জীবন এক টুকরা ফসলি জমিন
ফ য় জু ল ম হী

সুখের সন্ধান হলো ক্ষয়িষ্ণু স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলা, ইন্দ্রিয় তাড়িত এক স্নায়বিক ভ্রম। সুখের অন্বেষণ যত গভীর হয়, আত্মসত্তার অবক্ষয় তত অনিবার্য হয়ে ওঠে। প্রত্যাশার অতৃপ্তি ও বাস্তবতার কঠোর সংঘাতে সুখ শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় এক বেদনাবিধুর অস্তিত্ব সংকট ও একাকিত্বে। যা হামেশা অনুভব করে একজন প্রবাসী।

আসলে পৃথিবীর নির্মম বাস্তবতা হলো, সব প্রাপ্তি সবার ভাগ্যে লেখা থাকে না। কারও হাতের মুঠোয় যা অনায়াসে ধরা দেয়, অন্য কেউ তা সারাজীবন আকাঙ্ক্ষার বেদিতে বিসর্জন দিয়েও অর্জন করতে পারে না। কারণ প্রবাস জীবন শুধু যোগ্যতার হিসাব নয়, কিছু অপূর্ণতার নামও প্রবাস।

মানুষ দূর থেকে যতটা সুন্দর, কাছাকাছি এলেই ততটাই জটিল। একা থাকা অনেক ভালো, কারণ নিজের সঙ্গ কখনও ঠকায় না। মানুষের মাঝে ভেসে যাওয়া বা মিশে যাওয়ার অর্থ নিজেকে হারানো। বেশি কাছে গেলেই মানুষ পিষে দেয়, ভেঙে ফেলে স্বপ্নগুলো। তাই নিজেকে ভালোবাসতেই আমার শত চেষ্টা।

কিন্তু এই ভালোবাসার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ পরিবার। আর এই পরিবারে এক সময় থাকে মা-বাপ ও বেড়ে উঠার চারপাশ। তারপর আস্তে আস্তে হয় আরো নতুন কিছু মানুষ। জীবন ও পরিবেশের কারণে কখনো কখনো ভালোবাসার বিনিময় ভালোবাসা বিসর্জন দিয়ে আবার নতুন করে ভালো থাকতে হয়।

হোসনা বেগম রোজ মজিদ মিয়াকে বুঝায় এবার আমাকে আলাদা করে দিয়ে যাবে। মজিদ মিয়া শুনে চুপ থাকে। আসলে ছেলেরা বড় হয়েছে, তাদের পড়াশোনার খরচ বেড়েছে। কিন্তু প্রবাসে রোজগার বাড়েনি।বেড়েছে নিত্য পণ্যের মূল্য। কমেছে শরীরের শক্তি ও মনের জোর

নিজের বিছানা ছেড়ে মজিদ মিয়া ছেলেদের কামরায় প্রবেশ করে। দুই ছেলে কম্বল মুড়িয়া ঘুমের ভান করে ।

গল্পঃপ্রবাস(পর্ব ১৮)