বিনির বয়স সবে যৌবনে পা দিয়েছে। গাছগাছালি তার সুরে দোল খায়, বাতাসের ঢেউয়ে ধান শুয়ে যায়। ইস! বড্ড সাহিত্যিক প্রকৃতি! বিনি ওসব সাহিত্য আর দোল খাওয়া বোঝে সোঝে না! যা বোঝে তা হয়তো আজকালকার যুগের আল্ট্রামর্ডান মেয়েরা বোঝেনা!
এক 'মা' ই বুঝে, যা তার পৃথিবীর শুরু থেকে চোখ জুড়ানোর শেষ মুহূর্ত অব্দী আছে!.. অমানুষ লোভী বাবা ছিলো তার যখন সে এই দোলখাওয়া দুনিয়ার কোন অস্তিত্বেই ছিলোনা! প্রচণ্ডরকমের ভালোবাসা নিয়ে বাবার কাছে নিজের সহায় সম্পত্তি, এমনকি নিজেকেও উজাড় করে দিয়েছিলেন নিজের দালান ছেড়ে। হায় ভাগ্য! সুখ কই পায়? মায়ের পৃথিবীর সব মানুষকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে আর পেটে একটা শিশুর ফসল লাগিয়ে উধাও!
পাথর হয়ে বিনিকে বড় করেছেন.. দাঁতে দাঁত চেপে বছরের পর বছর পার করেছেন..
এতো কিছুর পর নগরজীবনের ফিরে যাবার মতো মন মানসিকতা আর আঁকড়ে ধরতে পারেনি।গ্রাম্য পরিবেশে থেকে শহরের সব জটিলতা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছেন।
স্কুলে লেখাপড়া করানোর মতো সামর্থ্য তার মায়ের নেই। পুরো পাড়া জুড়ে ঘুরে বেড়ানো আর সারা বাড়িতে হইহুল্লা করা বিনি। প্রতিনিয়ত এর মত সেদিনও পাড়ায় মাতিয়ে চলছিলো, তবে বিধাতার লেখন খণ্ডন করার উপায় কী? পাড়ার ঐ বখাটে সেদিন বিনির জামা টেনে ছিঁড়ে ফেলে,আর একটু হলে অঘটন ঘটতে দেরি হতোনা আর সমাজবাসীর সামনে ছিঃ ছিঃ শুনলো বিনি।.. এই কি সমাজ??? এই কি দুনিয়া?? এই কি নীতি??
সেদিন ধাক্কা মেরে চলে এসেছিলো সে।
মায়ের আঁচলে মুখ ঢেকে খুব কেঁদেছিলো, আর মা নিস্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলো।.. এই কি তবে নারীসমাজের পরিণতি??..
মাসেক গেল, পাড়ার চেয়ারম্যানের নজর এবার বিনির দিকে।লম্বা চওড়া মেয়েটাকে বউ বানালে খারাপ হবেনা! আজ ৬৩ বছর বয়সে এসে চন্দন বড়ুয়া এই অব্দী ৩ টা বিয়ে করা শেষ! চোখ পড়েছে, তো সরেনা। ক্ষতি কি বিনির মত একটা সুন্দরী মেয়েকে পেতে? এ বাসনা ততদিন রবে যতদিন বিয়ে না হবে। জোর করে বিয়ের আসরে বিনির নিলাম!
মা খামছে পড়ছে,বিনি আকুতি মিনতি করছে। ঐ পিশাচের বরফ মন পানি হয়না!
কী হয়েছিলো বিনির মায়ের জানা নেই,শরীরের প্রতি রগে আগুন জ্বলে উঠলো। কোথা থেকে এক বিশাল দা এনে বিয়ের আসরেই কোপ!
"আজো এভাবে কাটিয়ে দিবো যেভাবে কাটিয়ে ছিলাম ১৯ বছর আগে??? ওরে তোরা কবে মানুষ হবি??? কবে তোদের লোভাতুর জীভ নিষ্পাপ মেয়েদের থেকে সরে যাবে?? এই তোর পরিণতি!! এই তোদের পরিণতি!! "..........
এতো বছরের কষ্ট,রাগ, ক্ষোভ সব ঐ কোপে মিটিয়ে দিয়েছিলো..নিজের সময় সহ্য করেছে।তাই বলে আর না।.. আর কত??
কত এদের ঠাঁই দেয়া হবে?? কতবার এরা নারীদের পুরুষহীন জীবন তুচ্ছ ভেবে জীবনটা রক্তাক্ত করবে??......
মন্তব্য (6)