পোস্টার
রিদওয়ান নোমানী

.
শরিফুলের মনে পড়ে, শরিফুলের তখন ১২/১৩ বছর বয়স। ক্লাস সেভেনের প্রথম সাময়িকও শুরু হয় নাই। ক্লাস বাঙ্ক দিয়ে গঙ্গামতি গেছিলো সেদিন। ঝাউবনের মাঝখান থেকে একটা সরু রাস্তা, রাস্তার দুই পাশে কেওড়াসহ অসংখ্য গাছ সমুদ্রের বাতাসে দুলছে। সমুদ্রের শো শো তীব্র বাতাস তাকে আলতো ছুঁয়ে যাচ্ছে।

প্রাইমারিতে পড়তে ছোট মামা শরিফুলকে অগণিতবার সমুদ্রে নিয়ে এসেছে। প্রত্যেকবারই সে ভিন্ন ভিন্নভাবে রোমাঞ্চিত হয়েছে। প্রত্যেকবারই সমুদ্রকে লেগেছে নতুন। আট দশ বেশধারীর মতো সমুদ্রও রূপ পাল্টিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আর সে যেন তা ধরে ফেলছে। সলজ্জ চোখে শরিফুল তাকাচ্ছে সমুদ্রের দিকে। বিস্তীর্ণ আকাশের কোলে সমুদ্র তখন উশৃংখল। স্বয়ং আকাশের জন্যও হয়ে উঠছে অনিরাপদ।

এমনই ফুরফুরা মনে সে এসে নামলো মধুখালী হাইস্কুলের সামনে। এই স্কুলেই সে পড়ে। স্কুলটারে ঘিরে ছোটখাটো একটা বাজার গড়ে উঠেছে। সেই বাজারে এলাকার তাবৎ মোড়লরা বসে। চা, বিড়ি ফুঁকে। শানু মিয়ার দোকানরে পার্লামেন্ট বানায়৷ দুই একজন নেতা, আর সেই নেতাদের কেন্দ্র করে ২০/৫০ জন পাতি নেতা সেই পার্লামেন্টে মজমা জমায়। সেই মজমাতে কখনো সখনো শালিশ বসে।

সে যখন বাজারে আসে, তখন নেতাদের কেউ কেউ বাজারে আসছে মাত্র। যারা এসেছে তারা মন্টু গাজীর বাড়িতে পেটপুরে নেমন্তন্ন খেয়ে এসেছে। ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি স্বপন হাওলাদার ছিলো বিশেষ অতিথি। স্বপন হাওলাদাররা গ্রামের ত্রাশ। তাদের ওপর কথা খান সাবও বলেন না। যদিও গ্রামের সবাই খান সাবরে সমীহ করে চলে। নেতা, পাতিনেতারাও তার ব্যতিক্রম না। তারপরও নেতাদের স্বার্থবিরুদ্ধ কাজে খান সাব কখনো যাবেন না। তা হলফ করেই বলা যায়।

কালাম মাস্টারের কী কম প্রতাপ ছিলো! মাঘীপূর্ণিমার রাতে স্বপন হাওলাদারের চ্যালা ইয়ামিন সন্নামত আর মতি তালুকদার মাস্টারের অণ্ডকোষ চেপে ধরে নাই? কেউ কোনো রাও করতে পারছে? পারে নাই।

টমটম থেকে নেমে শরিফুল চানাচুর কিনতে বাজারে ঢোকে। হাঁটতে হাঁটতে ব্রিজের দিকে আগায়। ব্রিজের গোড়ায় দুধাল কাকুর দোকান। চানাচুরটা ওখান থেকেই কিনবে। ঠিক সেই মুহূর্তেই তার জীবনের স্মরণীয় কাণ্ডটা ঘটে যায়।

মধুখালীতে তখন কারেন্ট আসে নাই। তবে কারেন্টের খাম্বা ঠিকই বসানো ছিলো। আর সেই খাম্বায় লাগানো ছিলো, স্বপন হাওলাদারের তিনটা দোয়াপ্রত্যাশী পোস্টার। স্বপনের বুক-পিঠ নাই বলে লোকজন তারে সিংহের মতো ভয় পায়। তার ডরে কখনো কারিতাসের দোতলা বিল্ডিংটাও থরথর করে কাঁপে।

