১৯৭৬ জুলাই এর মাঝামাঝি ৩১৫ চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জার ভোর ভোর পুরুলিয়া স্টেশনে পৌঁছল। তার আগে ট্রেনের জানালা দিয়ে প্রথম পাহাড় দেখলাম। পুরুলিয়ায় নিচু প্লাটফর্ম তিনটি, খাপরার চালা স্টেশান বিল্ডং, একটা ছোট লাইনও আছে, (সেইজন্য জংশন) যেটা ট্রেনটা আমাদের স্কুলের সামনে দিয়েই কোটশীলা যায়, সকালে গিয়ে বিকেলে উল্টো ইঞ্জিনে ফেরত আসে কালো ধোঁয়া তুলে, বহু দূর থেকে তার কালো ধোঁয়া দেখা যেত, কখনও এক আবার কখনও দুইকামরা নিয়ে!
এর আগে মামার বাড়ি ছাড়া কোথাও যাইনি, অবশ্য কলকাতায় ছিলাম ছ’মাস ইংরেজি স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম টু-তে, কিন্ত কলকাতার হার্ড ওয়াটার আমাদের বাধ্য করেছিল আবার সদলবলে কালনায় ফিরে যেতে। রাতের ট্রেনে বার্থে ভ্রমণে প্রথম, আপার বার্থে শোয়ার দারুণ মজা!
স্টেশন থেকে সাইকেল রিক্সায়, ট্রাঙ্ক, হোল্ডল নিয়ে মা আর দাদার সঙ্গে পৌঁছালাম সৈনিক স্কুল, দুই লেনের রাস্তা মাঝে বোগেনভিলীয়ার ঝাড়, দুপাশে লালে লাল হয়ে আছে কৃষ্ণচূড়া, দূরে নীল অযধ্যা পাহাড়। বাঁদিকে এডমিন ব্লক আরও এগিয়ে ডানদিকে ডাইনিং হল আর হস্টেল, তার পর খেলার মাঠ, স্টাফ কোয়ার্টার আর একদম শেষে পদ্ম পুকুর, বিশাল এলাকা জুড়ে স্কুল, ধোবি কোয়ার্টার এর পর একটা পুরোনো মন্দির যেখানে ৩১ চৈত্রের রাতে ছৌ নাচ হয়।
আমার প্রতি আমার পরিবারের সবচেয়ে বড় গিফট এখানে ভর্তি করা (কারণ পড়াশোনায় ছিলাম অষ্টরম্ভা) এখানে না এলে কোনো দোকানের কর্মচারী হতাম না কি করতাম জানিনা। প্রবেশিকার জন্য প্রচুর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম একশটা লিনিয়ার অঙ্ক ১৫ মিনিটে করতে হবে , তা ছাড়া অন্য বিষয়। দাদা টাইপ করে এনে দিত। প্রথমদিন ৪৫ মিনিট লেগেছিল করতে।
ফোর্ট উইলিয়মে পরীক্ষা হল, পাশ করলাম তারপর হিন্দু স্কুলে ইন্টারভিউ, পরে মেডিকাল কলেজে স্বাস্থ্য পরিক্ষা ইন্টারভিউতে প্রশ্ন ছিল কেন সৈনিক স্কুল ? বলে দিলাম 'মানুষ হব বলে' ফিরতি প্রশ্ন-তুমি কি মানুষ নও? উত্তর "মানুষের মত মানুষ হব"-নিদারুণ উত্তর আর কে ঠেকায় আমায়। কালনায় সিক্সে উঠেছিলাম, কিন্তু মাইলেজ পাওয়ার জন্য দমদমের একটি ভাল স্কুলে পড়াশোনা দেখানো হয়েছিল। আবার প্রশ্ন-স্কুলের কে সবচেয়ে ভালোবাসে? উত্তর -হেডমাস্টার (নামটা জেনে নিয়েছিলাম) স্কুল ছাড়ার বহু পরে তাকে প্রথম দেখি- নমষ্কার করেছিলাম॥
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।