১)

আজ থেকে আরও দশক আগে
তুমি এসেছিলে....  
এসেছিলে
পাগল হাওয়ার মতোই  ,

তখন বন্যর বেশে

ছুটছিলাম....
হৃদয়ে রক্তবীজের মহামন্ত্র
সপে......

আত্মগ্লানি ও অনুশোচনার পরাধীনতায়
পা না গলিয়ে
শরীরের তীব্র দহনে
ছুটছিলাম বনে বনে ,

আগাছা পেরিয়ে
আশ্রয়ের খোঁজে ছুট........
অবশেষ
নরখাদক হয়ে ক্ষুধার আহবানে ,

ভীত... সন্ত্রস্ত সব ;
একাকী এক পশু এই জঙ্গলে.......

হঠাত এক হাওয়া...
বন জুড়ে  ,

একরাশ বৃষ্টি কোত্থেকে
ভাসাল সমস্ত বন.....


২)

ভীষণ ঠান্ডা লাগতে শুরু করল.......
আর শান্ত হল সব প্রকৃতি,


অনুভূতিগুলো সব পাগল
হল...
আর প্রথমবার ... হৃদয়
অনুভব করতে পারল .....

অনুভব করল শ্লেষ ছাড়া
অনেক কিছু ,

কী করে পোষ মানালে... বশ করলে
এই বন্য... সেই পশুটাকে....
কোন জীয়নকাঠির জাদুস্পর্শে  !!

আমি মানুষ হলাম ,

তোমার মুক্ত প্রাঙ্গণে ফিরছিলাম
ভিক্ষার ঝুলি হাতে....
খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম একটুকরো হৃদয়ের
একটু ভালোবাসা ,

যখন জ্বালালে প্রেমের বাণী
এই মন জুড়ে....
সব মুহূর্তরা স্তব্ধ
হয়েছিল...

আর
আমি তখন পূর্ণ  হলাম ,

৩)

তারপর ক্রমশ
একটা অ্যাসিড বৃষ্টি........
আর সব অশরীরী সমাহার
আস্তে আস্তে ..... সেই প্রাঙ্গণে ,


অশরীরীর পৃথিবীতে সারি সারি.........
লাশের সারি পেরিয়ে
মৃত শালিকের পালক পেরিয়ে
খুঁজে বেড়ানো........

আরও দিশেহারা হয়ে.......
আবার পশু হলাম....

বন্যতা তো আমার রক্তে.......
নিস্ক্রমন নেই ,

তবু এক গোপন অলিন্দে.......
এক ঈশান কোণে বেজে চলেছে

“সেদিন  দুজনে....”

অনবরত ।



http://www.bangla-kobita.com/insignia/poem20130708121823/