সবসময় লিখতে ভালো লাগে না।তার চেয়ে বেশি ভালোলাগে দেখতে, ভাবতে ,ডুবতে ! ভাবনা আমাকে ডুবায় আর আমি ভাবনাকে।শত সহস্র ভাবনার মাঝে আমার অস্তিত্বকেই হারিয়ে ফেলি নিজেকে।পানিতে স্যালাইন যেভাবে গুলে যায় সেভাবে মিশে যায় আমি আর ভাবনা।ভাবনাকে তুমি ভাব বলেও ডাকতে পার। এত এত আয়না দিয়ে নিজের অস্তিত্বকে চেখে দেখার পর নিজেকেই প্রশ্ন করি কবি তুমি আসলে কে? কবি তুমি কি সাদা কফিনের মতো সুমসাম নাকি মধ্যরাতের প্রেমিক যুগলের মতোই উন্মত্ত?কবি তুমি কী বিরাগী নাকি এ সমগ্র জগৎ এর সাথে সংসার তোমার ? হে কবি তুমি কি আদৌ জীবিত ? নাকি তুমি নিউক্লিয়াস থেকে গঠিত এক আবেগী যন্ত্রমাত্র? স্বকীয় স্বাধীন অস্তিত্ব বিনে কি প্রাণ হতে পারে?? যদি তা না হয় তবে বল আমায় মানুষ কি আসলেই স্বাধীন ??? আমি তো বলব না । মানুষের প্রাণ নেই।কারণ সে স্বাধীন নয়।তাকে খেতে হয় ,ঘুমোতে হয়,গাছ ,সমুদ্র, অক্সিজেন ..... প্রকৃতির সব উপাদানের উপর নির্ভর করতে পারে। নির্ভরশীল সত্তা কিভাবে মুক্ত প্রাণ হতে পারে?? তবে হ্যাঁ মানুষ তার চিন্তাকে অবশ্যই মুক্ত করে দিতে পারে। মানব সত্তায় ভাবনাই এখন পর্যন্ত দেখা এক মাত্র জিনিস যা অদ্বৈত। মানুষ যা খুশি ভাবতে পারে ,কারোর উপর নির্ভর করতে হয় না তাকে।একে মানুষের অস্তিত্বের স্বাধীনতা বলা যেতে পারে। আর মুক্ত স্বাধীনতাকে বলা যেতে পারে প্রাণশক্তি। মুক্ত ভাবনা যদি স্বাধীন হয় তার থেকে উৎপন্ন কর্মও স্বাধীন হবে। জীবসত্তার এই চিন্তায় অংশটুকুই কেবলমাত্র প্রাণ। শরীরের বন্ধন ত্যাজ্য করে এ শক্তি যদি মূক্ত হয়ে যেত তবে দোটানা আর খালিভাবেরএই অস্বস্তি থেকে মানুষ পূর্ণত্ব আর শ্বাশত আনন্দের সন্ধান পেত।
যদি অস্তিত্বের স্বাধীন অংশকে মূল্য দিয়ে প্রাণ হয়ে বাঁচতে চাও তাহলে প্রাকৃতিক আর আবেগী অংশকে মূল্য দেওয়া বন্ধ কর। অন্যথা দুর্দশা অনিবার্য।
Note: not applicable for normal people. Specially written for the thinkers community.
মন্তব্য (1)