আমি শান্তি চাই না,
শান্তিকামী আমি আজ আর শান্তি চাই না।
আজ আমি শান্তির নামে আঁতকে উঠি–
মাঝ রাতে দুঃস্বপ্ন দেখা শিশুর মতো সন্ত্রস্ত হয়ে ফুঁপিয়ে উঠি,
চিৎকার করি- অনাকাঙ্ক্ষিত হাত-পা ছুড়ি!!
গলা শুকিয়ে যাওয়া দুগ্ধপোষ্য শিশুর মতো
আজ আমি শান্তির ভয়ে তৃষার্ত হয়ে উঠি!
আজ আমি আওরঙ্গজেব-রুপি শান্তির ভয়ে
সুজার গতিতে আরাকান পালাই!

একাত্তরের শান্তি কমিটি যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল-
কিশোরীর বুকের মাংসে শকুনের মত ঠোক্কর দিয়ে
তারা যে সুনিবিড় শান্তি অনুভব করতো সে শান্তি আমি চাই না!!
সতীদাহের নামে নারীদের পুড়িয়ে সমাজ যে শান্তি পেত
নিজগৃহ থেকে কন্যাশিশুদের জোড় তুলে নিয়ে ভোগ করে তাকে
রাক্ষস বিবাহ বলে চালিয়ে দিয়ে ক্ষত্রিয়রা যে শান্তি পেত
(আমি ক্ষত্রিয় তবু) আমি আজ আর সে শান্তি চাই না!


ব্যস্ত জনতার মাঝে অতর্কিতে প্রবেশ করে
তথাকথিত ভদ্র ছেলে সচকিত কিশোরীর স্তন স্পর্শ করে
পাশবিক ক্ষিপ্রতায় করতলে যে মোলায়েম শান্তি অনুভব করে;–
তিনরকম জানোয়ারের অকাল বীর্যপাতের ফসল
গুরুমিত রাম রহিম তরুনীদের আপাদমস্তক মাংস চিবিয়ে
সেটাকে ‘ঈশ্বরজ্ঞান দান’ বলে চালিয়ে
যে ঐশ্বরিক শান্তি অনুভব করতো
আমি আর সেই শান্তি চাই না!!

যে স্বর্গীয় শান্তি ভোগের জন্য কিছু জন্মদাতা
তথা, তথাকথিত পিতা আপন কন্যা সন্তানের মুখবেধে
গোডাউনে আটকে যৌন ক্ষুধা মেটায় ;–
যে শান্তি ভোগের জন্য সম্রাট শাহজাহানরা
‘নিজের গাছের ফলভোগ' যুক্তি দেখায় –
(নিজের অজান্তে) পিতাকে বাহুবলে হত্যা করে
মহানযোদ্ধা রাজা ইডিপাস আপন মাতার গর্ভে
তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছিল যে শান্তির লোভে
আমি সেই নারকীয় শান্তি চাই না!


যে শান্তি নির্ঝঞ্ঝাটে ঘুমোতে দেয় না,
যে শান্তি নিয়ত মিত্রতা করে অশান্তির সাথে
যে শান্তি মানুষের ঘড়বাড়ি জ্বালানোর নির্দেশ দেয়,
যেই বিকারগ্রস্থ শান্তির ভয়ে আজ
মানুষ ইদুরের মতো গর্তে লুকোচ্ছে;–
যে শান্তি শান্তিতে হত্যার অনুমোদন দেয়,
যে শান্তির মানে অন্যায়-অত্যাচার -নির্যাতন
আমি সেই শান্তি আর চাই না...
আমি চাই শান্তির নির্বাসন!

আমি আর শান্তি চাই না,
আজ আমি শান্তির বিরুদ্ধে
ধর্মঘট করি- আন্দোলন করি,
ভীষণ শান্তিকামী আমি,
আজ শান্তি তাড়াতে রাজপথে নামি।
আমি আর শান্তি চাই না,
আমি চাই আহসান হাবীবের ‘সেই অস্ত্র’!
আমি চাই নচিকেতার ‘শুধু বিষ’
শান্তিকামী আমি আজ এই নির্মম শান্তি থেকে মুক্তি চাই।
কেউ দিতে পারো খানিকটা অশান্তির হদিস?