কবিতা- “নির্বাক প্রতিবাদ”
শেখ ফারুক হোসেন

মোরা হাতুড়ি পেটানো মুগুড়,
যেভাবে চাইবে মহাজন
সেভাবে করবে ভোজন
রাঘঢাক বাদ যাক
এতসব মান ভান
আর নয়
মুগুড়ের ব্যবহার হবেই হবে
যত বাঁধা আসুক তবে
হাতুড়ির কাজ হাতুড়ি করবে
তাতে সময় আর অসময়।


মোরা নির্ঘুম রজনীপারের সাথি,
যেভাবে বলবেন প্রভুমনি
সেভাবে পাতবো অঙ্গ জানি
রাগ মান ফালতু
অশ্রু রক্ত আলতু
পড়বে তাতে প্রভু যদি মজা পাই
রাতের কানাই ঘুম মোদের নয়
ওটার অধিকার ঐ পারের বড় সাহেবের
রজনীর পাখি রাতজেগে করবে ডাকাডাকি
তাতে তারা বাঁচবে না মরবে
প্রভুর কি?

মোরা যুদ্ধবাজ মহাজনের ঢাল-তলোয়ার,
যেভাবে চালাবেন তিনি
সেভাবে চলবো জানি
জংধরা গতি হারা
রং চং ভং ছাড়া
কাটতে হবে এটাই নিয়তি
কাটতে কাটতে প্রভুর মনোরঞ্জন
ভাবনাহীন তলোয়ারের উৎসর্গিত জীবন
তলোয়ারের কাজ করতেই হবে
জীবন থাক চাই যাক
মহাজন খুশি তো?

মোরা হাতুড়ি পেটানো মুগুড়
যেভাবে চাইবে এদেশের আমলাবাপজি
সেভাবে চলবে শ্রমিক-মুজুর- কৃষক
হতদরিদ্র ভ্যানচালক-গাড়ির হেলপার-ড্রাইভার
কুলি, ফলবিক্রেতা, রাস্তার ভিক্ষারী
এমনকি আমার মতো বিবেকহীন
ঠাণ্ডারক্তের প্রাণি প্রতিবাদহীন
নির্বাক শিক্ষকসমাজ
যেভাবে চাইবে আমলামামা
সেভাবে চলবে সবার জীবন সংসার
সন্তান মানুষ হোক চাই না হোক
সমস্যা তাতে কি?
পিতা-মাতার পেশাতো আছে?
অসুবিধার নাই তো কোন বাকি।

মোরা হাতুড়ি পিটানো মুগুড়
শুধু জীবনে সুখ-শান্তির অভাব
তাতে কি? সমস্যা কোথায়?
মোদের কাজ তো আছে
পেটানোই মোদের স্বভাব ।