খাম্বার সামনে স্বপন হাওলাদার তখন চ্যালামুণ্ডাদের সাথে ক্যারাম বোর্ড খেলছিলো। প্রধান চ্যালা ইয়ামিন সন্নামত মতি তালুকদাররে বলতেছিলো,

: ইউনিয়ন পরিষদের ইলেকশনে এইবার স্বপন ভাইরে মেম্বার বানাইয়া আনতে অইবে মতি...

: তুমি আমার শাউউয়া বোঝো, আমরা বাইচা থাকতে স্বপন ভাই মেম্বার অইবে না ক্যা? ভোট না দেলে ফাইরালামু না!

বলতে বলতে ইমোশনাল হয়ে যায় মতি। স্বপন হাওলাদার মতির পিঠ চাপড়ে বলে,

:তোরা থাকতে আমারে কোন ছামার পো ঠেকাইবে বাবুল!!

বাবুল ফরাজি পোষা কুত্তার মতো হাসিহাসি মুখে,

: হেইডাই ভাই, হেইডাই ভাই...

বলে গলে পড়ে।

ঠিক সেই মুহূর্তে শরিফুল একদলা থুতু পাকিয়ে খাম্বার দিকে ছুঁড়ে মারে। থুতুটা গিয়ে পড়ে স্বপন হাওলাদারের খানদানি গোঁফের ওপর। একদম পোস্টারের ভেতর থাকা গোঁফের ওপর! কাণ্ডটা স্বপন হাওলাদারের চোখের সামনেই ঘটছিলো।

থুতুটা শুধু পোস্টারের ওপর নয়, শৌর্যবীর্যের ওপরও গিয়ে পড়েছে। মুহূর্তেই হুংকার দিয়ে ইয়ামিন সন্নামত কঠিন মুখ করে রূঢ় কণ্ঠে বলে ওঠে,

: এই ছ্যামড়া তুই কামডা করলি কী!!

ইয়ামিনের কথা শেষ হতে না হতেই মতি শরিফুলের দুই গালে দুইটা কষিয়ে থাপ্পড় মেরে বসে। তাতেও ক্ষান্ত হয় না বাবুল গাজী। এক পায়ে ভর দিয়ে কান ধরে দাঁড় করিয়ে দেয় শরিফুলকে।

২

.
স্মরণীয় কাণ্ডটা শরিফুলের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। তারও বাসনা জাগে পোস্টারে নিজেরে দেখার। কত পোস্টার দেখেছে সে। উসমান খাঁর পোস্টার। ইদ্রিস মোল্লার পোস্টার। আমেনা বিবির পোস্টার। প্রত্যেকটা পোস্টারই আলাদা। তবুও শরিফুলের মনে হয়,

‘প্রত্যেকটা পোস্টারই যেন বলছে, আমাকে চিনে রাখো। আমি মহাপরাক্রমশালী। আমি তোমাদের ওপর কায়েম করেছি অসীম প্রভুত্ব। আমার কতৃত্ব গ্রহণ করো হে অক্ষম গ্রামবাসী’

পোস্টারের অভ্যন্তরীন ঐক্য নিয়ে অনেক ভেবেছে শরিফুল। সে জানে, পোস্টারে জায়গা না পেলে, ঊনিশ থেকে বিশ হলেই চড়িয়ে গাল লাল করে দেবে কেউ না কেউ।

চনমনে স্বভাবের শরিফুল নাইনে উঠেই ছাত্রলীগে জয়েন করে। ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি তখন মনসুর ভাই। মধুখালী মনসুরের বাপের বাড়ি না, মামার বাড়ি। তার মামা হাসমত মৃধা কৃষকলীগের ইউনিয়ন সেক্রেটারি। সেই সুবাদে অনেক সিনিয়রকে ডিঙিয়ে সভাপতি বনে গেছে। মাস ছয়েকের মধ্যেই শরিফুল মনসুর ভাইয়ের ডান হাত হয়ে ওঠে। একে ওকে মেরে তার দিন ভালোই যাচ্ছিলো। অফুরন্ত না হলেও বেশ কিছু কাঁচা পয়সা হাতে আসতো।

