মিঠুকে কেমবল মাত্র ডনেল-ই ভালো রাগাতে পারে। অন্যেরা তা পারে না। পেরেরা তো না-ই। মিঠুর অভ্যাস হলো এক কান দিয়ে শুনবে অন্য কান দিয়ে তা ফুস। মিঠুর পিছনে লেগে থাকার কয়েওটি কারণ ডনেলের আছে। তার মধ্যে হলো এক সাথে বেড়ে উঠা, সকই ক্লাশে পড়া এব্ং মেস জীবনে সুমধুর সময়গুলো এক সাথে পার করা।

সেইবার মিঠু বড়দিনে একটি নীল শার্ট কিনেছিলো। শার্টটি শুধু গায়ে দিয়েছে, অমনি ডনেল এর মন্তব্য গতকাল দেখলাম এই শার্টটি খালপাড়ে কে যেন শুকাতে দিয়েছে। মন্তব্যটা আসলে শার্টের না অন্য কিছু বলার ঈঙ্গিত আর কি!

মেস জীবনে বহুবার মিঠু ম্যানেজারী দায়িত্ব পালন করেছে। তখন ডনেল এর খোঁচানোর মাল মসলা জোগার হতো মিঠুর বাজার এব্ং ভুলক্রঅমে কোন জামা ক্রয়! গামছা কিনেও মিঠু টিপ্পনী থেকে রেহাই পায়নি। এই দিকে বোকা পেরেরা সাহেব একবার ম্যানেজারের দায়ত্ব পালন করতে গিয়ে পাঁচশত টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। একেই বলে কপাল। কারও পৌষ মাস, কারও ভর্তুকি!

মিঠুকে নিয়ে ডনেল বা চয়নের মজার একটি কৌতুক আছে। তাদের মতান্তরে মিঠু ছয়-নয়ে খুব উস্তাদ! একবার মাইকেল মাষ্টার মিঠুকে দিয়ে একটি চকলেন আনতে পাঠালেন দোকানে। এব্ং তিনি এও বলে দিলেন, খুব তো উস্তাদ! এবার দেখি ২৫ পয়সার চকলেট থেকে কিভাবে নয়ছয় করিস। মিঠু দোকান থেকে ২৫ পয়সা দামের চকলেট এনে মাইলেন মাষ্টারের হাতে দিয়ে মুচকি হেসে দূরে দাঁড়িয়ে রইল। মাষ্টার বললেন, পেরেছিস নয়ছয় করতে। অতো সোজা না। মিঠু এবার মুড মেরে বলল, দুই পয়সা মেরেছি। মাষ্টার তো অবাক! কিভাবে রে মিঠু?
স্যার চকলেটে দুইটা চুষণ দিয়ে দুই প্যসার খেয়ে নিয়েছি। মাষ্টার চেয়ার চুপ করে বসে বইল।

বড়দিন পালন শেষে মিঠু উধাও। কাউকে কিছুই বলেনি। গায়ে ছিলো খালের ওপাড়ে শুকানো নীল শার্ট। আজ তিনদিন যাবত পরে আছে। বড়দিনের পরের দিন সে কোথায় গেছে। কেউ বলতে পারেনি। তিন দিন পর তার খোঁজা শুরু হলো। ডনেল বলেছে মেয়ে নিয়ে ভেগেছে। কিন্তু না মেয়ে বাড়িতেই আছে। কেউ বলেছে পাবনা গেছে। না সেখানেও না। যে যেখানে বলেছে সব খানে খোঁজা হলো। না কোথাও নেই। হাসপাতাল, মর্গ, থানা কোথাও পাওয়া যায়নি। তাহলে গেলো কোথায়??

নিপু ভিবিন্ন জায়গাqয় দাওয়াত খেতে অভ্যস্থ। সে মোটামুটি আনাচে-কানাচে সব চিনে জানে। সে চলে গেল সাভার। কারণ কিছুদিন আগে সাভারের আমিন বাজার বীজের কাছে একটি বাস দুর্ঘটনায় ৩১ জনের শলিল সমাধী হয়েছে। সাভার বাসষ্ট্যান্ড নামার সাথে সাথেই সাভারের বনিফাসের সাথে দেখা। সেও ঘটনা জানে। সে নিপুকে বলল, কাল একটি নদীতে একটি লাশ পাওয়া গেছে, চল থানায় গিয়ে খোঁজ নেই। যেই বইলা সেই কাজ। থানায় যে লাশটি আছে সেটা মিঠু না। ওসি বললেন আমিন বাজারের বাস দুর্ঘটনার কিছু ছবি আছে দেখেন তো আছে কিনা। এলবামটি হাতে নিয়ে এক পাতা উল্টাতেই দেখা গেলো নীল শার্ট পড়ুয়া মিঠুর চিরচেনা মুখটি অচেনা হয়ে ঘুমিয়ে আছে।

সব খোঁজ নিয়ে জানা গেল তাকে বেওয়ারিশ হিসেবে হিন্দু মনে করে লালবগ শ্মশানঘাটে তাকে মসাধিস্থ করা হয়েছে। নয়দিন পর তার গলিত দেহ নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
১১/২৪/২০১৪