বিমল বাবু আমাদের গ্রামের প্রথম ব্যক্তি,আমরা সবাই তাকে জ্যাঠা বলি,যিনি নাকি পৃথিবীর প্রায় সব দেশ ভ্রমণ করেছেন জলপথে। অর্থাৎ তিনি ইন্টারনেশানেল জাহাজ কম্পানিতে কাজ করেন। টাকা পয়সার কোনো অভাব নেই,স্বাস্থবান ও খোসমেজাজের লোক বটে,বয়স প্রায় ৫০-৫৫বছর হবে,ছয় মাস ছাড়া বাড়ি আসেন,আর সব
বয়সী মানুষের সাথে মজিয়ে গল্পের আসর খুলে বসেন সন্ধাবেলা,গ্রামের নদীর ধারে বিস্টুর চায়ের দোকানের সিরিস তলায়,আমাদের ক্লাবের পাসে। মাঝে মাঝে বিদেশী সিগারেট জ্বলতেই থাকে তার মুখে,আর সবাইকে ফ্রীতে চা-টা যেমন হল আরকি,কিন্তু তিনি নিজে চা পান করেন না ,চিনি ছাড়া স্ট্রং ব্ল্যক কফি পান করেন,দোকানদারকে বলা আছে কফি শেষ হলেই কাপ ভরে দেয় যেন ,যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি মানা না করছেন,বিকেল তিনটে থেকে সন্ধা আটটা পর্যুন্ত ১০ কাপ কফি হয়ে যায় তার। আর ঐসময় আমরা দল বেঁধে বিমল বাবুকে গল্পের জন্য অনুরোধ করি, তিনি কফিতে চুমুক দিয়ে সিগারেটে হালকা টান দিয়ে,একটু মুচকি হেসে,ভারি গলায় বলেন-গল্প!আচ্ছা তবে বলি শোন।
তার গল্প গুলো নাকি সব সত্যি, কোনো জল মেসানো বা বানানো গল্প নয়।
আমরা গল্পের লোভে কোনোদিন তার গল্পকে সন্দেহ বা অসম্মান করিনি,মিথ্যা হোক বা সত্যি গল্পগুলো সত্যই মন দিয়ে শোনার মতো,তার জীবনের নানান রঙের গল্পে ভয়,রোমাঞ্চ,প্রেম,হিংসা সব কিছুরই স্বাদ পাওয়া যায়। তখন জুলাই মাস বেশ বৃষ্টি হচ্ছে,কিন্তু বিকেলের দিকটা ধরন দেয়,আবার রাত্রি নয়টার পর বর্ষা রাণী কাঁদতে থাকে সারা রাত। প্রায় কয়েকদিন এই একই রুটিন যেন তার বাঁধা। তো সেদিন বিকেলে তার সাথে আবার সেই আড্ডা,আকাশটারও মুখ ভার ,যেন বিকেলেই সন্ধা হয়ে গিয়েছে,বেশ হাওয়া দিচ্ছে,কাক গুলো কা কা করছে অনবরত। আমাদের দলের শ্রীকুমার চা নিয়ে বলল জ্যাঠা এই বাদলা দিনে একটা সত্য ঘটনা হলে কি যে ভালো হত!আমরা সবাই বল্লাম জ্যাঠা হোকনা একটা।
তখন জেঠা তার গল্পের ঝুলি থেকে ,একটা গল্প শুরু করলেন,বললেন -তখন ২০০১সাল,ডিসেম্বর মাস,আমাদের জাহাজ লিবার্টি দুই হাজার যাত্রী নিয়ে ভেসে চলল অসট্রেলিয়ার সিডনির পোর্ট থেকে ফিজি,সুবার উদ্যেসে,বলে রাখি ফিজি খুব সুন্দর ছোট্ট একটা দেশ ,ছোট্ট দ্বীপ বলা যায়,চারিদিক গভীর নীল সমুদ্রে ঘেরা,এখানকার সভ্যতা প্রায় আমাদের দেশের মতো,খাওয়া-দাওয়া,পোশাক- পরিচ্ছদ,আবার কেউ কেউ হিন্দও