এমনই এক দুরন্ত সময়ে শরিফুলের জীবনে চাঁদের মতো উজ্জ্বল দ্যুতি ছড়িয়ে ধীর পায়ে এসে উপস্থিত হয় ভদ্র স্বভাবা সুমাইয়া। সুমাইয়া খান সাবের ছোট মেয়ের ঘরের নাতনি। সিক্সে এসে মধুখালী হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছে। যেমন তার মেধা, তেমন তার রূপ। দশ গ্রামে এমন মেয়ে মেলা ভার। খান সাবের আদরের নাতনি বলে কথা। স্যার, ম্যাডামরা তাই ওর বিশেষ দেখভাল করতো।

শরিফুলের নজর যায় সুমাইয়ার ওপর। সে তো লাজুক না। সে ভয়ই বা পায় কারে? আজকাল স্বপন হাওলাদারও তারে তোয়াজ করে। মনসুর ভাইয়ের মদদ পেয়ে সে তখন গ্রামের নতুন আতংক।

একদিন সুমাইয়ার ক্লাসরুমে গিয়ে হাজির হয় শরিফুল। তখন টিফিনের টাইম ছিলো। পাশের বেঞ্চির বান্ধবীরা ভয়ে অনেকটা নাই নাই অবস্থা৷ সে গিয়ে বসে সুমাইয়া সামনের টুলে। সুমাইয়া তখন ভয়ে, লজ্জায় লাল টমেটোর মতো জড়োসড়ো। শরিফুল একটা চিঠি গুঁজে দেয় বইয়ের খাঁজে। আর উঠতে উঠতে গলা ছেড়ে গায়, ‘ আচ্চা চালতা হু দুয়ায়ো মে ইয়াদ রাখনা/মেরে জিকির কা জুবানে সাওয়াদ রাখনা’।

৩
.
খেপুপাড়া মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজে ভর্তির পর শরিফুল আর ইউনিয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তার জন্য খুলে যায় বিশাল এক সাম্রাজ্যের ফটক। এতদিনে সে পদপদবির চালটা ভালোভাবেই বুঝে গেছে৷ তাই কলেজে উঠে কালবিলম্ব না করেই সদরের খালিদ ভাইয়ের কাছে ধরনা দেয়।

কোনোভাবে যদি কলেজ কমিটির কোণাকাঞ্চিতে ঢুকে যেতে পারে। তাহলে কেল্লা ফতে। তার বহু বছরের পুরনো শখ মিটে যাবে। মনে মনে ঠিক করে ১০০০ পোস্টার করবে তখন। ৫০ টা পোস্টার লাগাবে মধুখালী বাজারে। ৩ টা লাগাবে স্বপন হাওলাদারের বাড়ির সামনের খাম্বাতে। আর ৬ টা লাগাবে খান সাবের কাচারি ঘরের বারান্দায়। সুমাইয়া তখন সকাল বিকাল তার শৌর্যবীর্যের সাক্ষাৎ পাবে। পোস্টারের ভিতর থেকে সে কতৃত্বের বন্ধনে আটকে রাখবে সুমাইয়াকে।

তিন মাস খালিদ ভাইয়ের পিছে লেগে থেকে, কলেজ কমিটিতে আপ্যায়ন বিষয়ক যুগ্ম-সম্পাদক হিসেবে এক প্রস্থ জায়গা পায়। ১০০০ পোস্টার ও ৫০ টা ফেস্টুন ছেপে শরিফুল পুরনো শখ পূরণ করে। পোস্টারে শরিফুলকে নায়কের মতো দেখায়। চুলটা গাঢ় কালো সিল্কি হওয়াতে রণবীর কাপুর বলে ভ্রম হতে পারে। রণবীর তার ফেভারিট হিরো। এসব কি শুধু শরিফুলেরই মনে হয় নাকি সুমাইয়ারও? তা সে স্পষ্ট বলতে পারে না।

