মানুষ রং বদলায়, কারণে অকারণেই রং বদলায়। কারণে কিংবা অকারণে মুখোশ পরে। এই জগত সংসারে আপন পর হয় আবার পর আপন হয়। কখনো কখনো মানুষ আকাশের মতোই রং বদল করে। কখনো খুব আপন, কখনো একদম অচেনা হঠাৎ করে আবার কখনো মায়ায় জড়িয়ে বুকে আগলে রাখে, আবার কিন্তু হঠাৎ করে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দূরত্ব তৈরি করে।

এক সময় যে মানুষটি প্রতিদিন আপনার আমার খোঁজ নিত, চলার পথের নীরবতাও বুঝে ফেলত একদিন সেই মানুষটিই নীরবতার কারণ হয়ে ওঠে। অথচ আমরা তখনও আগের সেই মানুষটিকেই খুঁজে বেড়াই। মানুষ বদলায়, সম্পর্ক বদলায়, কথার ধরন বদলায়। তবে সবচেয়ে বেশি বদলে যায় মানুষের প্রয়োজন। প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে অনেক সম্পর্কের উষ্ণতাও ধীরে ধীরে কমে যায়। তখন উপলব্ধি করি, কিছু মানুষ আসলে জীবনে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আসে না; তাঁরা আসে তাঁদের কিছু অনুভূতি অন্যকে শেখাতে।

তাই আজকাল কেউ বদলে গেলে আর অবাক হই না। শুধু নীরবে আকাশের দিকে তাকাই। মেঘ সরে গেলে যেমন নীল আকাশ ফিরে আসে, তেমনি একদিন হারিয়ে যাওয়া মানুষটিও ফিরে আসবে। আর তখন হয়তো মনও তার হারানো শান্তিু ফিরে পাবে।

হোসনা বেগম এক টুকরা নাম অজানা সমুদ্র মাছ মজিদ মিয়ার ভাতের থালায় এগিয়ে দেয়।
খাও, কাটা বিহীন তোমার পছন্দের মাছ।
না এই রেখে দাও মায়ের জন্য- মজিদ মিয়া মাছটা ফেরত দেয়। এমনি হোসনা বেগম মুখ বাঁকা করে কটাক্ষ একটা হাসি দেয়। মজিদ মিয়া লক্ষ্য করলেও চুপ থাকে।
হয়তো আগামী কাল রাতে আর মা আমার সাথে ভাতও খাবে না। কারণ মা ছোট ভাইয়ের পরিবারে থাকতে চাইবে।

গল্পঃপ্রবাস(পর্ব ২০)
ছবিঃ পুরাতন সংগ্রহ ।