অজ্ঞাত এক জগতে আমায়, করেছো দৃষ্টিদান,
শত কষ্টকে আপন করে, বেঁধেছো মায়ার গান ।

অস্তিত্ব যখন ছিল না কোন, কল্পনায় করিয়েছাে বিচরণ,
অস্তিত্ব যখন ক্ষীণ হয়েছে, দিয়েছো জায়গা আমরণ ।

তনু যখন ক্ষুদ্র আমার, দিয়েছো জায়গা বৃহৎ,
বুকে আগলিয়ে রেখেছো মোরে, করেছো রক্ষার শপথ ।

ছোট হাত দুটো জরিয়ে ধরে, করেছো অগ্রসর,
বন্ধুর পথও সুগম করেছো, হয়ে বিপদে কাতর ।

তিলে তিলে মোর শিরায় বাড়িয়েছো, রক্তের সঞ্চালন,
শত লোলুপদৃষ্টি থেকে  রক্ষা করেছে, মা'র ই আঁচল ।

হাঁটতে যখন  শিখেছি তখন, হোঁচটে পেতেছো হাত,
ধীরে ধীরে মোরে করেছো বড়, রক্ত করেছো বারিপাত ।



কাপড় যখন ভারি হল, ভারি হলো অভিমান,
সবকিছু তখন ভুলিয়া আমি, গাইছি নতুন গান ।

যার ত্যাগে বাহু আর দেহ, হয়েছে বলিষ্ঠ,
চির অবদান ভুলে তার, দিয়েছি কত না কষ্ট ।

চর্ম যখন কুচকানো তার, সঙ্গী বার্ধক্য,
অবহেলায় তখন  দূরে ঠেলেছি, করেছি পার্থক্য ।

কালো কুন্তল পরিক্রমনে তার, হয়েছে শুভ্র ধবল,
তাহাতে কখনও বিলাই নি মোরে, হয়েও সুস্থ-সবল ।

পরম আদরে যে মাতা মোদের লুকাইত আঁচল তলে,
সেই আঁচলই আজ ঠাঁইহীন হয় চৈত্রের বালুচরে ।