রক্ষিতা
আব্দুল কাদির মিয়া
==========
তুমিই আমার কবিতার পল্লব।

অলির মৌশুঁড়ে আলতো আদরে-
ফুটন্ত মুকুল পুষ্পরেণু মাধুরী,
জগৎ জুড়ে হে আমার নয়ন বিধু-
চির অন্তর মম ছন্দ বিনা,
স্বপনের নিশি প্রান্তে,
জীবনের জাগরণে,
এক তৃপ্তি মধু আবৃত-
সাধনার অববাহিকার,
চির সবুজের মোর হৃদয় ভোষন।

এইতো আমি এসেছি তোমার ধারে।
ঝিম ঝিম নিথর রজনীর শেষ প্রান্তে,
পূব গগনের রঞ্জন উদয় আগমনের,
বার্তা পূর্ব ক্ষণে।

জারুলের সারি,
চলন্ত বহুদূর,
বয়ে গেছে মেঠোপথ আর চোখ ধাঁ ধাঁ,
শুধু সবুজ আর সবুজে,
হিমেল আদ্রতা রোধক।

ঝির ঝির মহু হাওয়ায়,
দোল দোলে বৃক্ষে তোমার,
ঝুলন্ত ফাগুনের মাধুরীতা।

কোথাও হারিয়ে গেছে যেন অজানা দেশের,
অচেনা পথ ধরে,
এঁকেবেঁকে গহীন শুকনো পাড়ে,
দুই কূল নামহারা অরণ্যে ঘেরা,
কোথাও কাশফুল দলবেঁধে নুয়ে পরা,
ফনা গুলোর উল্লাস।

যারই ছলছলে জ্বলা স্রোতে,
আরো চৈতী শিমুল ফোটে,
কবির কবিতা গুলো ভাবনার প্লাবনেতে,
ফোটে উঠে গেন্দা কামিনী-
বন্য মালতীর অভিলাষ।

এইতো আমি এসেছি তোমারই ধারে,
হে বঙ্গ ভোষন বৃক্ষে তোমার-
ঝুলন্ত ফাগুনের মাধুরীতা।

আমি কবি,
আমি সাধক,
আমি যে তোমারই শুধু-
সুন্দরে আপ্লূত এক ভবঘুরে শুধা মক্ষিকা।

আমিই তোমার ঢলো নির্জাস মোহনা ঘিরে-
হৃদয় মধু অঙ্কিত সেবক,
আমিই তোমার নিখিল জড়োয়া-
সে উপচে পরা অপরুপ-
ভৃত্য রক্ষিতা।