দমের ঘোড়া
আব্দুল কাদির মিয়া
===============
পুড়লি রে তুই ক্ষুধার জ্বালা
থাকতে চালের দাম,
সব নিলো ঘর পোষরা যে তাঁর-
করতে কিছু কাম।

বাড়বে যে আয় সবাই খাবে-
ন্যায় ব্যাবসায় স্বর্গে যাবে,
আজ উধার মনে উদলা কাঁধে-
গায়ের জামা তিলক গাদের,
দোলছে যেমন নাগরদোলা-
চিন্তারি ঘাম মজার পালা,
মুক্ত শ্বাসে পরাণটা বেশ-
উত্তাল হয়ে হাসে।

এবার থলে খালুই হাতে লইয়া,
আলার বাপে ডাকছে বইয়া,
উঠনারে বাপ বাড়ছে বেলা,
বাজার যামু আনতে মেলা,
নাই কিছু সব ঘর যে খালি,
ক্ষিধায় পরাণ জ্বলে।

আলার নাই বাতি ঘর অন্ধকারে,
ডাকছে এবার আরোও জোরে,
কড়ার ঝাকি তাল যেন সব-
বাজে জোর করতালে।

তবে বকছে বাপে হায়রে আলা,
লাগলো কি তোর কানে তালা,
সয় না যে আর মরার জ্বালা।

আলা এবার তেরছা বেঁকে-
অবশ ভানে উঠছে ডেকে,
টাকার থলে মাচায় গুঁজে-
করছে যে হায় হায়।

বলে-
বাবা আমার পুঁজি সবি-
গঞ্জে গিয়া কোমড় খুঁজি,
দেখি সব নিলো তিন ঘষা চোরায়-
থেবড়া খাইয়া পড়ে বুঝি।

হঠাৎ-
আলার বাপের শ্মশান পোড়া,
অন্তর হাসে দমের ঘোড়া,
থামলে মরে ছুটছে জোরে-
হয়তো লাগাম টানবে চির,
নামলে আধার-
একটু পরে।