বোরো ধান
আমাদের বাড়ী বিলের ধারে এবং কিছু বোরো জমি ছিলো আমাদের। এই জমিকে আমরা বলতাম বোরো ক্ষেত। এই ক্ষেত থেকেই ঢাকাইয়ারা গ্রামের লোকদের অবজ্ঞার ছলে ক্ষেত বলে। যার অর্থ আনস্মার্ট। নভেম্বর ডিসেম্বর মাসে বিলের পানি একেবারে কমে যেত। তখন বোরো জমি কচুরীপানা ও ঘাসে পূর্ণ থাকতো। সেই কচুরীপানা ও ঘাস পরিস্কার করে সেই জমিতে বোরো ধানের আলি লাগানো হত। আলি অর্থ বোরো ধানের চারা। তখন জমিতে কিছুটা পানিও থাকতো। বোরো ধানের চারা লাগানোর পর ২/১ বাব আগাছা পরিস্কার করতে হত। তাতেই বোরো ধান হয়ে যেত। এপ্রিল মাসে (২/১ মাস কমবেশী হতে পারে) তা কাটার সময় হত। এক অর্থে বোরো ধান আমাদের উৎসব উদযাপনে সমস্যা সৃষ্টি করতো। কারণ এই ধান বোনার কাছাকাছি সময় বড়দিন এবং কাটার কাছাকাছি সময় পাস্কা পর্ব পালন করা হত। এই ধান কেটে ধানের গোছা দিয়েই আটি বাঁধা হত। ছোট ছোট আটিগুলো ১০/১৫ টা একত্র করে বোঝা বেঁধে বাড়ীতে আনা হত। পরে মলন দিয়ে ধান ও খের আলাদা করা হত। পরে এই ধান শুকনা দিয়ে (রোদে দিয়ে) গোলাজাত করা হত এবং খের শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হত। পরে এই খের গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হত। এই কাজগুলো ছোটকালে আমরা মনের আনন্দে করতাম।
15.04.2021