পৃথিবীর বয়স বাড়ছে—
কিন্তু আমার কাছে সময়ের সবচেয়ে দৃশ্যমান ঘড়িটি
দেয়ালে নয়, আম্মার মুখে ঝুলে আছে।

চোখের সামনে তার মুখ থেকে
আলো কমে আসে প্রতিদিন;
সাদা চুল গুলো যেন ক্যালেন্ডার নয়,
আমার ব্যক্তিগত ঋণের একেকটি তারিখ।

মায়ের জন্য কত জীবনই তো বাকি রেখেছি—
একদিন সময় দেব,
একদিন নিয়ে যাব দূরের কোনো শহরে,
তার পছন্দের কিছু কিনব,
তার ক্লান্ত পায়ের কাছে
নিজের সমস্ত ব্যস্ততা নামিয়ে রাখব।

অথচ সময় কোনো প্রতিশ্রুতির সাক্ষী নয়;
সে শুধু মানুষকে বড় করে
তার প্রিয় মানুষটির ছোট হয়ে যাওয়ার সামনে।

শৈশবে ভাবতাম,
মা আমার পৃথিবীর ভেতর থাকা একজন মানুষ;
এখন বুঝি—
আমার পৃথিবীটাই আসলে মায়ের বয়সের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল।

তাই আম্মার কাঁপা হাত দেখলে
নিজের ভবিষ্যৎ নয়,
নিজের অতীতকে ভেঙে পড়তে দেখি।

মায়ের বার্ধক্য পৃথিবীর স্বাভাবিক নিয়ম—
তবু সন্তানের কাছে
এটাই সম্ভবত প্রকৃতির সবচেয়ে ব্যক্তিগত নিষ্ঠুরতা।