প্রতিশ্রুতি ভাঙার তীব্র শব্দে
পৃথিবীটা আজন্ম বধির।
তবুও দিগন্তের ওপারে যাবো বলে
একবুক নিবিড় তৃষ্ণা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি।

শহরের জং-ধরা রেললাইন
যেখানে শূন্যতায় মিশে গেছে,
শেষ বিকেলের রোদ আর মানুষের দীর্ঘশ্বাস
একাকার হয়ে আছে,
ঠিক সেখান থেকেই শুরু আমার নিঃসঙ্গ পদযাত্রা।

আমার নিজস্ব কোনো আকাশ নেই।
কেবল তোমার না-বলা কথার শ্রাবণ আছে।
সেই শ্রাবণে একা একা ভিজতে ভিজতে দেখেছি,
চেনা মুখ কীভাবে অচেনা পাথর হয়ে যায়,
বুকের ভেতর সযত্নে লুকোনো কান্নাগুলো,
ভোরের শিউলি না হয়ে
রাতের নিকষ অন্ধকার হয়ে ঝরে।

তবু হাঁটছি।
দিগন্তের ওপারে একটা রোদ্দুর-মাখা উঠোন আছে জেনেই,
পাঁজরে বাজছে এক উত্তাল সমুদ্রের ডাক।

সবাই খোঁজে একটা ঠিকানা,
আমি খুঁজি একমুঠো আকাশ,
যেখানে পৌঁছালে সব কোলাহল থেমে যায়,
জমে থাকা অভিমান নীরবে গলে যায় আলোয়।

আমি কেবল সেই একমুঠো আলোর জন্যই
এতটা পথ হেঁটেছি।
যদি সেখানেও কেউ কথা না রাখে,
যদি সেখানেও কেবল শূন্যতা থাকে,
তবে সেই নিরেট শূন্যতাকেই
পরাবো আমার শ্রেষ্ঠ কবিতার মুকুট।