বলতে পারে,কারও প্রজন্ম ভারতীয়,শোনা যায় যখন ব্রিটিশ শাসন ছিলো এখানে,তখন ব্রিটিশরা আখের চাষ করে তা থেকে এক ধরনের মদ্য পানীয় উৎপাদন করত,যাকে আমরা রাম বলে থাকি। আর আমাদের দেশের কয়দিদের ব্রিটিশরা নিয়ে আসতো ফিজিতে ,এখানে আখের চাষ ও রাম উৎপাদনের জন্য। সেই থেকে ভারতের বংশধর এখানে বসবাস করছে। যদিও আমি আগে ফিজি গিয়েছিলাম,তাই অতটা এক্সাইটেড ছিলাম না।
হঠাৎ জাহাজের স্পিকারে ঘোষণা হল ,ইটালীয়ান ক্যাপটেন মারকো বলছেন খারাপ আবহাওয়ার জন্য ফিজি যাওয়া হবে না,পথে বড়ো ঝড়ের সম্ভবনা আছে। তাই আমাদের জাহাজ কাল সকালে নিউ কেলিডোনিয়ার নোমিয়াতে জাহাজ ডক করবে। কেউ খুশি হলো বা না হলো জানি না,তবে আমিতো খুব খুশি,আবার এক নতুন জায়গা নতুন এডভেনঞ্চার নতুন দেশে পা রাখবো কালকে।
মনে মনে নোমিয়ায় কি করবো ভেবে নিলাম,সন্ধাবেলা খোলা ডেকে বসে আছি,বেশ হাওয়া বইছে উত্তর থেকে দক্ষিণে, সূর্য অস্ত যাচ্ছে,আকাশ ও সমুদ্রের জল একেবারে টকটকে লাল হয়ে উঠেছে,যেন রক্তে ভেসে যাচ্ছে চারিধার,সমুদ্রের ঢেউ গুলি এক ছন্দে নেচে চলেছে,মাঝে মাঝে উড়ুক্কু মাছ গুলো উড়ে উড়ে চলেছে জাহাজের সাথে সাথে। আমাদের জাহাজ তখন প্রায় ঘন্টায় ৪৫ কিলোমিটার গতিবেগে ছুটে চলেছে, মাঝে মাঝে নাম না জানা বড় বড় সারস জাতীয় পাখির দল চোখে পড়ছে। যাইহোক সকালের অপেক্ষায়,দশটায় প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে শুতে গেলাম।আমাদের পাড়ার সন্তু বলে উঠলো কি খেলেন জ্যাঠা?অনন্ত ফুটকেটে বলল সন্তুু তোদের মতো নিম বেগুন আর ডাল ভাত নয়রে,একদম মুখ বন্ধ করে বসে শোন গল্পটা। জ্যাঠা বলল ঝগড়া করিস না তোরা,বলছি বাবা বলছি,আমি বাঙালি যতই যাই খাই, একটু ভাত না হলে চলে না,সাথে একটু তালেমিন সুপ, স্যালাডের সঙ্গে রাঞ্চ ড্রেসিং ,সালমন ফিলে, চিকেন রোস্ট,পাসতা বোলোগনেস,আর একটু গাজরের হালুয়া। অবশেষে সকাল হলো,জহাজ ডকে এসেছে প্রায় ভোর পাঁচটায়,গেঙওয়ে খুলবে সকাল সাতটায়,এখন সকাল ছটা বাজে,কেবিনের টেলিফোন থেকে সবাইকে ফোন করে দিলাম, তারা যেন তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে গেঙওয়েতে অপেক্ষা করে সাতটার মধ্যে। তারপর রেড়ি হয়ে মোবাইল ....