সকল মানুষের এই পাঁচটা প্রশ্নের উত্তর জানা দরকার। প্রশ্ন গুলো মৌলিক প্রশ্ন হলেও এর উত্তর কঠিন। কি কি প্রশ্ন?
প্রথম প্রশ্ন- আমি কে?
দ্বিতীয় প্রশ্ন- তিঁনি কে?
তৃতীয় প্রশ্ন- আমি কোথায় থাকি?
চতুর্থ প্রশ্ন- তিঁনি কোথায় থাকেন?
এবং শেষ প্রশ্ন- তাঁর সাথে আমার কি সম্পর্ক?
যদি সোজা ভাবে জবাব দিই, তাহলে কি দাঁড়ায়?
আমি শঙ্খজিৎ ভট্টাচার্য।
তাঁর বহু মূর্তি আছে, কাকে ছেড়ে কাকে বলবো, তবে সবই এক।
আমি আমার বাড়িতে থাকি।
তিঁনি থাকেন মন্দিরে।
আমি বিপদে পড়লে তাঁকে ডাকি।
গভীর ভাবে যদি ভাবি, তাহলে দেখা যাবে যে এই জবাব গুলো একজন শিশুর জবাব।
দেখুন, আমরা কি বলি- আমার শরীর, আমার চোখ, আমার হাত, আমার পা ইত্যাদি। আমি শরীর বা আমি চোখ বা আমি হাত বা আমি পা হয় কি? না হয় না। তাহলে আমি কে? সাধুসন্তরা বলেন, 'জড় ও চৈতন্য মিলিয়ে জীবন'। আমি সেই চৈতন্য। জড়-এর নাম শঙ্খজিৎ।
তাহলে তিঁনি কে? তিঁনি পরম ব্রহ্ম। দেখবেন, দীপাবলিতে আমরা অনেক গুলো ছোট প্রদীপ কিনি আর কেবল একটাই বড় প্রদীপ কিনি। ওই ছোট প্রদীপ গুলো চৈতন্য আর ওই বড় প্রদীপটা হল পরম ব্রহ্ম। তাঁর কোনো রূপ নেই, কোনো রং নেই, নেই কোনো মূর্তি, নেই কোনো লিঙ্গ। চৈতন্য হল পরম ব্রহ্ম-এর অংশ বা বংশ।
এখানে বলে রাখি, প্রায় আমরা তর্ক করি আর বলি, 'আমার ঠাকুর বড় আর তোমার ঠাকুর ছোট'। এর কারণ আমরা যে মূর্তিকে পুজো করি, তাঁকেই ভগবান ভাবি, পরম ব্রহ্ম-এর প্রতিনিধি ভাবি না! যদি তা ভাবি, তাহলে তাঁর নানা রূপের মধ্যে দেখবো এক ও অভিন্ন রূপ। শ্রী কৃষ্ণ বা মা কালী বা মহাদেব তিন জনই পরম ব্রহ্ম-এর প্রতিনিধি- পুজোর মন্ত্র আলাদা হলেও তাঁরা অভিন্ন। তেত্রিশ কোটি দেবতা আসলে এক। তাই পুজো করার সময় দেখতে হবে আবেগ যেন ভক্তি-কে না মেরে ফেলে। তাঁকে আবেগ দিয়ে ডাকলে সব কিছু আলাদা দেখবো, আর ভক্তির মতো ভক্তি করলে সব কিছুর মধ্যে ঐক্য খুঁজে পাবো। তাই তাঁকে মন ও প্রাণ দিয়ে ডাকো, তাহলেই জানবে আমি কে ও তিঁনি কে।
চলবে
মন্তব্য (1)