দেখতে দেখতে আয়েশার এবার চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ।
প্রকৃতির নন্দনকাননে বেড়ে উঠা মেয়েটা সদ‍্য শহরে এসে যেভাবে নিজের কর্মকাণ্ডকে সাধুবাদ জানাইতো নক্ষত্রের রাতে একাকী এলোচুলে তার মধ‍্যে খানিকটা পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। পড়াশোনায় অনেকটাই মনোযোগী সে ইদানীং।

হলে তার নতুন সিনিয়র রুমমেট এসেছে। শবনম মুস্তারী। সে একাধারে বহু গুণে গুণান্বিতা। সুস্বাদু মুখরোচক রান্না থেকে ললিতকলার বিদ‍্যাও তার নখদর্পণে রয়েছে।

আয়েশার ছন্নছাড়া জীবনটাকে সে আপনভাবে আনন্দ উল্লাসে মাতিয়ে রাখতে চায়। সর্বদা আয়েশাকে নিয়ে তার যত আয়োজন ও অংশীদারিত্ব আয়েশাও তার উপস্থিতিতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।


শবনম মুস্তারী ভাবে অমাবস‍্যার রজনীতে অগোছালো এই মেয়েটাকে বিবাহের কনে রূপে সাজানো গেলে মন্দ হতোনা।। যে কথা সেই কাজ।

নাসিকায় গোল নঁথ, হাত ভর্তি শৈল্পিক মেহেন্দির সুনিপুণ ডিজাইনে আপন মাধুরী মিশিয়ে আয়েশাকে সে সাজায়। সিঁথিতে টিকলি সমেত টানা কাজলের রূপরেখা আয়েশাকে ফুটিয়ে তুলেছে তমসাঘন স্বর্গের অপ্সরীরূপে।।।


আয়েশা শবনমের এই কর্মকাণ্ডে ক্রমশ মৃদু হেসে তার উঠতি যৌবনকে সাধুবাদ জানাইতেছে। সত‍্যিই বিবাহের কনে রূপে আগে কখনো সে সাজেনি।।।
সত‍্যিই তো তাকে সুন্দর লাগছে। হলের পার্শ্ববর্তী তরুণীরা দল বেধে ভূল্যোকের এই অপ্সরীকে দেখতে এসেছে আগ্রহ সহকারে।।।।

সজ্জিত লাল আভরণের এক ঘুমটা পরিহিত এবং সঙ্গে চূড়ির নিক্বণ ধ্বনি আয়েশাকে দর্পণের সামনে নিয়ে দার করাইল।।। যেন ইয়াসরিবের বেদুইন কণ‍্যার বিবাহ।

অমানিসাচ্ছন্ন পুরো গৃহকে যেন সে তার মত করে জাজল‍্যমান করে তুলিল।

শবনম মুস্তারীর দীর্ঘদিনের নিরাভরণ সংকট আয়েশার প্রতিমূর্তির মধ‍্যে যেন ফুটিয়া উঠিল।
আয়েশা মৃদু হেসে হেসে শয‍্যায় অভিমানী মুখ নিয়ে নববধূর ন‍্যায় বসে রইল যেন এক অচেনা রাজকুমারের অপেক্ষায়।

শবনম মুস্তারীর দীর্ঘশ্বাস আয়েশার হাসির আড়ালে ক্রমশ অমানিশার অন্ধকারে মিলিয়ে যেতে থাকে আলেয়ার মতো।

শবনম মুস্তারীর নতুন সঙ্গী
নববধূ আয়েশা!!