চারদিকে অন্ধকার কিন্তু দা টা চিক চিক করছে মনে হয় যেনো চাঁদের আলোতে কোনো রূপার দা।
চিক চিক করা রূপার দা নিয়ে এগিয়ে আসছে আমার দিকে, আস্তে আস্তে পা পেলে এগিয়ে আসছে..
 শিকার করার আগে বাঘ... শিকারীর দিকে যেভাবে এগিয়ে যায়,  
অন্ধকারে লোকটির চেহারা স্পষ্ট নয় শুধু তার স্থির জলন্ত চোখ দুটো  দেখা যাচ্ছে,
একটু দূরেই একটি নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখলাম, অন্যদিকে মুখ করা চেহারা দেখা যাচ্ছে না কিন্তু ঘাড়ের দিক দিয়ে কালো রক্ত গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ছে তা চোখ এড়ালো না।
লোকটা এক পা.. এক পা করে আমার আরো কাছে চলে আসতেছে....
আমার এখুনি দৌড়ে পালানো উচিত কিন্তু দৌড়ানোর শক্তি হারিয়ে ফেলেছি,
পা দুটি মনে হয় যেনো শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, অথবা মাটির সাথে শক্ত কতে বেঁধে দিয়েছে যেনো।
পায়ের কোনো অস্তিত্ত্ব টের পাচ্ছি না।
লোকটা এখন আর মাত্র আমার থেকে একহাত দূরে,
লোকটার চেহারায় হাসি,
এমন জগন্য হাসি মানুষ হাসতে পারে না,
পিশাচের মতো হাসতে হাসতে লোকটি ডান হাত একটু একটু করে উপরে তুলছে......
আমি তাকিয়ে আছি রূপালি দা টির দিকে,
কিছুক্ষনের জন্য মনে হলো দা টিও আমার দিকে তাকিয়ে হাসতেছে।

.
.
.
.
.
অন্ধকার..
...
আর ঝিঝিপোকার তীব্র শব্দ কান ফেটে যাওয়ার মতো অবস্থা,
কোথায় দাঁড়িয়ে আছি অনুভব করার চেষ্টা করতেছি,
চারদিকে অন্ধকার এ ঘেরা নিজের হাত পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না,
আকাশের দিকে তাকালাম কোনো তারা দেখলাম না শুধু দূর আকাশে বাঁকা চাঁদকে হারিকেনের মতো ঢিম ঢিম আলোতে জ্বলতে  দেখলাম।
এভাবে কতক্ষন কাটলো ঠিক জানি না, তবে আস্তে আস্তে অন্ধকারে চোখ সয়ে গেলো, এখন মোটামুটি সব দেখতে পাচ্ছি,
আমি দাঁড়িয়ে আছি আমাদের পুকুর পাড়ে,
আমার সামনে একটি চেয়ার,
উপর দিকে তাকালাম দেখলাম চেয়ারের উপরে একটি ফাঁসির দড়ি ঝুলানো।
ফাঁসির দড়ি দেখার পর আমার শিরদাঁড়া দিয়ে হিমশীতল বাতাস বয়ে গেলো।
এতক্ষন যে কানফাটানো ঝি ঝি পোকার ঢাক শুনতেছিলাম, এখন তার মধ্য থেকে একটা মানুষের কন্ঠ শুনতে পাচ্ছি,
তবে অনেক মানুষের কন্ঠটি অনেক ক্ষীণ, কি বলছে বা কোন দিক থেকে আসছে বোঝার চেষ্টা করতেছি।
একটু পরে ঝি ঝি পোকার আওয়াজ ক্ষীন হতে থাকলো আর কন্ঠ টির আওয়াজ বাড়তে শুরু করল।
এখন পুরোপুরিভাবে বোঝতে পারছি কন্ঠ টি আমাকে কি বলার চেষ্টা করতেছে।
কিন্তু আওয়াজ কোন দিক থেকে আসতেছে বোঝতে পারছি না।
মনে হয় যেনো চারদিক থেকে একি সময়ে চেঁচিয়ে উঠছে কন্ঠটি,
কন্ঠটি শুধু দুটি শব্দ পুনোরাবৃত্তি করতেছে...
ঝুলে পড়...
ঝুলে পড়..
ঝুলে পড়...

যত শক্তি আছে দুই হাত দিয়ে কাণ চেপে আছি,
তারপরেও মনে হয়  কান ফেটে যাবে,
আমি আর কিছু ভাবতে পারছি না, দুই হাতে কান চেপে ধরে এক পা এক পা করে এগিয়ে যাচ্ছি চেয়ারের দিকে.....
.
.
.
.
.
ঘুম ভেঙে গেলো,শরীর  ঘামে ভিজে একাকার, খাটের চাদর আর বালিশ ভিজে গেছে ঘামে,
উপরের দিকে তাকালাম, না কারেন্ট যায় নি, ঘট ঘট করে দাদার আমলের ফ্যান টির চলার আওয়াজ পাচ্ছি।
বালিশের পাশ থেকে ফোন হাতরে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করতেছি কয়টা বাজে তা জানা দরকার।
যাক মোবাইল খুঁজে পেয়েছি কয়টা বাজে জানা যাবে।
কিন্তু মোবাইলের লক বাটনে ক্লিক করার আগেই কাঁপতে থাকা হাত থেকে মোবাইল নিচে পড়ে গেছে, পাকাতে পড়ে মোবাইল খুলে যাওয়ার আওয়াজ শুনতে পেলাম।
ওইদিকে আর তাকালাম না চোখ বন্ধ করে ফেললাম,রুমের অন্ধকার যেনো আমাকে গ্রাস করে নিচ্ছিলো।
চোখ বন্ধ করে ঘামে ভিজা চাদরের উপর শুয়ে আছি এখন কানে শুধু হিউম্যান ক্লক এর আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি।
ঠিক..... ঠিক.....ঠিক...