তখন যদিও আমাদের গ্রাম বাংলায় মোবাইল কি তা কেউ জানে না,যাইহোক মোবাইল ও ঘড়ির টাইম জাহাজের টাইমের সাথে মিলিয়ে নিলাম,কারন আমাদের জাহাজ সিডনির টাইম ফলোআপ করে,নোমিয়ার লোকাল টাইম আলাদা,সুতোরাং সব কিছু চেক করে আইডি কার্ড নিয়ে চলে গেলাম গেঙওয়েতে,দেখলাম সবাই এসে গেছে, একজন আসেনি,তারপর আইডি কার্ড পাঞ্চ করে একে একে সিকিউরিটি চেক করে পা দিলাম নোমিয়ার মাটিতে। সকালের সোনালি আলোতে মন প্রাণ ভরে উঠলো তৎক্ষণাৎ ,নোমিয়া হলো নিউ কেলিডনয়ার রাজধানী ,আর এই লম্বাটে সবুজ দ্বীপটি ফ্রান্সের,জনবসতি আনুমানিক দুই লক্ষ নব্বই হাজার মাত্র ,এখন হয়তো আনেক বেড়ে গিয়েছে,দ্বীপের পশ্চিমদিক বরাবর সবুজ পরিস্কার কাঁচের মতো স্বচ্ছ জলরাশি আর পূর্ব দিকে নীল সমুদ্রের মনোরম দৃশ্য। অনেক ভালো ভালো সমুদ্রতট রয়েছে এখানে ,আর রয়েছে পাম স্কায়ার গাডেন,চার্চ ,কলেজ ,হাসপাতাল,চিড়িয়াখানা,হাজারও নামি দামি রেস্টুরেন্ট ,ভারতীয় রেস্টুরেন্ট ও কাপড় দোকান,টিনা গল্ফস্কোর ইত্যাদি অর্থাত আধুনিক সমাজে যা প্রয়োজন সব কিছু, চারিদিক পরিস্কার পরিছন্ন,আমরা মালোঙ্গ ক্যাফেতে কফির সাথে দুটো করে ক্রোজন অডার করলাম তখন অবশ্য ব্ল্যাক কফি পান করতাম না,আর বাটার দিয়ে ক্রিসপি ক্রোজন খেতে যে কি মজা তা বলার নয়, তখন কম বয়স ,গ্রামের ছেলে খিদেও খুব,তা আমি আর দুটো চকলেট ডোনেট অডার করলাম। আমরা ভারতীয় যেখানেই যাই না কেন, দল ঠিক ভারী করবই,তাই চারজন বাঙালি ,একজনের বাড়ি বারাসাত আর সবার কলকাতা,আমারটা আর বলছি না হাঃ হাঃ হাঃ,আর দুজন কর্ণাটক বিড়দির বাসিন্দা সাংগাপ্পা আর ভেঙ্কট,এবং সাথে গোয়া পানজির শ্রীধর কদম ও গাওড়ে।কিন্তু শ্রীধর আসলো না কেন কে জানে!
যথাযথ বেকফাস্ট সেরে একটা গাড়ি ভাড়া করে নিলাম,এখানকার কারেন্সি আলাদা হলেও অসট্রেলিয়ান ডলার চলে,তাই সারা দিনের ভাড়া বাবদ ড্রাইভার কাম গাইড ২০০ডলারেই রাজি হয়ে গেল। এয়ার কন্ডিশান গাড়ি সমুদ্রতটের হাইরোড দিয়ে ছুটে চলল,আমরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শহরের দুপাশ দেখতে লাগলাম,আমাদের গন্তব্য নিউ কেলিডোনিয়ার নানান দর্শনীয় স্থান।
এবং সব শেষ সমুদ্রে স্নান সেরে প্রায় তিনটের সময় জাহাজে ফিরে এলাম, সবাই খুবই কান্ত। আর সোজা কেবিনে গিয়ে স্নান করে ঘুমিয়ে পড়লাল।
তখন সময় কতো তা জানি না,কি একটা আঁশটে গন্ধ অনুভব করলাম ঘুমের ঘোরে, নাইট ল্যাম্পের আলো আধারে ঘুম ঘুম চোখে দেখলাম কে একজন বসে আছে । কি করে এলো কিবিনে ?কেবিন তো অটোমেটিক লক তবে কি দরজা ঠিক করে লক করি নি?নানা প্রশ্ন মনের ভেতরে, আমি বল্লাম কে ?
