একজন মানুষ দেশে থাকলে যে কোনো কাজ করতে পারে না কিন্তু প্রবাসে গিয়ে যে কোনো কাজ করতে পারে। কেননা তাকে অর্থ উপার্জন করে দেশে বাবা-মায়ের কাছে, স্ত্রী-সন্তানের কাছে পাঠাতে হবে। তখন তারা লোকচক্ষুর লজ্জা আড়াল করে ভাবে যে, আমাকে যে কোনো কাজ করতে হবে এবং করেও। একজন প্রবাসী অন্যের বাসাবাড়ি দেখাশোনা থেকে শুরু করে সুইপারি পর্যন্ত করে। কিন্তু এতে লজ্জাটা কোথায়, এতে তো আনন্দ থাকার কথা, যে আনন্দের কিনা অর্থ উপার্জন করার সক্ষমতা থাকে বা তা পরিবারের মানুষদের মুখে হাসি ফোটানোর মতো বিন্দু পরিমাণ ক্লেদও যেন জমা না থাকে।

দেশে যে মানুষটা রিকশা চালিয়ে অর্থ উপার্জন করে সমাজ তাকে অবহেলার চোখে, অনীহার চোখে দেখে, কেননা সে রিকশা চালক মামা,তার রোজগার রিক্সা চালিয়ে। কিন্তু বিদেশে সেই মানুষটা গিয়ে এই একই কাজ করছে। কিন্তু এতে লজ্জা নেই। সে তো চুরি করছে না, সে কর্ম করছে, কষ্ট করে অর্থ উপার্জন করছে। এতে লজ্জা থাকবে কেনো। এটাই তফাৎ দেশ আর বিদেশের মধ্যে। আমাদের দেশটা যে কারণে পেছনে পড়ে আছে তা হলো দেশের মানুষগুলোর মন ও মানসিকতা এখনো খুব নিচু ধরনের। যে দেশে নিচু মন মানসিকতার মানুষ লালন পালন করে সে দেশ কী করে এগিয়ে যাবে। কিংবা যোগ্যতা অনুযায়ী কর্ম দেওয়া কখনোই সম্ভব নয়।

তা এখনো অবাস্তব আমাদের দেশে। এটা কখনো বাস্তব হওয়ারও নয়। কেননা আমাদের দেশের সরকার যদি এই বিষয়টা নিয়ে একটু কাজ করতো তাহলে হয়তো আমাদের দেশের মানুষেরা এই দেশ ছেড়ে প্রবাসে যেত না বা নিজ দেশে কর্মসংস্থানের খোঁজে এগিয়ে আসতো। কিন্তু না, তা এখনো সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি আমাদের দেশে তা হয়তো সম্ভবপর হয়ে উঠবেও না কখনো।

গল্পঃ প্রবাস (৭)