খাওয়াদাওয়া ও ভরণপোষন যেমনই হচ্ছে, দিন কিন্তু চলে যাচ্ছে। তবে গভীর কষ্ট তখনি হয়, যখন দাদি হিসাবে নাতি ও নাতিনকে মন উজাড় করে ভালোবাসতে পারি না, আদর করতে পারি না। তাদেরকে দাদা-দাদি হতে দুরে রাখতে চায় কারণ তারা নাকি আদর পেয়ে মায়ের কথা মানতে চায় না। আবার আমার মেয়ের ছেলেমেয়েকে একটু খাতির যত্ন করলেই কটু কথা শুনতে হয়, প্রচণ্ড অসহ্য আচরণ করে বউমা। কিন্তু চুপ থাকি ভয়ে। ছোট ছেলের সামান্য রোজগার , তাদের বৃদ্ধ বাবা কখনো কখনো একটু মাছ মাংস খেতে চায়, কখনো কখনো একটু ফলমূল খেতে চায়।

উনি যখন ছোট বাচ্চার মত বায়না ধরে। তখনি বুকটা ভেঙ্গে কান্না আসে। যাকে আমি ঔষধ কিনে খাওয়াতে কষ্ট হয় তাকে আমি কিভাবে ভালো খাবার কিনে খাওয়াবো? তখনি সন্তান আছে এই কথা ভুলে যাই, বাবা।
বাস লালপোল হতে এসে যাত্রাসিদ্ধি দিঘীর পাড়ে থামে। বাস হতে একটা লোক নামে আরেকটা লোক উঠে। উনার হাতে থাকা মোবাইলে গান বাজতে থাকে ।

ও যা কিছু আমার ছিলো দিয়েছি তারে ভালোবাসা চিরদিন এমনি করে”।

সত্য কথা বলতে গানটি শুনে আমার হৃদয়টা একদিকে স্নিগ্ধ শীতল হলো অপরদিকে প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ড জ্বলতে শুরু করে।

আপনি দোয়া করেন যেনো আল্লাহ আপনার বড় ছেলের মা-বাপকে বুঝার জ্ঞান দেয়। সে বউয়ের সত্যমিথ্যা কথার ফুলঝুরিতে বোকা বনে গিয়েছে।দোয়া করেন ছোট ছেলের যেনো রোজগার ভালো হয়। এইসব বলতে বলতে আমি ভাঙ্গা তাকিয়া নেমে পড়লাম বাস হতে। একজন বয়োবৃদ্ধ অপরিচিত মা নামার সময় আমার মাথায় হাত রাখলেন এবং শক্ত করে আমার একটা হাত ধরে রাখলেন নামা পর্যন্ত ।
রাস্তার পাশে বাজারেই মসজিদ। আমি জলদি ছুটলাম গন্তব্যে, মসজিদ হতে শুনা যাচ্ছে মুয়াজ্জিন খুৎবা পড়ছে।

জুমার নামাজ পড়ে কবর জিয়ারত আমাদের দেশে একটা ধর্মীয় কালচার। আমি প্রতি শুক্রবারই মা বাবার কবরের পাশে দাড়াই। আজকে খুব ক্লান্ত হলেও দাড়ালাম। বাবার কবরের চিহ্ন নাই তবে মায়ের নতুন কবর। দাড়াতেই মায়ের স্মৃতি মনে পড়লো , মনে পড়লো বাসে সেইসব মা‘দের কান্নায় মলিন মুখ। আমি মরণ পর্যন্ত আর মা কে ডাকতে পারবো না। অন্য দিকে আর কিছু মানুষ মা কে চিনচেই না। মা ভাগ্যহীন হয়ে চোখের জল ফেলে। খুজে সঙ্গ, খুজে অন্ন,খুজে নিরাপদ মরণ।
(শেষ)