সে অবিশ্বাস্য খোনা গোলায় হিন্দীতে এই যে, সে বলল আমি শ্রীধর,আমি আজকে তোদের সাথে যেতে পারলামারে,আমি বল্লাম কেন এলি না,খুব মজা হল্ আজকে,সে একটু ইতস্ততঃ হয়ে বলল আমি আর কোথাও যেতে পারবো না,সব শেষ হয়ে গেছে,পৃথিবীর সাথে আমার আর কোনো সম্পর্ক নেই,আমি বললাম কি বাজে বকছিস?শ্রীধর বলল ঠিক বলছিরে,তবে শোন সকালে আমি তোদের সাথে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে ছিলাম,পাঁচতলায় আমার কেবিন তুইতো জানিস,লিপ্টে করে নিচে নামার সময় লিপ্টের বোতাম টিপলাম,লিপ্ট তখন এগারোতলায়,আর সঙ্গে সঙ্গে লপ্টের দরজা খুলে গেল,আমি তৎক্ষণাত চোখ বন্ধ করে ঢুকে গেলাম, এক সেকেন্ডেই বুঝতে পারলাম লিপ্ট কোনো যান্ত্রিক কারনে এসে পৌঁচ্ছায়নি,আর আমি সোজা নিচে গিয়ে পড়লাম,আর দরজা যথাযত বন্ধ হয়ে গল,গ্রাউন্ড ফ্লোরের দুটো স্প্রিং ঢুখে গেল আমার বুকের ভেতর,আমার মাথাটা প্রচন্ড জোরে লাগলো দেওয়ালের লিপ্টের লোহার পাতে,মৃত্যুর আনন্দ তখন আমি অনুভব করছি,চারিদিক রক্তে ভেসে যাচ্ছে,চিৎকার করবার কোনো শক্তি তখন নেই,চোখ দুটো যেন কোটর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চাচ্ছে,যন্ত্রণার ভালোবাসায় তখন বিলীন হয়ে যাচ্ছে আমার আত্মা।আমার দেহটা পাঁচ নম্বর ক্রু লিপ্টের নিচে শুয়ে আছে, তাই যেতে পারিনি তোদের সাথে। এই সব কথা গুলো আমার মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে,মনে হলো আমি বোধহয় স্বপ্ন দেখছি,ভয়ে আমার ঘাম দিতে লাগলো,,পাস ফিরে শুতে পারছি না, দেখলাম ও কে?মাথা ফেটে ফাঁক হতে আছে আর সেখান থেকে চুইয়ে চুইয়ে রক্ত ঝরে পড়ছে,চোখ দুটো বিস্ফারিত,সারাদেহ রক্তাত,ভয়ঙ্কর এক দৃশ্য যা বলে প্রকাশ করা যায় না,আমার শরীরে তখন ঠান্ডা এক স্রোত বয়ে যাচ্ছে।তারপর চোখটা একটু ঘসে নিয়ে দেখলাম না কেউ তো নেই,তবে মনে হয় স্বপ্নই দেখছিলাম,একটা দুঃস্বপ্ন ভেবে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম,ঘড়িতে তখন রাত বারোটা পনেরো ঐ দিন আর ডিনার করলাম না,আবার পাশ উল্টে ঘুমিয়ে পড়লাম,সকালে উঠে শরীরটা খুব ম্যাজ ম্যাজ করছে তাই এক কাপ কফি পান করে ডিউটি চলে গেলাম আটটার সময়,তারপর কিছুক্ষণ কাজ করবার পর ,স্পিকারে ঘোষনা শুনে চমকে উঠলাম,ক্যাপটেন বলছে শ্রীধর নামে এক ভারতীয় ক্রু মেম্বার নিখোঁজ ,তার কালকে নাইট ডিউটি ছিলো,কিন্তু কাল রাতে ডিউটি আসেনি,তার কেবিন তল্লাশি করা হয়েছে ,কেবিনে তাকে পাওয়া যায়নি,সিসি টিভি