দুই বোন

1
. . . মেয়েটি জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে ,এমন সময় পিছন দিক থেকে মা এসে তাকে বলল ,তুকে যে কাল দেখতে আসবে তিন্নী ।
শুনে তিন্নী মুচকী হাসি দিয়ে বলল ,মা ;আমায় আবার কে বিয়ে করবে ?
ওপাশ থেকে ছোট বোন : কে বিয়ে করবেনা শুনি ?আমার কত আদরের আপ্পি !এই বলে সে রূমে চলে গেল ...

তিন্নী একটু খেয়াল করল যে কিরে মুমুর স্বরটা আজ এমন লাগলো যে ?আর সেতো রোজই আমাকে রাগায় হাসায় আজ কিছু না বলে চলে গেল যে ?

তিন্নী মনে মনে ভাবছে ,ধুর আমি এইসব কি ভাবছি !
অনেকক্ষণ পর তিন্নী মুমুর রূমে গিয়ে দেখে মুমু কাঁদছে ,চোখ মুখ লাল ।

তিন্নী : কিরে কাঁদছিস কেন ? কি হয়ছে বল ? আমায় বল ,এই বলে উড়না দিয়ে তিন্নী তার চোখ মুখ মুছ দিল ,পানি দিয়ে মুখ ধোয়ে দিল

- আপু ,তুর যে বিয়ে হয়ে যাবে ,আমি কেমনে থাকব ,কার সাথে গল্প করব ...মাঝরাতেও তুমি ঘুমাও না ,তোমার নাকি ঘুম আসে না ?তোমাকে আমি কি আর ঘুম পাড়াবো না ,আর কি আমি গান শুনবো না ?

- বোকা মেয়ে একটা ,আমার কি এক্ষুনি বিয়ে হয়ে যাবে নাকি ।এই বলে একটা চুমু দিল তিন্নী মুমুর কপালে ...এই সব কি ভাবছিস ? গাধা দেখতো বোকা মেয়ে কেঁদে কেঁদে কেমন করল মুখের অবস্থা দেখ ।বোকা মেয়ে কোথাকার ।

- মুমু আর কিছুই বলে না ,ছোট্ট মুমু সজোরে তার আপুকে জডি়য়ে আমায় ছেড়ে কখনোই যাবে না তুমি ।

এই হল দুটি বোনের ভালবাসার প্রতিচ্ছবি ;যা কখনো হাসায় আবার কখনো কাঁদায় ।

যাহোক কেউ কি ভাবলেন ,

কেন তিন্নী মাঝরাতে ঘুমায় না ,কেন তার রাত ফুরিয়ে গেলেও ঘুমের দেখা দেই না ।তা এক নির্মম কথা ,সংক্ষেপেই না হয় একটু বলি ;তা না হলে যে তিন্নীর গল্প অর্ধেক থেকে যাবে ।


" কেউ একজন নিঃশব্দে আমার পাশে এসে দাঁড়ায় ,
প্রত্যেহ আমি যেন হাসনাহেনার সুভাসে ,
রাতের ল্যামপোষ্টের সোনালী আলোয় কার যেন স্পর্শ লাগে আমার ,
হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করতে গেলেই সে যে পালাই ।"

আসুন মূল কথায় তারপর এই ছোট্ট কয়েকলাইনের ব্যাখ্যা পাবেন ....
খুব মমতা দিয়ে একজনকে তিন্নী ভালবেসেছিল ...
মা তা জানতো আর বলতো বেশী ভালবাসাবাসি ভাল না ,আর মুমুও মাঝে মাঝে ঝগড়া পাকাতো বলতো ,আমার চেয়ে বেশী অন্য কাউকে ভালবাসলে খবর আছে হু !
বোকা মেয়ে মুমু কি বোঝে আর এইসবের ।

কোন কোন দিন আমার তার সাথেই কেটো যেত ,রাতে অনেকসময় বাসায় আসতাম না ,হাত ধরে হাঁটতাম মধ্যরাতে আসতাম বাসায় ....

মা খুব রাগত ,বাবা খুবই ভালবাসত আর প্রশ্রয় দিত ।

আমরা যতক্ষণ একসঙ্গে থাকতাম ,ধুর বাবা কি লিখছি তার নামটাই বলি নি এখনো তার নাম ছিল রিসাদ ...

আমরা কখনোই ভালবাসা নিয়ে বকবক করতাম না ,একে অপরের সাথে এই সেই বলে বলতাম ভালবাসা এমনই ,কোন বাধাধরা নেই ...সম্পর্কটাই ছিল অন্যরকমের ...

হঠাত্‍ একটি একটা ব্যাপারে তিন্নী একটা বিষয় টের পেয়ে যায় ।বিধাতার একটা ক্ষমতা নারীকে দিয়েছে আর কিছু ,না দিলেও সে ক্ষমতার কোন ব্যাখ্যা কিংবা তুলনা নেই ,নারীরা কিছু ঘটার অনেক আগেই টের পেয়ে যায় ...মেয়েরা বয়সের সাথে সবকিছু বোঝার ক্ষমতা পাই ...

রিসাদ কোন এক সুন্দরী মেয়ের প্রেমে পড়ে যায় সেটা তিন্নী বুঝে যায় ...তার পর তিন্নী-রিসাদের কোন যোগাযোগ নেই ...

সেই থেকে জানালার গ্রিলের মাঝে হাসনাহেনার সুভাসে কার স্পর্শতা ...আর বিষন্ন থাকে তিন্নী ...
বাবা এমন আদরের মেয়ের অসহায়ত্ব দেখে কাঁদে ...আর মায়ের নিরব কান্না চলে অবিরত প্রতিমুহূর্তে ।এই একাকীত্বের ভয়ে তিন্নী একদা আলোকে ভয় পাই ,একাকীকে সঙ্গ করে মুমুকে আর কেউ আদর করে না ,তিন্নী মানুষ দেখলেই ভয় পাই ...

একসময় মুমু আর তিন্নীর কত সখের বোনের আশ্রয়ের আঁচল কে যেন নিয়ে গেল অপারের কোন এক গৃহে ...

তিন্নী ,মুমু ,বাবা আর মায়ের সংসারে কার যেন অনুপস্থিতি ।

মুমু হারিয়ে ফেলল তার বোনের আদর,কেউ এখন মুমুকে আর চুল আচড়িয়ে দেই না ,তার সুখ দুখের ভাগ কেউ নেই না ,কেউ তার নখ কেটে দেই না যে শেষ সময়ে তিন্নী জানালার গ্রিল ধরেছিল সেদিনই ছিল আকাশে মেঘ ,আর পূর্ণিমা রাত আর চাঁদের খেলা ...ঠিক আজকের রাতটার মত ...মুমুও জানালার গ্রিলের পাশে দাঁডি়য়ে আর তার আপুর অপেক্ষায় ...

কবে তিন্নী এসে তার ক্রন্দন থামাবে ,
মুমু একদিন কেঁদেছিল আপুর বিয়ে নিয়ে কারণ বিয়ে হয়ে গেলে তো আপু চলে যাবে আর আজ ...........

#দার্শনিক_ওয়াহিদ