ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়! চোখ অন্ধকার দেখে! মাথা ঘুরতে শুরু করে! এই বুঝি প্রাণটা বেরিয়ে যাবে! যার কিছু হারায় নি, তারও প্রাণে ভয়!
হ্যাঁ, নেপালের কথা বলছি।
গবেষকেরা বন্যার কারণ হিসাবে প্রকৃতির আক্রোশের কথা বলেছেন- হঠাৎ হিমবাহের ধসে পড়া। জলের অপর নাম নাকি জীবন- জলের অপর নাম মরণ! জল ভাসিয়ে নিয়ে গেছে গোটা গ্রাম, নগর ও শহর। কোটি কোটি পরিবার নিখোঁজ। খবরের কাগজে রোজ রোজ লেখা হচ্ছে সেই ভয়ংকর খবর- পড়তে পড়তে চোখে জল এসে যাচ্ছে। না, খবরের বিশ্লেষণ করতে আমি বসি নি। আমি বসেছি বন্যার কারণ খুঁজতে ও মানুষের দুর্দশার কথা বলতে।
প্রথমে বন্যার কারণ খোঁজা যাক।
মানুষের কুকর্মের ফল মানুষ ভোগ করছে। আমরা জঙ্গল কেটে শহর বানিয়েছি, আর বাড়িয়েছি পৃথিবীর তাপমাত্রা। আমরা নদীর গতিপথ আটকে জনপদ স্থাপন করেছি- যেচে ডেকে এনেছি নিজেদের বিপদ। নদীর স্রোতের নাম সময়, তাকে কি বেঁধে রাখা যায়? আমরা বড় বড় কোম্পানি তৈরি করেছি আর নোংরা ফেলেছি প্রকৃতির মুখে- মুখ কালো করেছি তার। আমাদের গাড়ি রাজপথকে রূপ দিয়েছে কিন্তু গাড়ির ধোঁয়া রাজপথের গুণ নষ্ট করেছে। কথায় কথায় আমরা যুদ্ধ করি, বোমা ফাটাই, ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ি, অপরকে মারার আগে নিজের কবর খুঁড়ি। বিশ্বের বায়ু দূষিত করে তুলেছি। আমরা সমুদ্রেও নির্মাণ করেছি, জলের প্রাণী গুলোকে যন্ত্রণা দিয়েছি। আর কত উদাহরণ দেবো।
প্রকৃতি মা আর কত লাঞ্ছনা সহ্য করবেন- সহ্য করার তো একটা সীমা থাকা চাই! তাই তিনি তার রূপ দেখিয়েছেন- ঢিলের বদলে পাটকেল মেরেছেন। প্রকৃতিকে দোষ দিয়ে কি লাভ? নিজের দোষ ঢাকতে মানুষ কেবল প্রকৃতির ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেয়। কথায় বলে, যেমন কর্ম, তেমন ফল। নিজেদের পাপের ফল, নিজেরা ভোগ করুন।
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন-এর কারণে হিমালয়ের বরফ গলতে শুরু করেছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন-এর কারণ কি? তা আমি আগেই বলেছি। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন-এর জন্য কারা দায়ী? আমরা ছাড়া কারা? নিজের ভাগ্য মানুষ নিজে গড়ে- সৌভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্য।
ভাববেন না যে আমি মানুষের দুঃখে দুঃখী নই। আমি দুঃখী বলেই ওপরে থুতু ফেলছি না, কারণ তা নিজের গায়েই পড়বে। প্রকৃতিকে দোষ দিয়ে কোনো লাভ নেই। দোষ মানুষের।
চলবে
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।