ক্যামেরায় তার কেবিন থেকে বেরোনোর ফুটেজ পাওয়া গেছে কিন্তু আর তাকে দেখা যায়নি কোথাও, জাহাজের সিকিউরিটি অফিসার ইনভেস্টিকেশান করছেন। একথা শোনা মাত্র আমার মাথাটা ঘুরে গেল,আর আমি দৌড়ে ক্রু লিপ্টের দিকে দৌড়ে গেলাম,গিয়ে দেখি লিপ্টের পাসের দেওয়ালে লেখা আছে, লিপ্ট আউট অফ সার্ভিস। তবে কি সত্যই শ্রীধর রাতে যা বলেছিল সেগুলো সব সত্যি?তবে কি শ্রীধরের আত্মা কালকে আমার কেবিনে তার মৃত্যুর খরব দিতে এসেছিল?মনের মধ্যে নানার প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগলো,কি করবো কিছুই ভাবতে পারছি না,মাথাটা আমার ঘুরে গেলো ,আমি ফ্লোরে গড়িয়ে পড়লাম ,কয়েক জন কিচেনের ছেলে আমাকে দেখে তৎক্ষণাত মেডিকেল সেন্টারে কল করলো,আর ঠিক সেই সময় কয়েকজন মেন্টানেন্স অর্থাত ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের কর্মী লিপ্টটা সারানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, আমার মাথায় একটু জল দিতেই আমার জ্ঞান ফিরে এলো,আমি বললাম আমি ঠিক আছি ধন্যবাদ ,মনের মধ্যে আবার একটা ভয় ছ্যাঁত করে উঠলো। আমি কি তাদের বলবো শ্রীধরের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহটা পড়ে আছে এই লিপ্টের নিচে,আমি কি করে প্রমান করবো,গতকাল রাতে শ্রীধরের আত্মা এসেছিল তার মৃত্যুর সংবাদ দিতে,আমাকে সবাই পাগল বলে উড়িয়ে দেবে,বা আমার চাকরী ও যেতে পারে,নতুবা নানার প্রশ্নের মুখেও পড়তে হতে পারে পুলিশের কাছে। কি করবো কিছুই ভাবতে পারছি না,পা যেন আর চলতে চাচ্ছেনা,শরীরটা খুব ভারি হয়ে গিয়েছে,মুখে কোনো কথা বলার শক্তি নেই আমার,কিছু দূরেই মেন্টানেন্সের কাজ চলছে,একজন হান্দুরাসের কর্মী হঠাৎ বলে উঠলো হয়াট ইজ দিস!ও মাই গড,অন্যরা লিপ্টের দরজা দিয়ে দেখলো নিচে কেউ উপড় হয়ে পড়ে আছে নিচে রক্ত শুখিয়ে চারদিক একাকার,সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল ও সিকিউরিটি কে সংবাদ দেওয়া হলো এবং জাহাজের কন্ট্রোলরুমে খবর দেওয়া হলো সব নিয়ম মেনে মৃতদেহ তোলা হলো,সেই মৃতদেহ আর অন্য কারও নয় আমাদের জাহাজের ক্রু শ্রীঘরের।মৃতদেহ দেখে সবাই চমকে উঠলো।একি বিকৃত চেহারা,অবশেষে শ্রীধরের নিখোঁজের কিনারা হলো। আমার একটাই প্রশ্ন আত্মা বা ভুত বলে কি কিছুু হয়?না আমার অবচেতন মনের ক্লান্তির ছায়াচিত্র দেখেছিলাম ঐ রাতে। আমি জানি না,বুঝে উঠতেও পারিনি আজও,তোমাদের কি মনে হয়?আত্মা বা ভুত বলে কিছু হয় কি?
মন্তব্য (1)