সুমাইয়া তখন নাইনে উঠছে। আট দশ উঠতি তরুণীর মতো তার রূপ তখন দিনকে দিন বেড়েই যাচ্ছিলো। আর সেই রূপে শুধু শরিফুলই কাত হবে, তা তো হতে পারে না। সুমাইয়ার নক্ষত্রের মতো জ্বলন্ত রূপে ঝলসে যায় কালাম মাস্টারের ছেলে মঞ্জুও। পটুয়াখালী সরকারি কলেজে পড়ে সে। ভদ্রতার জন্য তার জুড়ি নাই।

একবার মঞ্জু উত্তর অব্দায় সুমাইয়ার পথরোধ করে দাঁড়ায়। শ্রুতি আছে, মঞ্জুর সে ব্যাটাগিরিতে সুমাইয়ারও সায় ছিলো। সে তখন গাঢ় লাল রক্তজবার মতো প্রস্ফুটিত হয়েছিলো মঞ্জুর সামনে।

সেই খবর শরিফুলের কানে পৌঁছাতে সময় লাগে নাই। সে তো ছেড়ে দেবার পাত্র নয়। তার পাইটু রাকিবরে দিয়ে স্কুলের মাঠে ডেকে আনে মঞ্জুকে। তখনো স্কুল ছুটি হয় নাই। মঞ্জুকে জিজ্ঞেস করে,

: সুমাইয়ার সাথে তুই কতা কইছো?

প্রতুত্তরে মঞ্জু বলে,

হ্যাঁ।

শরিফুলরে আর থামায় কে! বাবলা গাছের লম্বা ডাল দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকে মঞ্জুকে। সেদিন মঞ্জুকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসে নাই৷ স্কুলের ক্লাসরুমসুদ্ধ নিস্তব্ধতা নেমে আসে। পিটিয়েই ক্ষান্ত হয় না শরিফুল। রাকিব আর মেহেদীরে দিয়ে মঞ্জুর শার্ট প্যান্ট খুলে ফেলে। জাঙিয়া পরে সেদিন এক আকাশ সমান অপমান নিয়ে বাড়ি ফেরে মঞ্জু। সেই ঘটনায় সুমাইয়া শরিফুলের ওপর যারপরনাই চটে যায়।

ব্রিজের গোড়ায় ক্যারাম বোর্ড খেলছে শরিফুল। সাথে রাকিব, মেহেদী আর কালা আজম। ফুঁসতে ফুঁসতে সরস্বতীর মতো ছুটে আসে সুমাইয়া। আঙুল তাক করে জিজ্ঞেস করে,

: আমনে মঞ্জু ভাইরে মারছেন কিইর লিইগ্গা?
আমনে পাইছেনডা কী??

শরিফুল একটু মারদাঙ্গি দেখিয়ে বলে,

: তোমারে।

বলার সাথে সাথে সুমাইয়া একদলা থুতু ছুড়ে মারে খাম্বায় লাগানো শরিফুলের পোস্টারের ওপর। থুতু গিয়ে পোস্টারে থাকা শরিফুলের বাম চোখে পড়তে না পড়তেই হনহন করে উধাও হয়ে যায় সুমাইয়া।

৪.

শরিফুল যে মাসে পোস্টার বয় হয়ে রাজনীতিতে নামে, তার পরের মাসেই ঘটে যায় রক্তক্ষয়ী এক অভ্যুত্থান। সে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হয় সরকার। সরকার পতনের পর সরকার দলীয় অনেক নেতা পাড়ি জমায় পার্শ্ববর্তী দেশে। কেউ আবার গা ঢাকা দিয়ে প্রাণ বাঁচাতে এলেবেলে ছুটে চলে।শরিফুলও ৪ আগস্ট ঢাকার শেওড়াপাড়ায় দূরসম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাসায় ওঠে। কার্ফিউর মধ্যে যখন শেওড়াপাড় যাচ্ছিলো, তখন ফার্মগেটে পুলিশ তার মোবাইল চেক করে ছেড়ে দেয়। সে হাফ ছেড়ে বাঁচে।

