কতটা প্রহর বয়ে যায়, বুকের বাম অলিন্দে
কষ্টেরা দুমড়ে মুচড়ে নির্ভীক পা ফেলে চলে
নির্বচনীয় ক্লান্তি শ্বাস ফেলে প্রেরণার কথন ভুলে।
রোদেলা আকাশ আর উঠোন জুড়ে একরাশ আলো
এর চেয়ে বেশী কিছু কি চেয়েছিল মন?
অলীক স্বপ্নেরা দল বেঁধে উড়ে গেছে বুনোহাঁস হয়ে
অঙ্গনের নিকানো জলসায় উপেক্ষার ছায়া ফেলে।
হ্যাঁ, অলীক নয়তো কি?
ডুমুরের এ-পাতা ও-পাতায় হাজারো কথার গাঁথূনীতে
ফাগুন দেখবে বলে বাসা বেঁধেছিল দু'টি মনপাখি,
শ্রাবণের আকাশের মেঘে মেঘে বাসনারে মেখেছিল
চিৎকারে চিৎকারে তুফান তুলে বলেছিল--
"চলে যাও আরো দূরে, হে শ্রাবণ, চাই বসন্তের রঙ"
চিৎকার প্রতিধ্বনিত হয়ে আলোয় তুলেছিল আলোড়ন।
প্রতীক্ষার অবসানে একদিন এসেছিল ফাগুনের ক্ষণ
কোকিলের কুহুতান এসেছিল শুধু ক্ষণিকের তরে,
তারপর ভেসে গেছে বাসনার শ্বেত তাজ মহল
বিবর্তিত সময়ের প্রচলিত বৈশাখী ঢলে।
আজ আমার বসন্ত-ফাগুনের বেলা ক্ষয়ে ক্ষয়ে
দীর্ঘশ্বাসের পাদদেশে গড়ে তুলে জমাট বালুচর
বিশুষ্ক অঙ্কুরে ঘা লেগে কেঁপে উঠে থরথর
জোছনারা গা ভেজায় নির্লিপ্ত ধূসরতার অনুরণনে
প্রজাপতির রঙহারা ডানায় ঝলসানো রোদ চমকায়
অপঘাতে, অপমানে অবলীলায়, বিদগ্ধ পাতা ঝরা বনে।।
মন্তব্য (8)