ইয়াবা মূলত একটি ওষুধ। বহু যুগ থেকেই এ ওষুধ ব্যবহারের প্রচলন লক্ষণীয়। এটি মানুষের ওজন কমাতে এবং ক্ষুধামন্দায় ব্যবহৃত হয়। এ ট্যাবলেট সেবন করলে ক্ষুধামন্দা হবে। কিছু খেতে ইচ্ছে করবে না। আর না খাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীর দুর্বল হওয়ার কথা। কিন্ত তা হবে না। শরীর, মন, মেজাজ সবই ফুরফুরে থাকবে। এর ফলে ওজন কমবে। আগে ডাক্তাররা কোন কোন রোগীকে সপ্তাহে বা পনের দিনে একটি করে ট্যাবলেট সেবন করার অনুমতি দিতেন। তবে অতিরিক্ত সেবন করলে আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। হালে চিকিৎসকরা আর কোন রোগীকে ওষুধ হিসেবে ইয়াবাকে আর প্রেসক্রাইব করছেন না। বর্তমানে বাংলাদেশে এর প্রভাব বেড়েছে। দেশকে এই মারাত্মক নেশা থেকে বাঁচাতে দেশে ইয়াবার আগ্রাসন ঠেকাতে জল, স্থল ও সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে এবং দেশের ভেতরে একযোগে সাঁড়াশি অভিযানের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি ভেজাল ইয়াবা তৈরিতে ব্যবহৃত অন্যতম প্রধান উপকরণ সিওড্রএফিড্রিন আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কাশির ওষুধ তৈরিতে বিকল্প রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে ওষুধ কোম্পানিগুলোকে। মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়া ইয়াবা চোরাচালান বন্ধ করতে কোস্টগার্ড, বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ), পুলিশ, র্যা ব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে একটি সম্মিলিত কৌশল ঠিক করা হচ্ছে। ইয়াবা চোরাচালান ঠেকাতে নাফ নদীতে মাছ ধরা পরীক্ষামূলকভাবে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। ওই সময় জেলেদের সরকারীভাবে খরচ চালানোরও ব্যাবস্থা করছে সরকার। ইয়াবা চোরাচালান ঠেকাতে আগামী ২০ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে বাংলাদেশের ১২ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বৈঠকে কূটনৈতিক সম্পর্কের আরও উন্নয়ন, সন্ত্রাসী ও অস্ত্রগোলাবারুদ সংক্রান্ত বিষয়াদি ছাড়াও ইতোপূর্বে হস্তান্তর করা মিয়ানমারে থাকা ইয়াবা তৈরির ল্যাবরেটরি বন্ধ ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারসহ নানা ইস্যুতে আলোচনা করা হবে। ইতোমধ্যেই সরকারের আইন মন্ত্রণালয় ইয়াবাকে দেশের এক নম্বর মাদক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দুই শ’ গ্রামের বেশি ইয়াবা বহনকারীদের শাস্তি যাবজ্জীবনের পরিবর্তে মৃত্যুদন্ড করে আইন পাস হচ্ছে। এভাবে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে এই মারাত্মক নেশা বন্ধ করার সকল ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ।