১৯৯০ রাজধানী এক্সপ্রেসে প্রথম ডিউটি দোলের দিন, সিনিয়ররা সবাই ছুটিতে তাই অধমের উপড় সুযোগ এসেছে প্রথম রাজধানীতে কাজ করার।(রেলের পরীক্ষার জন্য রেলের পাশ পেতাম তখন থেকেই ইচ্ছা, কে জানতে পাশে রাজধানী চাপা য়ায না।)সেই সময় রাজধানী মাত্র দু্টি কলকাতা ও মুম্বাই, রাজধানীর কদর আলাদা, বেসকিচেন থেকে আসতো সুন্দর খাবার আর প্রথম শ্রেণীর খাবার তৈরী হত প্যান্ট্রিকারে। ক্যাসরোল তখনও চালু হয়নি। বাল্কে খাবার চড়ানো হতো দুটি প্যন্ট্রিকারে সেখান থেকে কমপার্টমেন্ট থালিতে (stainless steel) ঢাকনা দেওয়া অবস্থার পরিবেশন করা হত। প্রথম শ্রেণীতে ক্রকারী সার্ভিস হত।
সেই সময় থ্রি এসি ছিল না, এসি চেয়ারকার, এসি টুটিয়ার আর ২টি এসি ফার্স্টক্লাস।
এখনকার মত ট্রেনের এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত যাওয়া যেত না, কারণ তখন তিনটি জেনারেটর কার থাকতো। দু প্রান্তে দুটি আর চেয়ারকার ও স্লিপার কার এর মধ্যে একটি ।সেই সময় রাজধানীর গুরুত্ব আর প্রেস্টিজ ছিল অপরিসিম, স্টপেজ ছিল মাত্র ধানবাদ, মোগলসরাই(ডিডিউ) আর কানপুর। এখন তো এমপিদের অনুরোধে, পরেশনাথ এর মত স্টেশনেও রাজধানী থামে, রাজধানী রোজ চালোনোর জন্য ছিল মাত্র দুটি রেক তাই সপ্তাহে পাঁচ দিন চলতো, রোজ চালাতে তিনটি রেক লাগে(full length carriage)।দোল বলে যাত্রি তেমন নেই, সব কামরাই ফাঁকা, আমার ডিউটি 'বি' ব্লকে আর সাহা' দা আমার সিনিয়র 'এ' ব্লকে PCM (Pantry Car Manger) cum TS (Train Superintendent)
ট্রেন ছাড়তেই হাই টি সার্ভিস, ধানবাদের পর সুপ সার্ভিস তার পর ডিনার ।চেয়ার কারে ধাক্কা খেতে খেতে সার্ভিসের তদারকি চলল। চেয়ার কারের কমপ্লেন হলে হ্যান্ডল করা বেশ শক্ত যেহেতু পটিশান নেই, ৭৩ জন প্যেসেঙ্জার সবাইসবাইকে দেখতে পাচ্ছে তার উপর বসে ১৮ ঘন্টা জার্নি বেশ কষ্টদায়ক তাই একজন কমপ্লেন করলে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে, ওদের জন্যে সাময়িক এন্টারটেইনমেন্ট ও বটে। আর রাজধানীর তে চাপলেই সবার ধমনীতে রাজরক্ত বইতে থাকে, তাই পান থেকে চুন খসলেই হল॥
সকালে ব্রেকফাস্ট করতে করতে যামুনাপার যথাসয়ে দিল্লী॥
দিল্লী পৌঁছে বেসকিচেনে ফেরার পথের খাবারের অর্ডার দেওয়া, ওখানকার বাঙালি ইন্সপেক্টর আমাদের খুব খাতির আর সাহায্য করত, আর একটা ব্যাপার খুবভাল লাগত, ঢুকলেই সামনে হাজির ঠান্ডা জল, গরমকালে নিম্বুপানি॥
যাই হোক প্রথম রাজধানীর সফর নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হল আপ/ডাইন দুদিকেই -
নামার আগে সাহাদা পকেটে পাঁচশ টাকা গুঁজে দিল, সাধারণত তিনশো টাকা দেওয়ার কথা, -হয়তো সাহা– সাহা মাসতোতো ভাই বলেই পাঁচশো, এই পাঁচশোটাকার গল্প আর এক দিল বলবো॥
মন্তব্য (1)