ওহহ...! কিহহ মাল গো...! কিহহ বডি মাইরি...! কিহহ সেক্সি ফিগার...! ওহহ, কিহহ বুকটা...! সাইজটা তো.....! কিহহ কোমর...! আহহহ...! খেলবা নাকি মেয়ে টি-টোয়েন্টি...!!!
এভাবেই পাড়ার মোড়ে দাড়িয়ে পথ চলতি রাফিকে কথাগুলো বললো সুমন।
.
এখন আপনি কি বলবেন? দোষটা মেয়েটার? মেয়েটার চলাফেরা ভালো না? মেয়েটা উগ্র? চরিত্র ভালো না? পোশাকে সমস্যা আছে...? তাই এর সবকিছুই ঠিক আছে...।
.
না বলবেন, ছেলেটা আসলে হিংস্র বখাটে ছাড়া কিছুই না...? লুইচ্চার হেডকোয়ার্টার...। তাই ওরে ধরে ভালো মতো একটা বেম্বো থেরাপি দেওয়া উচিৎ...।
.
আমি কিন্তু দ্বিতীয় কাজটাকেই প্রাথমিক ভাবে সর্বাত্মক সমর্থন করবো।
.
তারপর বলবো, যারা মেয়েটার পোশাকে আর চলাফেরায় সমস্যা দেখছেন তাদের নিজেদের রুচি আর চরিত্র কতটা উন্নত মানের যে উপরোক্ত বাজে কথাগুলো অবলীলায় একটা মেয়েকে বলে ফেলেন অথবা বলাকে সমর্থন করেন? মানছি মেয়েটার চলাফেরা বা পোশাকাশাকের মধ্যে উগ্রতা আছে। কিন্তু আমি তো দেখছি আপনার চরিত্রের মধ্যে তার থেকে বেশী সমস্যা আছে। আচ্ছা, পতিতারা তো খারাপ মেয়ে; এটাই সমাজ স্বীকৃত। সবাই তাদের ঘৃণা করে। তাই আপনি যদি এমন একটা মেয়েকে রাস্তাঘাটে ধরে ধর্ষন করেন; তবে সেটা হালাল হয়ে যাবে? কখনোই হবে না; কখনোই তা হতে পারে না। সে খারাপ বলে আপনার সেই অধিকার কখনই নেই। কোন আইন অথবা নৈতিকতাই আপনাকে সেই স্বীকৃতি দেবে না। তাই নিজের নোংরা মানসিকতাটাকেই প্রথমে বদলে ফেলুন। মনে রাখবেন খারাপ কোন জিনসই কল্যাণময় কোন কিছু বয়ে আনতে পারেনা।
.
এবার আসি উগ্র সে সব মেয়েদের কথায়; যারা নিজেদের খুব সস্তা ভাবতে পছন্দ করেন। নিজেদের বাজারের পণ্যের মতো প্রদর্শন করতে ভালোবাসেন। বলি আপু, সংযত এবং শালীন হোন। টাইট ফিটিংস ছোট ছোট জামা কাপড় পরে বুক আর কোমরে দুলানি তুলে চলাফেরা করাটা অনুগ্রহ করে বন্ধ করুন। এটার নামই নারী স্বাধীনতা বা অধিকার না; যেটা আপনি ভাবছেন। প্রকৃত নারী স্বাধীনতা বা অধিকার নিজের কর্ম আর যোগ্যতা দিয়ে নিজেকে প্রমানের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়; নিজের দেহ প্রদর্শন করে নয়। যদি ছোট ছোট টাইট ফিটিংস জামা কাপড় পরে নিজেকে প্রদশর্নের মাধ্যমেই নারী স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতো অথবা মুক্তি আসতো; তবে নারীরা আজো নির্যাতিত হতো না। তাছাড়া মনে রাখবেন, পৃথিবীর সব মানুষ সাধু সন্ন্যাসী হবে এমনটা আশা করা চরম বোকামি। আপনি যদি বাঘের সামনে ছাগল ছেড়ে দিয়ে তারপর বলেন, বাঘ কেন ছাগল খেলো? সেটা চরম হাস্যকর ব্যাপার বৈকি কিছুই দাড়াবে না। কারন বাঘ হিংস্র প্রানী। সে তার স্বাভাব সুলভ হিংস্রতায় অন্যদের ক্ষতবিক্ষত করবে, এটাই স্বাভাবিক। আর এ জন্যই অন্য সব প্রানীরা সচারাচার বাঘের এলাকা এড়িয়ে চলে তাদের নিজ নিরাপত্তার জন্যই। তেমনি মানব সমজের মধ্যেও মানুষ রুপি কিছু হিংস্র বাঘ থাকবে। তারা আপনাকে সুযোগ পেলেই ক্ষতবিক্ষত করতে চাইবে। তাই আপনার নিজ নিরাপত্তার কথা আপনাকেই ভাবতে হবে। আপনার চলাফেরায় শালীনতা এবং সাবধানতা আনতে হবে। এটা পর্শ্চিমা সমাজ না। আমাদের সমাজ ব্যাবস্থা আর পর্শ্চিমা সমাজ ব্যাবস্থার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে; এটা আপনাকে মানতে হবে। তাই আপনি এখানে তাদের সবকিছু অনুকরন করতে চাইলে, না হতে পারবেন তাদের মতো; আর না হতে পারবেন এ সমাজের অংশ। বরং এতে আপনি যেমন নিজের বিপদকে উষ্কাবেন; তেমনি অন্য নারীদের অপমানের পথটাকেও প্রশস্ত করবেন বৈকি।
.
এবার লেখাটা শেষ করবো দু'টি উক্তি এবং একটি কথার মাধ্যামে-
'জীবনকে উপভোগ করার নামই উগ্রতা নয়, শালীনতায়ও জীবনের সুন্দর রং গুলোকে ছুয়ে দেখা।'
'মন্দ এবং হিংস্রতা ব্যাক্তি জীবন এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকর।'
তাই আসুন, নারী ও পুরুষ আমরা উভয়ে প্রথমে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাই।
মন্তব্য (9)