“ক্লান্তিতে চোখ আবছা হয়ে আসছে রাত প্রায় ১০ টা বাজে ঘুমের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি এমন সময় কোথা থেকে যেন একটা পরিচিত কন্ঠ!
-কীরে কী করছ?
-কে?
-আমি দেবী।
-ওওহ, কী দরকার বল?
-আজকে ঐ মেয়েটার দিকে এভাবে তাকিয়ে ছিলি কেন? এটা কী কোন ভালো মানুষের কাজ নাকী?
-আমি তাকালেই দোষ আর তুই যে আমার পেছনে লেগে আছিস এইটা বুঝি ভালো কাজ?
-তুই জানস এই মেয়ে টা ভালো না এবং খুবই খারাপ।
-দূর দূূর, তুই শুধুই আমার মস্তিষ্কের চিন্তা দিয়ে তৈরি তাই আমি তরে বিশ্বাস করি না।
-পেছনে দেখ।
-আরে স্বরবিন্দু ও যে চলে এসেছে এখন দুজন মিলে যন্ত্রণা দিবে।
-চুপ বেয়াদপ, আমরা এখন চলে যাচ্ছি আবার আসবো।
-আচ্ছা, যা যা।
“আমার প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করছে তারই সাথে নিজেকে আবিষ্কার করলাম রাত পার হয়ে সকাল ৯ টা ২১ বাজে। তারতারি গোসল করে কলেজ এর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। কী আশ্চার্য মেয়েটি আজকে আমাদের ক্যামপাসে এসেছে! আমি আগ্রহের বসে বলে ফেললাম, -এই মেয়ে তোমার নাম কী?
-আলবিদা।
-বাহ্, সুন্দর নাম তো।
-ধন্যবাদ।
-আচ্ছা, তোমারে আগে দেখি নাই নতুন নাকি?
-হুম, আমি ফ্রেশার। আচ্ছা আপনি কে?
-আমি কে এটা কী বলতেই হবে?
-হুম বলেন?
-আমার নাম বোকা চন্দ্র।
“মেয়েটি অট্র হাসি দিয়ে বললো এটা আবার কোন নাম হলো নাকী? ভালো নাম বলেন।
-হুম, এটা আমার ছদ্মনাম।
-আমি ভালো নাম বলতে বলছি।
-আজকে তো বলা জাবে না, পরে একদিন বলবো।
-আপনি ভারি আজব লোক তো! পরে বলবেন মানে, আবার কবে দেখা হচ্ছে আমাদের?
-জানি না।
-তাহলে যে বললেন আবার দেখা হলে বলবেন?
-দেখী আবার কবে দেখা হয়।
-আপনারও কিন্তু একটা ছদ্মনাম রাখতে পারে।
-কেমন ছদ্মনাম নাম?
-যেমন ধরেন এলিয়েন।
-What রাবিশ! এটা কোন নাম হলো নাকী?
-জানি না মন চাইলো তাই বললাম।
-আচ্ছা আপনার কাছে কী লাইটার আছে?
-কী ভয়ানক! আপনি সিগারেট খান নাকি?
-কেন সিগারেট কী শুধু ছেলেরাই খেতে পারবে মেয়েরা পারবে না এটা কী বৈষম্য হলো না?
-জানি না আমি হতে পারে । তবে আমি আপনাকে লাইটার দিব না কারণ কোন মেয়ে আমার সামনে সিগারেট খাবে এটা দেখতে আমার বিশ্রি লাগবে।
-তাহলে তো আপনিও বৈষম্য করলেন এখন আপনাকে কী করা উচিৎ?
-যা খুশি করেন কিন্তু আমি দিব না।
-দূর মিয়া, আমি সিগারেট খাই না।
-তাহলে লাইটার কেন চাইলেন?
-আপনি আসলেই একটা বোকা চন্দ্র। আরে আমার ব্যাগের শুতা ছুটে গেছে লাইটার দিয়ে পুরিয়ে ঠিক করবো।
-ওওহ আচ্ছা, আমি আমার পানজাবির পকেট থেকে লাইটার টা বের করে তার দিকে এগিয়ে দিলাম।
“মেয়েটা লাইটার দিয়ে ব্যাগ এর ছেড়া শুতা পুরছে আর বিরবির করে কী যেন বলছে।
-আচ্ছা, লাইটার টা দেন আমি চলে যাই।
-আপনার লাইটার টা তো অনেক সুন্দর আছে, কালোর মধ্যে ডিজাইন করা লাইটার এই প্রথম দেখলাম।
-তাহলে আপনার কাছেই রেখে দেন।
-কেন আপনা লাগবে না।
-না, রাখেন আমার কাছে আরো আছে।
“আমরা কথার তালে হাটতে হাটতে প্রায় অনেক দূর চলে এসেছি। মেয়েটি আমার হতে একটা কাগজ দিয়ে বললো,
-আমাদের তাহলে আবার দেখা হচ্ছে?
-জানি না তবে আশা রাখি আবার দেখা হবে।
“আমি পানজাবির পকেট থেকে সিগারেট বের করে পাশের দোকান থেকে জালিয়ে হাটতে হাটতে চলে আসি। বাসায় আসার পর আমার প্রচন্ড মাথা ব্যাথা ও ঘুম পাচ্ছিল।
আমি খাতা নিয়ে লিখতে বসলাম -

“আশ্চার্য এক সুন্দরী, সন্দেহ প্রবোল চোখ,
আমার মনে ভারি সন্দেহ,
কে তুমি মেয়ে আলবিদা ?
মস্তিষ্কে অনেক প্রশ্ন,
বলো হে বলো, তুমি কী সত্যি কোন মানব ?”

উৎসর্গ - হঠাৎ পরিচয় হওয়া প্রিয় আলবিদা |

বিদ্র : এখানে আমার আংশিক লেখা কিছু প্রকাশ করা হলো। আশা রাখি আশা রাখি বেঁচে থাকলে সম্পূর্ণ লিখবো ||