সেই কখন মৃদুল চলে গেছে, শুভরাত্রি যখন  বলেছিল তখন রাত প্রায় আটটা কুড়ি, আর এখন এগারটা ছুঁই ছুঁই, অনিন্দ্যর আসার কোন নাম নেই, টিভিটা চলছে নিজের মতো করে , হাসছে, গাইছে, কাঁদছে যা খুশী করে যাচ্ছে, নিয়ন্ত্রন করার কোন ইচ্ছে নেই সুরভীর, চোখ দুটোর দিকে তাকালে মনে হবে যেন এক মনে দূরদর্শনের পর্দায় মজে আছে, অথচ সেই কখন থেকে তার হৃদয় জুড়ে বসে আছে অন্য কিছু, অনেক কিছু । প্রথমে এক পলকে আজকের সারাদিনের ঘটনাবলীর একটা সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা তারপর ক্ষণিকের জন্য মৃদুলের চেহারা, মিষ্টি ব্যবহার ইত্যাদি অতঃপর এই দীর্ঘক্ষণ ধরে হৃদয়ের পরতে পরতে বছর দুয়েক আগে স্বামী হিসেবে পাওয়া পেশায় বাস্তুকার অতীব সুদর্শন পুরুষ অনিন্দ্য । প্রায় দুবছরের এই ছ-সাতশ দিনের মধ্যে সুরভী প্রায় সব দিনই অনিন্দ্য'কে নিয়ে ভাবছে, তার কাছে নিজের গ্রহণ যোগ্যতা বাড়ানোর জন্য যা যা প্রয়োজন সবটুকু ঢেলে দেওয়ার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে সুরভী । কেননা স্কুল এবং কলেজ জীবনে সুরভীর মধ্যে একটা পাতলা অহংকার ছিল, সুন্দরী'র দেমাক ছিল । কিন্তু অনিন্দ্য এসে তার সমস্ত অহংকার দেমাক যেন তলিয়ে দিল । এত সুন্দর, সুঠাম, দিব্যকান্তি স্বামী যে সুরভীর স্বপ্নের ওপারে দূর দিগন্তে, আচার ব্যবহার, ধনে জনে একেবারে কানায় কানায় পরিপূর্ণ শশুরালয় পেয়ে সুরভীর অন্তরের আত্মতৃপ্তি তাকে দিয়েছে ভয় সংশয়, এত সুখ সইবে তো ! তাই তার খামতি নেই কোনটাতেই, স্বামীর আমিত্বে একাত্মতার । এতকিছুর পরেও এতটা দিন পেরিয়ে এসে নিজের  ভয় সংশয়টুকু কাটিয়ে উঠতে পারেনি সুরভী ; কোথাও যেন একটা ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে । না হলে এতটা উদাসীন হবে কেন অনিন্দ্য ! বিয়ের তিনমাস পেড়োতে না পেড়োতেই শশুর শাশুরী সব্বাইকে ছেড়ে এসে এই দু-তলা বাড়িটায় পরে আছে , অথচ প্রায় রাতেই সুরভীর ঘরে আলো জ্বলে সারারাত, কখন ঘুম আসে জানেনা, অনিন্দ্য'র পড়া শেষ হয়না, অফিসের টাইম টেবিল জানেনা, কখনো কখনো রাত প্রায় ১০/১১ টায় ঘরে ফেরে ক্লান্ত অবসন্ন দেহটাকে নিয়ে, দু চারটি শব্দ উচ্চারণ ব্যতীত কথা বলার সময় থাকে না । এটাকে কি বলবে সুরভী ! উদাসীনতা ! কেন হবে এমন ? এমন তো হওয়ার কথা ছিল না !