দুইটা মাস কষ্টেসৃষ্টে কাটায়। সঞ্চিত টাকা পয়সা ততদিনে প্রায় শেষ। এক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সুমাইয়াকে দেখতে উদগ্রীব ততদিনে। একদিন মঞ্জুর সঙ্গে সুমাইয়ার বিয়ের গুঞ্জন তার কানে আসে।

এক পড়ন্ত বিকেলে শরিফুল গ্রামে ফেরার কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়। বিশ খেয়ে আত্মহত্যা করার মতোই অনেকটা। তাও সে ভাবছিলো, নিজের গ্রামের লোকজন আর শরিফুলের কী করবে! শরিফুল তো তাদেরই একজন। তাদের কারো রক্তও তো শরিফুলের শরীরে আছে।

সেদিন শুক্রবার। শরিফুল ‘বেপারি’ বাসে করে কাংকুনিপাড়া চৌরাস্তায় নামে। চৌরাস্তায় তার ৩ টা ফেস্টুন টাঙানো ছিলো। ততদিনে একটা ফেস্টুনও অক্ষত নাই। শুধু একটা পোস্টার আছে। তার অর্ধেক কেউ তুলে নিয়েছে। সে যখন বাস থেকে নামে তখন সকাল নয়টা কি দশটা। মিষ্টি রোদ তখন বড় বড় রেইনট্রি গাছের ফাঁক দিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে৷ তার মনে পড়ে, যখন বাসে উঠবে, তখন সুমাইয়াকে ম্যাসেঞ্জারে লিখেছিলো,

‘আমি তোমার লিইগ্গা ফিইরা আসতে আছি। তোমার সোনামুখটা না দেখে থাকতে পারতে আছি না সুমু!’

বাস থেকে নেমে খাম্বার ওপর অর্ধেক ছেঁড়া পোস্টারের দিকে আগাতে থাকে শরিফুল। পথিমধ্যে একদল তরুণ তাকে ঘিরে ফেলে। শরিফুল তাদের চেনে, কেউ ছাত্রদল কেউ শিবির কেউ বা বৈষম্যবিরোধী। এদের মধ্যের একজন তো তার জনম জনমের প্রতিদ্বন্দ্বী।

কিছু বোঝার আগেই ছাত্রদলের রমজান চিৎকার করে লাঠি নিয়ে হামলে পড়ে। মঞ্জুর হাতে ছিলো রড। রডটা যেন মঞ্জুর মতোই প্রতিশোধের অপেক্ষায় উদগ্রীব। হাসানের হাতে ছিলো চাপাতি। হাসান আর মঞ্জু, দুজনই কলাপাড়া উপজেলা বৈষম্যবিরোধীর সমন্বয়ক। যদিও হাসান ৫ তারিখের আগে ছাত্রদের পক্ষে একটা মিছিলেও যায় নাই। মঞ্জু পটুয়াখালী সদরে ৪ তারিখে একটা মিছিলে গেছিলো, ব্যস।

তারা ক্রমাগত আঘাত করতে থাকে। চাপাতি আর রডের আঘাতে রক্তাক্ত শরিফুলের রক্তমাখা ডান হাত গিয়ে পড়ে পোস্টারে বসে থাকা তারই গালে। গালটা এক ছোব রক্তে লাল হয়ে যায়। ঠিক তখনই মাথা বরাবর রড দিয়ে বাড়ি দেয় মঞ্জু।

শরিফুল তখন অস্ফুট স্বরে ‘ পো..স্টা...র...’ বলতে বলতে পিচঢালা রাস্তার ওপর ঢলে পড়ে। অর্ধমৃত অবস্থায় তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে সুমাইয়ার মায়াবী মুখ, স্বপন হাওলাদারের খানদানি গোঁফ আর একদলা থুতু।