“ইরকা মিরকা ফিরকা ক্যা মিলেগা"-বলুন তো কোন গান? ছোটোবেলায় আমাদের বাড়ীতে রেডিও ছিল না, পাশে কাকিমার বাড়ি ছিল, কলকাতা- 'ক', বিবিধ ভারতী ওখানে গান শুনতে যেতাম। দুপুরের পর বাংলা গান অনুরোধের আসর হত। খুব সুন্দর বাংলা পপুলার গানের অনুষ্ঠান। প্রধানত মাইকে হিন্দি গান শুনতাম বিভিন্ন প্যান্ডেলে পূজার অনুষ্ঠানে, শুনে শুনে কিছুটা মুখস্থ হত কিন্তু যেহেতু লিরিকস কখনোই দেখতাম না তাই শব্দের অপব্যবহার প্রচুর করতাম, অজান্তেই । প্রথম লাইনটা- যেমন “এইসা মওকা ফির কাঁহা মিলেগা।” এটা তো তাও হিন্দি, ভুল হওয়ার স্বাভাবিক ৮/৯ বছর বয়সে।
রবীন্দ্রসঙ্গীত ও গাইতাম বহু বছর ভুলভাল!“পোস্ত তোদের ডাক দিয়েছে আয়রে চলে আয়, বেলা যে তার ভরেছে আজ পাকা ফসলে, মরি হায় হায় হায়।” একদিন মাইকে বাজছে-"ও সাধের জামাই রে তুই কেন ভাতার হলি না”-আমিও গলা ছেড়ে না বুঝেই গাইছি। মা প্রচণ্ড বকা দিল! কেন দিল? বুঝলাম না।বহুদির পর “ভাতার” এর মানে জানতে পেরে বুঝলাম বকুনি খাওয়ার কারণ।
আরও একটা গান ভুলভাল গাইতাম “মৌরা বনের ফুলের নেশা মাতাল দক্ষিণ হাওয়া লো..(মহুয়া বনের ফুলের নেশা)।কিন্তু এ গানটা এখন খুঁজে পাচ্ছি না।
এর কিছুদিন পর আবার আশা ভোঁসলের সাথে গলা মিলিয়ে গাইছি- “বেশ করেছি প্রেম করেছি, করবইতো, রাধার মত মরতে হলে মরবইতো”! আবার মায়ের বকুনি।
এমন নয় এখনও এই ৬২ বছর বয়সেও সব ঠিক ঠাক লিরিকস দিয়ে গান করি, এই কদিন আগে প্রথম লিরিকস দেখলাম আরতী মুখার্জির গান - “এই মোম জ্যোছনায় অঙ্গ ভিজিয়ে এসোনা গল্প করি” ইত্যাদি - এ পর্যন্ত্য গাইতাম 'এ মন জ্যোছনায় অঙ্গ ভিজিয়ে” -যাই হোক ‘মোম জ্যোঝনা’ জানার পর আমার একটা কবিতার ব্যবহার করলাম ‘মোম জ্যোছনা' শব্দটা, কিছুদিন আগেই।
আমার এক শালীর মেয়ে নির্মল মনে কি সুন্দর গাইছিলো-
“আয় তবে সহচুরি
হাতে হাতে কুনোকুনি নাচিবে
গিরি গিরি অপপুরিকা,
আন তবে বিনা আ আ আ
তপন সুরে খাইতবি কাঁ…
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।