-------------------------------------------------------------------------------
"মায়াজাল"
মোঃ মঞ্জুর হোসেন মৃদুল
মেরিনার বয়স পনের প্লাস চলছে। সামনে তার এক্জাম তাই পড়াশোনায় বিশাল চাপ। সে একটু বয়সের তুলনায় বেশ বেশী ম্যাচিউর তাই অন্য দশটা মেয়ের সাথে তার তুলনা চলেনা। তবে তার গ্রোথ খুব ভাল তাই বয়সের তুলনায় তাকে বেশ বড় দেখায়। খেলা ধুলো সে সবসময় করে বেশ ভাল দৌড়াতে পারে। সাতার কাটতে জানে। স্কিপিং করে বেশ ভাল এককথায় বেশ ভাল এথলেটিক্স। বাইরে এখন বেশ ফুটফুটে ভোর। অন্যান্য দিনে থেকে আজকের দিনটা বেশ আলাদা লাগছে যেন। এই ভোরে একটা কোকিল ডাকছে। আর একটা বাতাস- খুব অদ্ভুত ভুতুরে একটা বাতাস হু হু করে বয়ে যাচ্ছে। জানালায় পর্দাটা সরানো এক পাশে গ্লাসটা খোলা তাই বাতাস খেলছে যেন। ঠিক মনে হচ্ছে বাতাসের কিছু কথা আছে, বলতে চাইছে কিন্তু বোঝাতে পারছেনা। মেরিনার বাড়ীটি গুলশান লেকের সাথে ডুপ্লেক্স বাড়ী। তাদের নিজেস্ব বাড়ী। তার বাবা আফসার চৌধুরীর নিজে দাড়িয়ে এই বাড়ী করেছেন।
মেরিনা বুঝতে পারে এই ভোরটাকে সে ভালই টের পাচ্ছে। শুনতে পাচ্ছে কোকিলের ডাক। বিছানা ছেড়ে ব্যালকনিতে চলে এল বাতাসে তার চুল উড়ছে। তবে চুল বেশী লম্বা নয় অাবার ববকাটও নয়। বাতাস ঝাপটা মারছে। কি যেন বলতে চাইছে কেউ? ঘরে এসে ঢুকলো মেরিনা। টেবিলের সামনে এসে একটা কাগজের দিকে দৃষ্টি দিল। দমকা বাতাস দিচ্ছে কিন্তু মেরিনার সমস্থ মনপ্রান নিবন্ধ এই প্যাডের কাগজে লেখা কয়েক লাইন একটা চিঠিতে। ঠিক চিঠিও নয়। তার বাবা আফসার চৌধুরী বাংলা ভাল করে লিখতে পারতেন না। প্রচুর বানান ভুল হতো তাই ইংরেজীতেই বেশী লিখতেন। তেছড়া করে টানা হাতের লেখা লিখতো। এই হাতের লেখা চিনতে মেরিনার কোন অসুবিধা হচ্ছেনা কারন সে তার বাবার হাতের লেখা খুব ভাল চিনে। উপরে খুব অনুষ্ঠানিক ভাবে লেখা ইংরেজীতে "টু হোম ইট মে কনসার্ন" তার ঠিক নিচে সাংঘাতিক কিছু কথা লেখা যা মারাত্বক অর্থ বহন করে নো বডি- অ্যাবসোলিইটলি নো বডি ইজ রেসপনসিবল ফর মাই ডেথ। ইটস মাই ওউন ডিসিশন। লাইফ ইজ ফুল্লি অফ অল ফান, ইট ইজ ফানিয়ার টু টেক ইট অ্যাওয়ে। আই লিভড ওয়েল, কন্টেন্টেড। ডোন্ট বদার মাই ফ্যামেলি। বাই!!! আফসার চৌধুরী।" বাবার সই খুব ভাল চেনে মেরিনা। পরিষ্কার সই, কোন অস্পষ্ঠতা নেই। ঠিক যেমন মানুষ ছিল তার বাবা- স্পষ্ট মানুষ। কারও আগে পিছে নেই। তবুও সবাই যে কেন বুঝতে পারলনা এই লোকটাকে। সেটাই এক রহস্যা।
চলবে
মেরিনা বুঝতে পারে এই ভোরটাকে সে ভালই টের পাচ্ছে। শুনতে পাচ্ছে কোকিলের ডাক। বিছানা ছেড়ে ব্যালকনিতে চলে এল বাতাসে তার চুল উড়ছে। তবে চুল বেশী লম্বা নয় অাবার ববকাটও নয়। বাতাস ঝাপটা মারছে। কি যেন বলতে চাইছে কেউ? ঘরে এসে ঢুকলো মেরিনা। টেবিলের সামনে এসে একটা কাগজের দিকে দৃষ্টি দিল। দমকা বাতাস দিচ্ছে কিন্তু মেরিনার সমস্থ মনপ্রান নিবন্ধ এই প্যাডের কাগজে লেখা কয়েক লাইন একটা চিঠিতে। ঠিক চিঠিও নয়। তার বাবা আফসার চৌধুরী বাংলা ভাল করে লিখতে পারতেন না। প্রচুর বানান ভুল হতো তাই ইংরেজীতেই বেশী লিখতেন। তেছড়া করে টানা হাতের লেখা লিখতো। এই হাতের লেখা চিনতে মেরিনার কোন অসুবিধা হচ্ছেনা কারন সে তার বাবার হাতের লেখা খুব ভাল চিনে। উপরে খুব অনুষ্ঠানিক ভাবে লেখা ইংরেজীতে "টু হোম ইট মে কনসার্ন" তার ঠিক নিচে সাংঘাতিক কিছু কথা লেখা যা মারাত্বক অর্থ বহন করে নো বডি- অ্যাবসোলিইটলি নো বডি ইজ রেসপনসিবল ফর মাই ডেথ। ইটস মাই ওউন ডিসিশন। লাইফ ইজ ফুল্লি অফ অল ফান, ইট ইজ ফানিয়ার টু টেক ইট অ্যাওয়ে। আই লিভড ওয়েল, কন্টেন্টেড। ডোন্ট বদার মাই ফ্যামেলি। বাই!!! আফসার চৌধুরী।" বাবার সই খুব ভাল চেনে মেরিনা। পরিষ্কার সই, কোন অস্পষ্ঠতা নেই। ঠিক যেমন মানুষ ছিল তার বাবা- স্পষ্ট মানুষ। কারও আগে পিছে নেই। তবুও সবাই যে কেন বুঝতে পারলনা এই লোকটাকে। সেটাই এক রহস্যা।
চলবে
মন্তব্য (26)