2004 " তুমি আমার পান্থপাদপ আমি তোমার অতিথশালা, হঠাৎ কেন মেঘ চেঁচালো দরজাটা কই মস্ত তালা"- "কথপকথন" পূর্ণেন্দু পত্রী। এখান থেকেই পেয়ে গেলাম আমার বাড়ীর নাম "পান্থপাদপ", বাড়ী কমপ্লিট হওয়ার আগেই নেমপ্লেট রেডী, ২৭শে ফেব্রুয়ারী গৃহপ্রবেশ হল। কলকাতার বুকে নিজের বাড়ী। ইনফ্যাক্ট কখন নিজের বাড়ী- হবে আশা করি নি। উপড়ওয়ালা আমাকে দু'হাত ভরে দিয়েছে, যা যা মনে মনে ভেবেছি সব পেয়েছি, দু'টো এখনও পেন্ডিং,যাই হোক তার জন্য আর মনস্তাপ নেই একটুও,একটি সুইৎজারল্যান্ড ভ্রমন, আর একটা পুঁচকে মার্সিডিস গাড়ী(বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত)।
রজনীকান্তর এই গানটা মনে হয় আমার জন্যই লেখা -"আমি অকৃতি অধম বলেও তো কম করে কিছু দাওনি, যা দিয়েছ তার অযোগ্য ভাবিয়া কেড়েও তো কিছু নাওনি।"
সৈনিক স্কুল ছাড়ার পর বরাহনগরে দিদির সময়কার নেওয়া ভাড়া বাড়িতে থাকতাম সেখান থেকে দিদির বাড়ী- দমদমে। এখানে থাকতে থাকতেই আবাসনে জমি কেনা, এক সময় বাড়ী করার খরচের কথা ভোব জমি বেচতে বসেছিলাম- ভাগিস বেচিনি!
দাদার এক বন্ধু দিদির বাড়ী-বানিয়েছিল,ওনাকে বলতে রাজী হলেন সব ভার মানে -সব রকম প্ল্যান করা,স্যাংশান করানো, ইট বালী, মিস্ত্রি যোগার সব।
তখন ভদ্রলোক খুব প্যাশানেট ছিলেন কিন্তু পরে তিনতলার ঘর করতে গিয়ে খুবই ইতরতা করলেন॥
ডিসেম্বারর মাঝামাঝি কাজ শুর হল, ভিত খুঁড়তে না খুঁড়তে শুরু হল উৎপাত। দিনে দশজন এসে হুমকি দেয় তাদের থেকে সব নিতে হবে, বালী,পাথর, এমন কি ভীত খোঁড়ার সাথে সাথে রঙকরার ঠিকাদার ও হাজির। সে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি, আমি দূর্বল চিত্তের লোক। খুব অসহায় বোধ করছিলাম, কিন্তু আমার ইঞ্জিনিয়ার সব সামলে আমার সহায়তা করলেন,ওনার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, উনি না থাকলে আমার গর্ব করার মত বাড়ী টি হতো না।
এখানে বাড়ি করার সময় এক চোরকে দিয়ে সবাই সবাই বাড়ী পাহাড়ার জন্য রাখতো, না হলে ইট, রড, সিমেন্ট সব হাওয়া হয়ে যাবে। উনি আবার বিশেষজ্ঞ ছিলেন পাম্প চুরি করায়।আমি তাকে বহাল না করাতে অনেক উৎপাত করে বাড়ী-করার সমর গ্রীল ভেঙে চুরি ও করতে গেছিল, পারেনি।
বাড়ী তৈরী শুরু হতেই আমার সুখের যাত্রী নিবাসের সিফটিং চাকরি শেষ করে রাজধানীতে প্পোস্টির হল,মানে তিন দিন পর বাড়ী আসা, মাথায় হাত ।
আমার সৌভাগ্য ইঞ্জিনিয়র সাহের আমাকে সর্বত ভাবে সাহায্য করে দিলেন, ভোর রাতে স্কুটারে কোৎরঙ থেকে ইট কিনতে যাওয়া, পাথর কিনতে যাওয়া, পাড়ার সিন্ডিকেটের মস্তানদের সাথে বসে সমাধান সূত্র বেড় করা সব। দেখতে দেখতে প্রায় চোদ্দ মাসের মধ্যে একটা দুর্দান্ত এক্সপোসড ব্রিকের বাড়ী রেডি, বড় বড় কঁচের জানালা, দরজা, বড় ঝুল বারান্দা, ছাদে গাছের জন্য প্লান্টিক পট। তিন ধাপের চিলেকোঠার ছাদ, বিকেলে পা ঝুলিয়ে বসার জন্য উপযুক্ত,সুন্দর জলের ট্যাঙ্ক। একটি বাচ্চা বলেছিন "চাকা লাগিয়ে নিয়ে চলে যাবে" বাড়িটা এত সুন্দর। এই বড়িটা হওয়ার পিছনে আমার দিদিদের অবদান অনস্বীকার্য ॥

মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।