয়ার প্রিয় সেই মুখখানি।"
আমি বললাম, "থাক তবে প্রভু, শুধু সুখী রেখো তাকে;
এপার-ওপার সবখানে দিও সে ভালোবাসে যাকে।
তাকে তুমি দিও ধরা-অধরার আছে যতখানি সুখ,
আরও তাকে দিও ভর্তি করে যত আছে প্রিয় মুখ।
প্রিয়জন তার যেন হয় খুব যত্নে রাখার কেউ,
নিজে হাতে যেন মুছে দেয় তার চোখের জলের ঢেউ।
জ্বর হলে যেন সারারাত জেগে শিয়রে দাঁড়িয়ে রয়,
ভালোবাসার কোনোই কমতি কখনো যেন না হয়।
বিকেলবেলা বাহারি ফুল ছিঁড়ে দেয় যেন তাকে,
সে বললেই যেন এনে দেয় আকাশের চাঁদটাকে!
এটুকুই চাওয়া সবশেষে মোর—খুব ভালো রেখো তাকে,
জীবনের যেন পূর্ণতা পেতে কোনো ফাঁক না থাকে।"
বললেন প্রভু করুণ হেসে, "ভালোবাসা বটে তোমার!
ইতিহাস হবে এটাই একদিন, জুড়ে এপার-ওপার।"
Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment.